টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়ের কাছে ধরাশায়ী বাংলাদেশ
ইয়াসির আলির ক্যারিয়ারসেরা হাফ-সেঞ্চুরি এবং নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পেল না বাংলাদেশ। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩২ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ৩৭ রান। মারুমানিকে (১৪) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। তবে অন্য প্রান্তে বেনেট আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৩০ বলে ৪৪ রানের একটি লক্ষ্যভেদী ইনিংস খেলে তিনিও রানার শিকার হন। এরপর মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের জোড়া আঘাতে ডিওন মায়ার্স ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ১৮তম ওভারে মিল্টন শুম্বা ও তাশিঙ্গা মুসেকিওয়াকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেন নাহিদ রানা। তবে শেষ দিকে রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্সের অবিচ্ছিন্ন ৩১ রানের জুটি জিম্বাবুয়েকে ১৭০ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। বার্ল ২৫ বলে ৩০ রান এবং ইভান্স ১০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। নাহিদ রানা তার প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেও শেষ ওভারে ইভান্সের মারমুখী ব্যাটিংয়ের কারণে ১৮ রান খরচ করেন। শেষ পর্যন্ত রানা টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার ৪-২৬ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। সাইফুদ্দিন নেন ৩৫ রানে ২ উইকেট। রান তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয় ১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম যোগ করেন ২৫ রান। তবে রিচার্ড এনগারাভার জোড়া আঘাতে হঠাৎই খেই হারিয়ে ফেলে দল। সাইফ ১২ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন এবং তানজিদ ৮ বলে ১৬ রান করে এনগারাভার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন মাত্র ৫ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে আউট হলে ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন প্রায় তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা ইয়াসির আলি। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ৩৯ রানের একটি জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু দলীয় ৭৩ রানের মাথায় হৃদয় (১৪) মিল্টন শুম্বার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। নুরুল হাসান সোহানও (৩) রান আউটের শিকার হলে বাংলাদেশ কঠিন চাপে পড়ে যায়। ইয়াসিরের প্রতিরোধ ও নাটকীয় ধস এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়ে যান ইয়াসির আলি। ৩৩ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেখ মাহেদী হাসানের সঙ্গে ৫২ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন ইয়াসির। কিন্তু ১৭তম ওভারে মাহেদীকে (১৯) মুজারাবানি ফিরিয়ে দিলে এই জুটি ভেঙে যায়। পরের ওভারে ইয়াসিরের প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। এনগারাভার বলে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেওয়ার আগে ইয়াসির খেলেন তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ৫৪ রানের (৩৮ বল, ২টি চার ও ৩টি ছক্কা) ইনিংসটি। ইয়াসিরের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে তাসের ঘরের মতো ধস নামে। শেষ ৫টি উইকেট বাংলাদেশ হারায় মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে। ফলে ১৯ ওভারে ১৩৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পক্ষে বল হাতে রিচার্ড এনগারাভা ২৬ রানে ৪টি এবং ব্লেসিং মুজারাবানি মাত্র ১৭ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করে দেন।
