ফ্রান্স-স্পেন মহাদ্বৈরথ: রেকর্ড আর রোমাঞ্চের সেমিফাইনাল

১৫ জুলাই, ২০২৬ | ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

ফ্রান্স বনাম স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপের প্রথম হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ মধ্যরাত পেরিয়ে বুধবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়)। কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্সের গতিময় আক্রমণভাগের সঙ্গে লড়াই হবে কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকা স্পেন দলের। ম্যাচটির আগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও তথ্য নিচে তুলে করা হলো: ম্যাচ হাইলাইটস ও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস: বিশ্বকাপে এটি ফ্রান্স ও স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় দেখা। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে তাদের দেখা হয়েছিল। সেবার ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ২ গোল দিয়ে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। দিদিয়ে দেশমের রেকর্ড: ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম কোচ হিসেবে তাঁর ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির হেলমুট শোনকে ছাড়িয়ে এককভাবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়বেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অপরাজেয় যাত্রা: স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে টানা ১৩টি ম্যাচে অপরাজিত আছেন (১২ জয়, ১ ড্র)। কোনো কোচের জন্য এটিই সর্বোচ্চ। টানা তিন ফাইনালের সামনে ফ্রান্স: জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার রেকডোর্‌ সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স। এর আগে জার্মানি ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে এবং ব্রাজিল ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে এই কীর্তি গড়েছিল। মেজর টুর্নামেন্টে স্পেনের আধিপত্য: ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মেজর টুর্নামেন্টগুলোতে খেলা ২৭টি ম্যাচের মধ্যে স্পেন মাত্র ১টিতে হেরেছে (১৬ জয়, ১০ ড্র)। টাইব্রেকার বাদে তাদের একমাত্র হারটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের সঙ্গে (২-১ ব্যবধানে)। সেমিফাইনালে ফ্রান্স: বিশ্বকাপের শেষ চারে এটি ফ্রান্সের ৮ম উপস্থিতি। তাদের চেয়ে বেশিবার সেমিফাইনালে উঠেছে কেবল জার্মানি (১২ বার)। এমবাপের গোল ও রেকর্ড: চলতি বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপে এ পর্যন্ত ৮টি গোল করেছেন, যা তাঁকে লিওনেল মেসি’র সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান অবস্থানে রেখেছে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর সর্বমোট গোল সংখ্যা এখন ১২টি, যা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। তিনি রাউন্ড অব ৩২-এ ২টি, রাউন্ড অব ১৬-এ ৫টি, কোয়ার্টার ফাইনালে ১টি এবং ফাইনালে ৪টি গোল করলেও এর আগের দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি। এমবাপে-দেম্বেলে জুটি: এমবাপে শুধু গোলই করছেন না, সুযোগও তৈরি করছেন। তিনি ও উসমান দেম্বেলে একে অপরের জন্য মোট ১৯টি সুযোগ তৈরি করেছেন (এমবাপে দেম্বেলেকে ১০টি এবং দেম্বেলে এমবাপেকে ৯টি), যা যেকোনো জুটির জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মিকেল মেরিনোর রেকর্ড: মিকেল মেরিনো বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বদলি হিসেবে নেমে নকআউটের দুটি ম্যাচে জয়সূচক গোল করেছেন। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে তাঁর দেওয়া গোলের ওপর ভর করেই সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। সেমিফাইনালে স্পেনের ভাগ্য: মেজর টুর্নামেন্টগুলোতে এর আগে ৭১ বার সেমিফাইনালে খেলে স্পেন মাত্র একবারই বাদ পড়েছে। ইউরো ২০২০-এর সেমিফাইনালে ইতালির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। লামিন ইয়ামালের প্রিয় প্রতিপক্ষ: স্পেনের হয়ে লামিন ইয়ামালের করা ৭টি গোলের মধ্যে ৩টিই এসেছে ফ্রান্সের বিপক্ষে (২ ম্যাচে)। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে দূরপাল্লার শটে গোল করে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এরপর ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৫-৪ ব্যবধানের জয়েও জোড়া গোল করেন তিনি। কোচদের বক্তব্য স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে: ‘আমরাই একমাত্র দল যারা তাদের পরপর দুবার হারিয়েছি, তবে এই তৃতীয় ম্যাচটি সম্পূর্ণ আলাদা হবে। দুটি অত্যন্ত উচ্চমানের দল এখানে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।’ ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশম: ‘২০১৮ ও ২০২২ সালের তুলনায় এবার কী বদলেছে? ২০১৮ সালে কেউ আমাদের সফল হওয়ার আশা করেনি। ২০২২ সালে আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ছিলাম এবং প্রায়শই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা শেষ ১৬ থেকেই বাদ পড়ে যায়। আর এবার, টুর্নামেন্টের প্রথম বল মাঠে গড়ানোর আগে থেকেই সবাই আমাদের ট্রফি জয়ের প্রত্যাশা করছে।’ সেমিফাইনালের পথ দুই দলের সেমিফাইনালে ওঠার যাত্রাটি ছিল নিম্নরূপ: স্পেনের যাত্রা গ্রুপ পর্ব: বনাম কেপ ভার্দে (০ – ০) বনাম সৌদি আরব (৪ – ০) বনাম উরুগুয়ে (১ – ০) রাউন্ড অব ৩২: বনাম অস্ট্রিয়া (৩ – ০) রাউন্ড অব ১৬: বনাম পর্তুগাল (১ – ০) কোয়ার্টার ফাইনাল: বনাম বেলজিয়াম (২ – ১) ফ্রান্সের যাত্রা গ্রুপ পর্ব: বনাম সেনেগাল (৩ – ১) বনাম ইরাক (৩ – ০) বনাম নরওয়ে (৪ – ১) রাউন্ড অব ৩২: বনাম সুইডেন (৩ – ০) রাউন্ড অব ১৬: বনাম প্যারাগুয়ে (১ – ০) কোয়ার্টার ফাইনাল: বনাম মরক্কো (২ – ০)