বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশে ভরি কত?
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭২ দশমিক ৪৯ ডলারে। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮১ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। এর ফলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে এবং বন্ডের ফলন বাড়ছে, যা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বাজারে তারল্য কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো স্বর্ণের দামে আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। এদিকে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৬৩ শতাংশ। শুধু স্বর্ণ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৮৭ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২২ দশমিক ৭২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৬৭ দশমিক ৪৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এদিকে দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।
