“আজকের এই ককটেল বিষ্ফোরণ, বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহযোগিতায় হয়েছে”- নাহিদ ইসলাম

৮ জুলাই, ২০২৬ | ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র “জুলাই পদযাত্রা” কর্মসূচির পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার থানা রোডের তারাপুর মাঠে (থানা স্ট্যান্ডসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠ) পদযাত্রা শেষে আয়োজিত পথসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, তখন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুর্বৃত্তরা এই বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের পরপরই সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এক শহীদের বাবা শাহীন, জসিম এবং শাহাদাৎ। আহত শাহীনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাহিদ ইসলামের প্রতিক্রিয়া ঘটনার পরপরই প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এই বিস্ফোরণের দায় প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এড়িয়ে যেতে পারেন না। তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, রাত ৯টা ২৫ মিনিটে পথসভাস্থলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়, যা নিয়ে তিনি কড়া সমালোচনা করেন। অর্থাৎ প্রশাসনিক-প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের হামলা সংঘটিত হতে পারে না বলেই তার বক্তব্যের সুর ছিল। হামলার ভিডিও হাসনাত আবদুল্লাহর কড়া প্রতিক্রিয়া সাভারে এনসিপির পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, হামলা চালিয়ে জুলাইয়ের চেতনাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের সূত্র ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ করে বলেন, পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তারেক রহমানের নামও উল্লেখ করে সতর্ক করে দেন যে, রক্ত নিয়ে খেলা হলে তার জবাব রক্ত দিয়েই দেওয়া হবে। প্রতিবাদ ও থানা ঘেরাও বিস্ফোরণের প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও সারজিস আলমসহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাভার মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন ও সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের বক্তব্য ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারা এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত হয়নি এবং স্বতন্ত্রভাবে নাহিদ ইসলামের অভিযোগ যাচাই করাও সম্ভব হয়নি — এটি এখন পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে করা একটি অভিযোগ হিসেবেই থাকছে।