শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপির হজম করা কঠিন হবে, অকল্পনীয় অনেক ব্যাপার ঘটতে পারে: সাবির মুস্তাফা

৩ জুলাই, ২০২৬ | ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

বাংলাদেশের আগামী দিনের ক্ষমতার রাজনীতি, রাজপথের নিয়ন্ত্রণ এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে, তা নিয়ে পূর্বাভাস দিলেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান ও প্রবীণ সাংবাদিক সাবির মুস্তাফা। একটি ভার্চুয়াল টকশোতে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তবে সেই পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা বা হজম করা মাঠের প্রধান দল বিএনপির জন্য চরম কঠিন হয়ে দাঁড়াবে; এমনকি এর ফলে দেশের ভেতরে ‘অকল্পনীয় অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে’। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত এবং বাংলাদেশের অন্তরালের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এই প্রবীণ বিশ্লেষকের মুখ থেকে এমন মন্তব্য আসার পর খোদ বিএনপির নীতি-নির্ধারণী মহল থেকে শুরু করে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ নড়েচড়ে বসেছে। আলোচনায় এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মনে করিয়ে দেন যে, দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা এবং জনমনে তৈরি হওয়া এক ধরণের সুপ্ত অসন্তোষকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ যেভাবে পরিকল্পনা করে রাজপথে রাজনৈতিক পুনরুত্থানের ছক কষছে, তা যদি বাস্তবে রূপ নেয় তবে বাংলাদেশের চেনা রাজনৈতিক মানচিত্র এক লহমায় ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে। আলোচনায় সাবির মুস্তাফা শুধু শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনই নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের গতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির তৈরি হওয়া চরম অধৈর্য্য অবস্থার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি যেভাবে একচ্ছত্রভাবে মাঠ ও ক্ষমতার অলিন্দ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, সেখানে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দলটির অস্তিত্ব ও রাজনৈতিক কৌশলকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করে তুলবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সাবির মুস্তাফার এই বক্তব্যকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন; কারণ প্রায় দুই বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশকে যখন আইনি ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে, তখন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন মানে মাঠপর্যায়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। যা সামাল দেওয়া বর্তমান ভঙ্গুর রাষ্ট্রযন্ত্র এবং বিএনপির রাজপথের শক্তির পক্ষে হজম করা অসম্ভব হয়ে উঠবে। এই অকল্পনীয় পরিস্থিতি দেশের বর্তমান রাজনীতিকে ওলট-পালট করে দিতে পারে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ জোরদার হতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে এই প্রবীণ সাংবাদিক ইঙ্গিত দিয়েছেন।