মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত দাবি পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের

১ জুলাই, ২০২৬ | ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ (পিএইচআরসি)। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, কো-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ এম এম মিজানুর রহমান এ দাবি জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আসছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটি অভিযোগ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে মব সহিংসতার মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষককে চাকরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং শিল্পী-সাহিত্যিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানি ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল এবং তাঁর প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরত চাওয়ার সিদ্ধান্ত একজন খ্যাতিমান চিকিৎসকের মর্যাদার পরিপন্থী। সংগঠনটি দাবি করে, প্রচলিত নিয়মে হামের টিকা আমদানি না করায় দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭০০-র বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া গত ২২ জুন তুরাগ থানা এলাকায় সাতজন রাজনৈতিক কর্মী নিখোঁজ ও হত্যার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ব্যাখ্যা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ বলেছে, সারাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাহত করে মব সংস্কৃতির বিস্তার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার উল্লিখিত ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।