মো-সা-দ এজেন্ট’ বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল সুপ্রিম কোর্টে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ফলাফল নিয়ে চলমান সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। বহুল আলোচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তাঁর আর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই রায় প্রদান করেন। যে কারণে বাতিল হলো প্রার্থিতা আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর এই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাঁর নির্বাচনী আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং ব্যাংক এশিয়া ও যমুনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগ পর্যন্ত লড়াই চালায়। সর্বোচ্চ আদালত আজ ওই আপিল মঞ্জুর করে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের পূর্ব নির্দেশনানুযায়ী এই আসনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছিল। আজকের চূড়ান্ত রায়ের পর তাঁর ক্ষেত্রে আর কোনো নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা হবে না এবং নির্বাচন কমিশন এই আসনে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি বা নির্বাচনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যে কারণে ‘মো-সা-দ’ বিতর্কে আসলাম আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের এই রায়ের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর পুরনো সেই ‘ই/স/রা/য়ে/লি কানেকশন’ বা ‘মো-সা-দ’ বিতর্ক। ২০১৬ সালের মে মাসে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা ও মেন্দি এন সাফাদি সেন্টারের প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সরকারের অভিযোগ ছিল, ই/স/রা/য়ে/লি গোয়েন্দা সংস্থা মো-সা-দে-র এজেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে আসলাম চৌধুরী রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ওই বছরের ১৫ মে তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। যদিও আসলাম চৌধুরী ও তাঁর দল বিএনপির দাবি ছিল— সেটি কোনো পরিকল্পিত রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না, বরং একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে গিয়ে কাকতালীয়ভাবে সেই ই/স/রা/য়ে/লি নেতার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি মুক্ত হলেও এবং এবারের নির্বাচনে অংশ নিলেও, ঋণখেলাপির পুরনো জালে আটকে শেষ পর্যন্ত সংসদের চৌকাঠ আর মাড়ানো হলো না এই আলোচিত বিএনপি নেতার।
