বিশ্বজুড়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে শেখ হাসিনা: “এ বছরই দেশে ফিরব”
রয়টার্স, এএফপি থেকে শুরু করে দক্ষিণ চীন সাগরের পাড় পর্যন্ত, জাপান থেকে ব্রাজিল—বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের ৯১টি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম একই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে: বাংলাদেশের নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরই দেশে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী বলেন, “প্রতিটি বাধা ও প্রতিটি ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছর আমার দেশে ফিরব—এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই।” মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই কথা বলেন। বিশ্বমিডিয়ার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা এটি কেবল একটি সাক্ষাৎকার নয়—এটি একটি ঐতিহাসিক বিবৃতি, যা বিশ্বের শীর্ষ সংবাদসংস্থা ও পত্রিকাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। রয়টার্স (যুক্তরাজ্য) জানায়, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেই থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি, শুধু জানুয়ারিতে নতুন দিল্লির একটি প্রেস ক্লাবে ভাষণ দিয়েছিলেন। রয়টার্স আরও জানায়, তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা এই প্রথম—এর আগে তিনি কখনো প্রত্যাবর্তনের কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। এএফপি (ফ্রান্স) তাঁর বক্তব্যের যে অংশ সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করেছে, তাতে শেখ হাসিনা বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায়টি “একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ।” তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে… জনগণের ভোটে আমি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি এবং দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নে কাজ করেছি।” মৃত্যুভয় নেই, ফেরার সংকল্প অটুট সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা ও পরিবারের প্রায় সকলকে হারিয়েছি। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রের জাল ভেঙে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই: প্রতিটি বাধা আর প্রতিটি ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফিরব।” তাঁর এই ফেরার উদ্দেশ্য সম্পর্কে রয়টার্স জানায়, শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর প্রত্যাবর্তন ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। আওয়ামী লীগ নিয়ে বার্তা দলের নিষেধাজ্ঞা ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়—এটি বাংলার মাটিতে, বাংলার মানুষের মধ্যে, বাংলার ইতিহাসে এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের মধ্যে গেড়ে বসা একটি রাজনৈতিক শক্তি।” তিনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের জন্য নয়—এটি অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতি। ৯১টি বিশ্ব সংবাদমাধ্যম একই সুরে এই সংবাদ প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের তালিকা বলে দেয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার গুরুত্ব কতটা গভীর। ব্রিটেন থেকে রয়টার্স, ইয়াহু নিউজ ও নিউজকর্ড; যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউএস নিউজ, এলএ পোস্ট ও এওএল; জাপান থেকে নিক্কেই এশিয়া; সিঙ্গাপুর থেকে স্ট্রেটস টাইমস ও চ্যানেল নিউজ এশিয়া; মধ্যপ্রাচ্য থেকে আল আরাবিয়া, গালফ নিউজ, খালিজ টাইমস, আরব নিউজ; পাকিস্তান থেকে ডন, মিন্ট ও ডেইলি টাইমস; মালয়েশিয়া থেকে মালে মেইল ও দ্য সান; ভারত থেকে হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া সহ দুই ডজনেরও বেশি পত্রিকা—এই বিশাল তালিকা নিজেই একটি বার্তা দেয়। গত নভেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। বাংলাদেশ বারবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি করলেও ভারত এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি।
