রাবির হলের শূন্য সিটে ওরা কারা? ছাত্রদল পরিচয় দিলেও সভাপতির সন্দেহ ‘শিবির’
কক্ষ নম্বর ১১৯, ২৮৩ আর ৪৪৩—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এই তিনটি কক্ষে জ্বলছে আলো, রয়েছে বিছানাপত্রও। কিন্তু হল কর্তৃপক্ষের নথিতে এই সিটগুলো এখনো ‘খালি’! তাহলে সেখানে থাকছেন কারা? অনুসন্ধানে জানা গেছে, হলের কোনো বৈধ আবাসিক কার্ড না থাকা সত্ত্বেও বুক ফুলিয়ে হলে অবস্থান করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন সক্রিয় কর্মী। হল কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে (কিংবা অন্য কোনো ইশারায়) তাদের এই ‘অবৈধ’ রাজত্ব এখন ক্যাম্পাসের টক অব দ্য টাউন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত তিনজনই শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকেন। তারা হলেন: লতিফুর রহমান: ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)। থাকছেন ২৮৩ নম্বর কক্ষে। মজার ব্যাপার হলো, তার প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাটাচমেন্ট শহীদ হবিবুর রহমান হলে হলেও তিনি ঘাঁটি গেড়েছেন সোহরাওয়ার্দী হলে! এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কর্তৃক জামালপুর-২ আসনে ধানের শিষের প্রচারণার দায়িত্বও পেয়েছিলেন তিনি। আছেন, আরিফ শাহরিয়ার। তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ)। অবস্থান করছেন ৪৪৩ নম্বর কক্ষে। আরও আছেন নাহিদুল ইসলাম। তিনি পড়েন ফার্মেসি বিভাগে (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ)। তার আস্তানা ১১৯ নম্বর কক্ষে। ‘আপনি কে? দেখা করেন!’— সাংবাদিকদের ধমক ও বিচিত্র অজুহাত কার্ড ছাড়া হলে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে মিলেছে বিচিত্র সব প্রতিক্রিয়া। ফার্মেসি বিভাগের নাহিদুল ইসলাম উল্টো সাংবাদিককেই ধমকের সুরে বলেন,”আপনি আমার সাথে দেখা করেন। আমার হলের কার্ড আছে কি না আমি আপনাকে বলব কেন? আপনি কে? আপনি কোথাকার সাংবাদিক, আপনি আসেন আমার কাছে দেখা করেন।” অন্যদিকে, আরিফ শাহরিয়ারের দাবি তিনি ‘বড় ভাইয়ের’ সিটে থাকছেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় নন। আর লতিফুর রহমানের অজুহাত—মেস পরিবর্তনের ঝামেলায় পড়ে সাময়িকভাবে এক বড় ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে ১৫-২০ দিন ধরে কক্ষে থাকছেন। “ওরা ছাত্রদলই না, প্রভোস্ট শিবিরের কাউকে তোলে নাই তো?”— পাশ কাটিয়ে গেলেন ছাত্রদল সভাপতি নিজের কর্মীদের এমন কাণ্ডে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি এদের কাউকেই চেনেন না! সভাপতি উল্টো হল প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে বলেন,”হল প্রভোস্ট শিবিরের কাউকে তুলে ছাত্রদল পরিচয় দিলে সেটি তো হবে না। ছাত্রদলের নামে আমরা কাউকে হলে উঠতে দেবো না। আমরা কাউকে তোলার সুপারিশও করিনি।” এদিকে সোহরাওয়ার্দী হলের অফিস সহকারী মো. আব্দুর রহিম পরিষ্কার জানিয়েছেন, ওই কক্ষগুলোতে সিট খালি থাকলেও অভিযুক্ত কাউকেই কোনো বৈধ আবাসিক কার্ড ইস্যু করা হয়নি। হল প্রশাসন কী বলছে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আরিফুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের হল ত্যাগের নোটিশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আজকে অফিস টাইম শেষ হওয়ায় কাল বিষয়টি খতিয়ে দেখব। বিভিন্ন হলে এমন অবৈধ অবস্থানের খবর পাচ্ছি। সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন— সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেখানে সিটের জন্য মাসের পর মাস হাহাকার করে, সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে কীভাবে কার্ড ছাড়া মাসের পর মাস হলে থাকা যায়? হল প্রশাসন কি আসলেই ব্যবস্থা নেবে, নাকি নোটিশেই সীমাবদ্ধ থাকবে সবকিছু?
