রাষ্ট্রের স্বাধীনতাবিরোধীরা আমার ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে হত্যা করেছে: ছাত্রলীগ নেতা প্রান্তর মা
“আমার নিষ্পাপ ছেলেটাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতাবিরোধীরাই পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে…” ফরিদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তের (২৭) নির্মম মৃত্যুর পর এভাবেই আর্তনাদ করে কেঁদে উঠে রাষ্ট্রযন্ত্র ও নেপথ্যের অপশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তাঁর মা খাদিজা আক্তার। বিনা মামলায় ডিবি পুলিশের হাতে আটকের পর সম্পূর্ণ সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতার এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় ফরিদপুর জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রান্ত অসুস্থ ছিল বলে দাবি করা হলেও, নিহতের পরিবার সেই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কোনো মামলা ছাড়াই রাতে তুলে নিয়ে গেল ডিবি, ৫ ঘণ্টা পর মিলল ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ নিরাপত্তা হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর এই গুরুতর অভিযোগে ইতিমধ্যে তীব্র প্রশাসনিক ও সামাজিক চাপের মুখে ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে তড়িঘড়ি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে, যা এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা গভীর কোনো রহস্যের দিকেই সরাসরি আঙুল তোলে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর মা খাদিজা আক্তার হাসপাতালের বারান্দায় ছেলের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান, তাঁর ছেলের নামে অতীতে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা রাজনৈতিক মামলা ছিল না। শুধুমাত্র ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে পুলিশ তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলের অসুস্থতার যে খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো নাটক উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রান্ত শারীরিকভাবে শতভাগ সুস্থ ছিল। কোনো মামলা ছাড়াই রাতে তুলে নিয়ে গেল ডিবি, ৫ ঘণ্টা পর মিলল ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ খাদিজা আক্তার স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, একটি উগ্র ও স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রী মহল রাষ্ট্রযন্ত্র ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা যুবকদের বেছে বেছে টার্গেট করছে এবং হেফাজতে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে চিরতরে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। এই স্বাধীন বাংলাদেশে নিজের সন্তানের এমন নির্মম রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জড়িত সকল পুলিশ কর্মকর্তা এবং এর নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর জন্য বিচার ব্যবস্থার কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। আইন কলেজ শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর পর ফরিদপুরের সচেতন মহল, মানবাধিকার সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাকে হেফাজতে নিয়ে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া স্পষ্টত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলার এক চরম বিপর্যয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার একজন প্রভাবশালী ওসির প্রত্যাহার কেবল সাময়িক আইনি আইওয়াশ মাত্র, এর পেছনে থাকা প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
