মাছ ও বরফ ফেলে সড়ক অবরোধ: চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জেলেদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ

২৬ জুন, ২০২৬ | ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান ইলিশের আড়ত রানি রাসমনি ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবার বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ জেলেরা। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির শিকার ও অতিষ্ঠ মৎস্যজীবীরা গতকাল ২৪শে জুন, বুধবার রাজপথে নেমে এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। প্রচলিত মিছিল-সমাবেশের বাইরে গিয়ে জেলেরা তাদের জীবিকার প্রধান অনুষঙ্গ মাছ, বরফ এবং রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রধান সড়কে সারিবদ্ধভাবে রেখে এই প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারী জেলেরা জানান, রানি রাসমনি ইলিশ ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জেলেদের ওপর জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। এই চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার না পাওয়ায়, আজ সকাল থেকে জেলেরা একাট্টা হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে তারা আড়ত থেকে তাজা মাছ, বরফ কাটার ব্লক এবং নৌকায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার এনে সড়কে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখেন। এর ফলে ওই এলাকার যানচলাচল কিছুক্ষণের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে। জেলেদের এই অভিনব ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ দেখতে সড়কে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। আন্দোলনরত জেলেরা জানান, এটি কেবল তাদের ক্ষোভের একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ঘাটে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জেলেদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইলিশ ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে বাজারে মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। বিকেল নাগাদ প্রশাসনের আশ্বাসে জেলেরা সড়ক থেকে মাছ ও বরফ সরিয়ে নিলেও ঘাটে এখনো থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।