“অনুপস্থিত আছি, কিন্তু নীরব নই”, দেশের মানুষের পক্ষে এখনও অটল-অবিচল শেখ হাসিনা
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সম্প্রতি দ্য প্রিন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত এক লেখায় বলেছেন, দেশ থেকে দূরে থাকলেও তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই আছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার অনুপস্থিতি কখনোই তার নীরবতার প্রতিফলন নয়। লেখায় শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ই মে’র কথা স্মরণ করেন, যেদিন প্রায় ছয় বছরের প্রবাস জীবন শেষে তিনি দেশে ফিরেছিলেন—বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে, একমাত্র দেশের জনগণের ভালোবাসার ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, সেই সময়েও তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত, মামলা ও জীবনের ঝুঁকি ছিল। দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ না করলেও তিনি জানান, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতে, এটি শুধু তার ফিরে আসার জন্যই নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্যও প্রয়োজনীয়। নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী হাজার হাজার প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সরকারি সেবা প্রদানকারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অনেককে জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ বলে অভিহিত করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নকে “নিরব রাজনৈতিক গণহত্যা” বলে মন্তব্য করেন। দেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০০৮ সালের পর তাদের চার মেয়াদের শাসনামলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ গঠনের কাজ করা হয়েছে। তিনি পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর উদাহরণ দেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন এবং দলের ভেতরের সংস্কার প্রক্রিয়া কোনো বহিরাগত নির্দেশনা অনুসারে নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে। তিনি “দেশ ছেড়ে যাওয়া নেতা” শব্দবন্ধের বিরোধিতা করেন, কারণ তার মতে কেউ স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি ও বার্তার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার বক্তব্য জানিয়ে আসছেন।
