ইউনূসের পথেই তারেক রহমানঃ নাম-না-জানা দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

২৫ জুন, ২০২৬ | ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

ইকোনমিক ফোরামের (World Economic Forum) ১৭তম বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রো ব্যতীত অন্য কোনো দেশের সরকার প্রধান যোগ দেননি। যেসব দেশ থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, তারা কেউই নিজ নিজ দেশের সরকার প্রধান নন। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সে দেশের সরকার প্রধান নন, বরং প্রধান নির্বাহী হলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট। তারেক রহমানের এই চীন ও মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে অতিরঞ্জিত প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা নিতান্তই অবাস্তব। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমপর্যায়ে নামিয়ে এনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। উপস্থিত সরকার প্রধানদের পদের দিক থেকে যদি সমপর্যায়ের বিচার করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ এখন মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর কাতারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর অন্তত প্রথম বিদেশ সফরটি কোনো একটি আনুষ্ঠানিক ‘দ্বিপাক্ষিক সফর’ দিয়ে শুরু করা যেত। ইতিপূর্বে ইউনূসকেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিতে দেখা গেছে, যেগুলোকে ‘দ্বিপাক্ষিক সফর’ বলে চালানো হতো। পরবর্তীতে সেসব সফর শেষে জানা যেত যে, সরকারি অর্থের অপচয় করে তিনি মূলত নিজের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন এবং সরকারি খরচে ভ্রমণ করে বিভিন্ন দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজের প্রতিষ্ঠানের চুক্তি সই করেছেন। ইউনুসের বর্ধিত সংস্করণ তারেক রহমানও যেন একই ধারার পুনরাবৃত্তি করছেন, যা আমাদের দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে হাস্যকর করে তুলছে। তিনি যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই অবস্থান ও কর্মকাণ্ড দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। বিগত দুই বছরে বাংলাদেশে তেমন কোনো বৈদেশিক বিনিয়োগ আসেনি। এমনকি দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও যে ধীরে ধীরে তাদের পুঁজি তুলে নিচ্ছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্যই তার বড় প্রমাণ। এর পাশাপাশি পূর্ববর্তী ইউনূস সরকারের আমলে কী পরিমাণ অর্থ পাচার বা লোপাট হয়েছে, তারও একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। দেশের একসময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবগুলোই এখন লোকসানের মুখে। শত শত শিল্প-কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম। এই নাজুক পরিস্থিতিতে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। ‘ঘাস খেয়ে অস্ত্র বানানোর’ মতো অবাস্তব স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না; এমন নীতি বজায় রাখলে পাকিস্তানের মতোই সামরিক বাহিনী সুখে থাকবে, আর সাধারণ জনগণকে ভিক্ষা করতে হবে। সামরিক অস্ত্র, যুদ্ধবিমান এসবের আগে দেশের মানুষের প্রাথমিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জন জরুরী। টাকা ছাপিয়ে কতদিন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব? শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকে অনবরত গালি দেওয়া, আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া এবং দলটির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে দেশ চালানো যাবে না—এর জন্য কার্যকর কিছু কাজও করতে হয়। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন মানুষ খুন হচ্ছে। অপরাধীরা কেন এতটা বেপরোয়া, তার মূল কারণটি খুঁজে বের করা দরকার। একদল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও ‘লীগফোবিয়ায়’ আক্রান্ত সংকীর্ণমনা গোষ্ঠীর দ্বারা দেশের কোনো কল্যাণ সম্ভব নয়। আগে দেশটাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে, তবেই দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম অনুভূতি জাগা সম্ভব। ইতিহাস সাক্ষী, যেসব দেশে এমন পুতুল (পাপেট) সরকার বসেছে, তাদের কেউই সফল হতে পারেনি। একজন যেখানে অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন, অন্যজন সেখানে এসেছেন দেশকে মঙ্গোলিয়ার সমপর্যায়ে নামাতে। এসবের অন্তরালে ইসরায়েল যে একটি পরোক্ষ হুমকি দিয়ে রেখেছে, সেদিকেও এখন নজর দেওয়া দরকার। সময় ইতিমধ্যে অনেক পার হয়ে গেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণ শক্তি যদি কেবল ‘লীগ দমনে’ই ব্যয় করা হয়, তবে একদিন হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখা যাবে দেশ সিরিয়া কিংবা লিবিয়ার মতো অরাজক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।