ফটিকছড়িতে ক্লিনিকের অনিয়ম ফাঁস করায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি

২৩ জুন, ২০২৬ | ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করে চরম বিপাকে পড়েছেন এক স্থানীয় সাংবাদিক। ‘ফটিকছড়ি সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’-এর নানা অনিয়ম ও লাইসেন্স বিতর্ক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক মানবকণ্ঠের ফটিকছড়ি প্রতিনিধি এবং ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক শাহনেওয়াজ নাজিমকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯শে জুন ফটিকছড়িতে বিএনপির একটি দলীয় কর্মসূচি চলাকালীন প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিমের ওপর চড়াও হন যুবদল নেতা রশিদ। তিনি সাংবাদিকের পাঞ্জাবির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং একপর্যায়ে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভীতিকর বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—অভিযুক্ত রশিদ অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ভাষায় হুমকিমূলক কথা বলছেন এবং একাধিকবার স্থানীয় এমপির নাম উল্লেখ করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফটিকছড়ি সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন-এর লাইসেন্স নবায়ন ও অবৈধ পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এর আগে ২০২৩ সালে এই বিতর্কিত ক্লিনিকেই ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে প্রশাসন ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি এই বন্ধ ক্লিনিকের ভেতরের প্রশাসনিক ও লাইসেন্স সংক্রান্ত অন্ধকার দিকগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এই যুবদল নেতা। আক্রান্ত সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি এভাবে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও জীবননাশের হুমকি পেতে হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমি প্রশাসনের কাছে আমার নিরাপত্তা ও সুনির্দিষ্ট বিচার দাবি করছি।” এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সাংবাদিক নাজিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী যুবদল নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বভাবসুলভভাবে ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার দাবি, বিষয়টি ইতিমধ্যে ‘মীমাংসা’ হয়ে গেছে এবং কে বা কারা জল ঘোলা করার জন্য অযথা এটিকে বড় করে ছড়াচ্ছে। তবে ভিডিও ফুটেজ সামনে আসার পর তার এই দাবিকে ধোপে টিকছে না বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।