বাঁশখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ জনতা
তীব্র গরমের মাঝে বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের ওপর যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়েছে। গত মে মাসের তুলনায় চলতি জুন মাসে বিদ্যুৎ বিল একলাফে ৩ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ “ইচ্ছেমতো” ও ভুতুড়ে এই বিল তৈরি করেছে বলে গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে এই ধরনের লাগামহীন বিল সাধারণ জনগণের পকেট কাটা এবং “রক্ত চুষে খাওয়ার” শামিল। বাঁশখালীর একাধিক এলাকার ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মাসে যাদের বিল ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা এসেছিল, এবার তাদের কোনো অতিরিক্ত ব্যবহার ছাড়াই বিল এসেছে ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা! চরম হতাশা ব্যক্ত করে মুহাম্মদ নাঈম উদ্দিন মাহফুজ নামের এক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, “বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো পরিবর্তন হয়নি, অথচ বিল এসেছে তিন গুণ। এটা সম্পূর্ণ ডাকাতি! পল্লী বিদ্যুৎ অফিস নিজেদের ইচ্ছেমতো রিডিং বসিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। এই জুলুমের বিচার কে করবে?” ক্যাম্পাস ও স্থানীয় বাজারগুলোর ব্যবসায়ীরাও এই অস্বাভাবিক বিলে চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, ঠিকমতো লোডশেডিংয়ের সমাধান না দিয়ে মাস শেষে এই আকাশচুম্বী বিল পাঠানো সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভের তীর এখন স্থানীয় গ্রাহক অধিকার রক্ষা কমিটির দিকেও। সাধারণ জনগণ অবিলম্বে এই ভুতুড়ে বিলের বিরুদ্ধে কথা বলতে এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত বা আন্দোলনের মতো ব্যবস্থা নিতে গ্রাহক সমিতির প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। গ্রাহকদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—যদি অতি দ্রুত এই মনগড়া ও অন্যায্য বিল সংশোধন করা না হয়, তবে বাঁশখালীর সাধারণ জনগণ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওসহ আরও বড় ধরণের গণ-আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এই অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তারা ‘কারিগরি জটিলতা’ বা ‘ব্যবহার বৃদ্ধির’ অযুহাত দিলেও গ্রাহকরা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুরো বাঁশখালী জুড়ে এখন এই ভুতুড়ে বিল নিয়ে এক চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
