বরগুনায় ১৯ দিনে ২২ মরদেহ উদ্ধার

২০ জুন, ২০২৬ | ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে চলতি মাসে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ মোট ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ড, নয়টি আত্মহত্যা এবং বাকিগুলো দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চলতি মাসে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোয় এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮ই জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার-সংলগ্ন খাল থেকে শামীম বেপারী নামে এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এছাড়া সদরের বদরখালী এলাকায় এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনার জের ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে একজন মাদক কারবারিকে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ১৩ই জুন পাথরঘাটা পৌর এলাকার সড়কের পাশ থেকে মিজানুর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দুটি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত শামীম হত্যাকাণ্ডে তিনজন এবং মিজানুর হত্যাকাণ্ডে দুজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গণপিটুনির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর বাইরে ৬ই জুন জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পৃথক দুটি কক্ষ থেকে এক নারীর সঙ্গে তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই মেয়েকে হত্যার পর ওই নারী আত্মহত্যা করেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পর নিহতের স্বামী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং পৃথক আইনি তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদঘাটনে একাধিক পুলিশ টিম কাজ করছে। আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু রোধে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।