অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ নগরবাসী: আওয়ামী লীগের মিছিল ক্রমশ দীর্ঘতর: বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

২০ জুন, ২০২৬ | ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি, জনজীবনে চরম নিরাপত্তার অভাব এবং একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। রাজধানী ঢাকা এখন নাগরিক সংকট ও তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষের এক জ্বলন্ত নগরী। এরই মধ্যে নতুন বাজেটে চাপানো অসহনীয় করের বোঝা এবং জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের কোনো মিল না থাকায় ক্ষুব্ধ নাগরিকরা এখন ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন। হামের প্রাদুর্ভাব ও স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা সম্প্রতি দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের চরম উদাসীনতা ও টিকাদান কর্মসূচির অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন নগরবাসী। ল্যাবরেটরি ও হাসপাতালগুলোতে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সন্তানহারা মায়েরা রাজপথে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। “হামে শিশু মারলি কেন? খুনী ইউনুস জবাব দে”—এমন তীব্র স্লোগানে মুখর হয়ে উঠছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। স্বাস্থ্য খাতের এই বিপর্যয় সাধারণ মানুষকে সরকারের প্রতি আরও বেশি বিমুখ করে তুলেছে। নিরাপত্তাহীনতা ও ‘গায়েবি মামলার’ আতঙ্ক রাজধানীর উত্তরা থেকে নিউমার্কেট—কোথাও আজ জনমানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। একদিকে ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির উপদ্রব বেড়েছে, অন্যদিকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে ভিন্নমত দমনে শত শত ‘গায়েবি মামলা’ এবং বিনা অপরাধে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতারের হিড়িক চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা হারিয়ে আতঙ্কিত নগরবাসী যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই এই চরম নাগরিক অসন্তোষকে পুঁজি করে রাজপথে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলগুলোতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সুপ্ত সমর্থন লক্ষণীয়ভাবে বাড়তে শুরু করেছে। মহাখালী ও শেরে বাংলা নগরে ঝটিকা মিছিল গত তিন দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই জনঅসন্তোষের প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে গত ১৮ জুন সকাল ৯টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আইসিডিডিআরবি ভবনের সামনের প্রধান সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানারসহ একটি বিশাল ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি থেকে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনে শেরে বাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এবং গণভবনের সংযোগ সড়কেও যুবলীগের উদ্যোগে আকস্মিক বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এসব মিছিলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশকেও সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিতে দেখা গেছে। উত্তরা, মিরপুর ও নিউমার্কেটে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের উত্তরা আজমপুর এবং মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকাতেও দলটির নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্য খাতের ব্যর্থতা ও করের বোঝার বিরুদ্ধে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র প্রতিবাদ সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেছে। অন্যদিকে, নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কর ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে শামিল হয়েছেন। এসব মিছিল থেকে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগান তুলছেন, “ট্যাক্স চাইলে ট্যাক্স নে, বাঁচার মতো বাঁচতে দে”। বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের দমনপীড়ন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার ভেঙে পড়া পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ মুক্তির বিকল্প পথ খুঁজছেন। নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের এই ঝটিকা মিছিলগুলোতে সাধারণ মানুষের আকস্মিক উপস্থিতি ও সমর্থন রাজধানীর বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ নতুন এবং জটিল এক মোড়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান সম্প্রতি এক টকশোতে বলেছেন, বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে আর আওয়ামী লীগের জন্ম জনতার মাঝে। জনতার মধ্যে যে দলের জন্ম সেই দলকে নিষিদ্ধ করে ঠেকিয়ে রাখা যায় না। তাকে ঠেকিয়ে রাখতে গেলে বিস্ফোরণের সৃষ্টি হবে।