ব্যবসায়ী থেকে চাঁদার টাকা আনতে যাওয়া বিএনপির ২ নেতাকে গণপিটুনি, মুচলেকায় মুক্তি

১৮ জুন, ২০২৬ | ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , দৈনিক গণঅধিকার

চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বিএনপির দুই স্থানীয় নেতা। চাঁদার টাকা তুলতে গিয়ে গতকাল ১৫ই জুন, সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেন্ডিতলা এলাকায় গণপিটুনির শিকার হন তারা। এ সময় ক্রুদ্ধ এলাকাবাসী তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা একটি দোকানে আটকে রাখেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার লিখিত মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তারা। অভিযুক্ত সেই দুই নেতা নেতা হলেন, চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেন্ডিতলা এলাকায় ড্রেজার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বালু ভরাটের একটি বড় কাজ পান। কাজ পাওয়ার পর থেকেই দল ও পদের দাপট দেখিয়ে নজরুল ইসলামের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন জাকির মোল্লা ও রাজ্জাক মোল্লা। সোমবার রাতে তারা চাঁদার টাকার জন্য আবার ফোন দিলে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম তাদের টাকা নেওয়ার জন্য রেন্ডিতলা এলাকায় আসতে বলেন। রাত ১০টার দিকে তারা চাঁদা নিতে রেন্ডিতলা পৌঁছালে পূর্বপ্রস্তুত থাকা স্থানীয় জনতা তাদের হাতেনাতে আটকে ফেলে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং একটি দোকানে তালাবদ্ধ করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্ত হন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি বালু ভরাটের কাজ পাওয়ার পর থেকেই তারা দলের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করছিল। শেষে আমি বাধ্য হয়ে বলেছিলাম, ভাই আপনারাই বালু ভরাটের কাজটা করেন, আমাকে শুধু ড্রেজার মেশিনের ভাড়াটা দিয়েন। কিন্তু তাতেও তারা রাজি হয়নি। তাদের স্পষ্ট কথা—কাজ নয়, নগদ চাঁদা লাগবে।” তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা দাবি করেছেন, “আমরা কোনো চাঁদা চাইনি, বালুর কাজ চেয়েছিলাম। নজরুল আমাদের ফাঁসাতে এই নাটক সাজিয়েছে।” এ ব্যাপারে স্থানীয় এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রেমু জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।