চীনা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে নতুন নামে ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফরে রুবিও
দীর্ঘ এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম বেইজিং সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (১৩ মে) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীন পৌঁছানোর কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। তবে এই সফরের সবচেয়ে কৌতূহল উদ্দীপক বিষয়টি হলো রুবিওর ওপর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং তা এড়িয়ে তাকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানানোর জন্য চীনের নেওয়া এক অদ্ভুত কৌশল। চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাপ্তরিক নথিতে রুবিওর নামের বানান বা প্রতিবর্ণীকরণ বদলে দিয়েছে, যাতে পূর্বের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা নামের সঙ্গে বর্তমান নামের অমিল তৈরি হয়। সিনেটর থাকাকালীন রুবিও উইঘুর মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়ন এবং হংকং ইস্যু নিয়ে চীনের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তার ওপর দুইবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিতে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। তবে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চীন এক কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খুঁজে বের করে। গত বছরের জানুয়ারিতে রুবিও দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে চীন সরকার তার নামের প্রথম অক্ষর ‘রু’-এর পরিবর্তে অন্য একটি চীনা অক্ষর ‘লু’ ব্যবহার করতে শুরু করে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে তাকে বেইজিংয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার একটি সুকৌশলী উপায়, কারণ আগের বানানের ‘রুবিও’ নিষিদ্ধ থাকলেও নতুন বানানের ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই আইনি বাধা থাকছে না। চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এই বিষয়ে জানান, রুবিওর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ছিল মূলত সিনেটর থাকাকালীন তার কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে। তবে বর্তমান রাষ্ট্রীয় সফরের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে বেইজিং প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে রুবিওকে নাইকির ট্র্যাকসুট পরা অবস্থায় দেখা গেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, এই ট্র্যাকসুটটি অনেকটা ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পোশাকের মতো, যাকে গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী আটক করেছিল। যদিও মারকো রুবিওকে চীনের কট্টর সমালোচক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তিনি চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের এক অভূতপূর্ব প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে বর্তমান প্রশাসনে তিনি ট্রাম্পের সুরেই কথা বলছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একজন বন্ধু হিসেবে দেখেন এবং মানবাধিকারের চেয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেখানে রুবিও সেই নীতির সাথেই তাল মিলিয়ে চলছেন। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি এখনো তার অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির বিনিময়ে তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করা হবে না। আজ এই ঐতিহাসিক সফরে ট্রাম্প ও রুবিও বেইজিংয়ের মাটিতে পা রাখার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন কোনো মোড় আসে কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির মূল আকর্ষণ। সূত্র: ফ্রান্স ২৪
