মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন নিহত উক্যছাইং-এর পিতা
মাইলস্টোন কলেজের আলোচিত ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী উক্যছাইং মারমার পরিবারে শোকের ছায়া কাটতে না কাটতেই নতুন এক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর পিতা উসাইমং মারমা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন এবং বর্তমানে গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলার আবেদন ও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসাইমং মারমার হাতে লেখা একটি চিঠিতে চাঞ্চল্যকর কিছু অভিযোগ উঠে এসেছে। চিঠির তথ্যমতে, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে তিনি ছেলের অকাল মৃত্যুর বিচার চেয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন। ওই অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলা এবং উচ্চপদস্থ কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আদালত প্রাথমিক আবেদনের পর মামলাটি খারিজ করে দেন। মধ্যরাতের আতঙ্ক ও ডিবি অভিযান উসাইমং মারমার দাবি, আইনি লড়াই শুরু করার পর থেকেই তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন: ”গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার দিকে রাঙ্গামাটি ডিবি পুলিশ আমার নিজ এলাকায় আসে। তারা আমাদের পাশের বাড়িতে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে খুঁজতে থাকে।” একজন সন্তানহারা পিতার প্রশ্ন—মধ্যরাতের এই তৎপরতা কি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া, নাকি বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য এক ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন? ”মামলা করা কি আমার অপরাধ?” বর্তমানে নিজের ও স্ত্রীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উসাইমং মারমা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তার লেখা চিঠির শেষ অংশটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশবাসীর কাছে আকুতি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেছেন, “মামলা করা কি আমার অপরাধ?” সন্তান হারানো এক পিতার এই আর্তনাদ এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। প্রশাসনের নীরবতা ডিবি পুলিশের কথিত এই অভিযান এবং উসাইমং মারমার নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বা গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। উসাইমং মারমার এই আকুতি এখন সাধারণ মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় থাকা এই পরিবারটি কি শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পাবে, নাকি বিচার চাওয়ার অপরাধেই তাদের ফেরারি হয়ে থাকতে হবে—সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
