জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং সেনা-সমর্থিত পার্লামেন্টের ভোটে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সু চিকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। গৃহযুদ্ধ চলার মধ্যে অত্যন্ত সাবধানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়। গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলো বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে। জান্তাপ্রধান থেকে এখন এমন একটি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন হ্লাইং, যেটিকে দেখলে বেসামরিক প্রশাসনের মতো মনে হয়। এ বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ক্ষমতাসীন জেনারেলকে যেন ক্ষমতায় ধরে রাখা যায়, সে কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন সাজানো হয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মিয়ানমারে কয়েক ধাপে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির বড় বিরোধীদলগুলো অংশ নিতে পারেনি। সু চির দল বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং অন্য প্রধান প্রধান বিরোধীদল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে সেনাপ্রধানসমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি জয়লাভ করেছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের অনেক আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কেবল সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ রেখেছেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নয়- এমন গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি তেমন একটা কথা বলেন না। হ্লাইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং জান্তা রাজনীতিবিষয়ক দুই বিশ্লেষকের সাক্ষাৎকারে বলেন, মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট শুধু একজন কঠোর সেনাপ্রধানই নন, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও দক্ষ। তিনি দেশের ক্ষমতাধর শ্রেণিকে পরিচালনার সূক্ষ্ম কৌশল জানেন। আর এসব বৈশিষ্ট্য তাকে ক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এর আগে গত সোমবার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মিন অং হ্লাইং। একইসঙ্গে তিনি তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী ও সাবেক সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ইয়ে উয়িন উকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন।
