খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সিদ্ধান্তের জন্য একটু অপেক্ষা করুন: আইনমন্ত্রী

১৩ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য একটু অপেক্ষা করতে বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিদেশে যাওয়ার আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়ে সাংবাদিকরা আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন, দেখবেন। রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজদের ২৬তম জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি যুক্তরাজ্যে পালিয়ে আছে, তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে-এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, দুদিন আগে আমার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ হয়। সে সময় ওই দুজনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি। ব্রিটিশ হাইকমিশনার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক দাবি করতে বলেছেন। তাই আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। এর আগে মামলাজট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানুষ বিচারের জন্য হাহাকার করছে। যখন তারা আদালতে বিচার পাবেন না, তখন কিন্তু বিচারের জন্য রাস্তায় নামবেন। আমরা কেউই এমন অবস্থা চাই না। মন্ত্রী মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যথাযথ কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগগুলোই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল প্রেরণা : এদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্জন, উপকৃত সব জনগণ’ শীর্ষক সেমিনারে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বিপ্লবে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর গৃহীত ও বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল প্রেরণা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, সমুদ্রসহ প্রায় সব খাতে নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতটি ছিল তন্মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিপ্লবে শামিল হওয়ার দূরদর্শী চিন্তা থেকে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আইটিইউর সদস্যপদ লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় তিনি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগে অনলাইনে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম প্ল্যাটফরমে বর্তমানে ২২৫টি আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে বিচারিক কার্যক্রমে ই-গর্ভন্যান্সের সুফল ইতোমধ্যে জাতি পেতে শুরু করেছে। যা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির সভাপতিত্বে সেমিনারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম; ‘কনফিগ ভিআর অ্যান্ড কনফিগ আরবট’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রুদমিলা নওশীন ও চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা বক্তৃতা করেন।