১১ মাসে ব্যয় ৬৪ কোটি টাকা ভেন্টিলেটর কিট কেনার প্রকল্পই আইসিইউতে

21 June 2021, 10:17 AM | আপডেট:  21 June 2021 , 9:18 AM
বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার প্রকল্পই আইসিইউতে চলে গেছে। এর আওতায় ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিট, পিসিআর মেশিন ও পিপিই কেনার কথা। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে এই প্রকল্পের মাত্র ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থাৎ ৬৪ কোটি টাকা খরচ করা গেছে। কিন্তু মোট বরাদ্দ আছে ১৩৬৪ কোটি টাকা। অর্থছাড়ের জটিলতায় জরুরি প্রয়োজনে ৫০০ কোটি টাকার কিট ও পিপিই কেনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে উঠে আসে এ চিত্র। ওই বৈঠকে প্রকল্প সংশোধন এনে করোনা পরীক্ষার কিট, পিপিই কিনতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন অবিলম্বে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থবছরের (২০২০-২১) জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। সূত্র জানায়, এরই মধ্যে প্রকল্প সংশোধন না করে ৫০০ কোটি টাকায় করোনা টেস্টিং কিট ও পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) কেনার প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। কিন্তু সংশোধন না করে এ ধরনের কেনাকাটা করা যাবে না বলে পরিকল্পনা কমিশন থেকে স্বাস্থ্য বিভাগকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, টেস্টিং কিট ও পিপিই কিনতে ৫০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশন থেকে ফেরত আসার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এটি সংশোধনের চিন্তা করছি। ব্যয় কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালক বলতে পারবেন। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিশেষ করে ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিট, পিপিই, পিসিআর মেশিন কেনাকাটাসহ চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৩৬৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা (প্রকল্পে ৬২ শতাংশ) এবং ৫১৪ কোটি টাকা (৩৮ শতাংশ) সরকারের নিজস্ব অর্থ। এই টাকায় ১৭০টি ভেন্টিলেটর, ১৭০টি রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন ও পিপিই সামগ্রী ক্রয়, ১৯টি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষাগার সম্প্রসারণ, ৮০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পিসিআর ল্যাবগুলো কার্যকর করার কথা। এছাড়া ১৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত ১০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট সিসিইউ ও আইসিইউ, ১৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন, ২৬টি স্থলবন্দর স্ক্রিনিং সুবিধাসহ মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ইনফেকশন প্রিভিনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু পরিকল্পনা থাকলেও ১১ মাসে অর্থছাড়ের অবস্থা খুবই করুণ। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে সরকারি অংশে বরাদ্দ ৭৯ কোটি টাকার মধ্যে এক টাকাও খরচ করা হয়নি। আর বিদেশি সহায়তা বরাদ্দ ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৬৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে করোনার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রকল্পের আন্তঃব্যয় প্রস্তাবের ওপর বিভাগী মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উঠে আসে করোনার চিকিৎসা সরঞ্জাম কিট ও পিপিই কেনার জন্য অর্থ নিয়ে জটিলতার বিষয়টি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কোভিড-১৯ টেস্টিং কিট ক্রয় বাবদ ১৭২ কোটি টাকা এবং পিপিই সামগ্রী কিনতে ৩২৮ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট ৫০০ কোটি টাকা চেয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) প্রস্তাব করেছে। ওই বৈঠকে বলা হয়, এসব সামগ্রী ডিপিএম (ডাইরেক্ট প্রকিউরম্যান্ট মেথড) পদ্ধতিতে সংগ্রহের বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া গেছে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে। এখন প্রয়োজনীয় অর্থ প্রকল্প থেকে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই প্রকল্পে (কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্টেন্স) সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে বরাদ্দ আছে মাত্র ২৪৫ কোটি টাকা। যে কারণে কিট ও পিপিই কিনতে দ্রুত অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আলোচনা হয়। ওই সভায় এর আন্তঃখাত সমন্বয় এবং সংশোধনের মাধ্যমে এ অর্থ সংস্থানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব এবং বিভাগীয় মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, এর আওতায় সংগৃহীত যন্ত্রপাতিগুলোর মূল্য বেসরকারি হাসপাতাল বিশেষ করে স্কয়ার, ইউনাইটেড, ল্যাবএইড হাসপাতালের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখা প্রয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়াকে বিবেচনা ও প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টেস্টিং কিট ও পিপিই সামগ্রী অতিদ্রুত কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন অবিলম্বে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সমগ্র প্রক্রিয়ায় আর্থিক ও পরিকল্পনা শৃঙ্খলা বজায় রাখা দরকার, তেমনই অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ প্রকল্পটি মূল্যায়ন না করাই যৌক্তিক হবে। কারণ, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরিভাবে বাস্তবায়নযোগ্য। তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কার্যক্রম সম্পর্কযুুক্ত।


Logo