যমুনার বিলাসী জলদস্যু লুৎফরের অজানা কাহিনী

31 December 2020, 9:54 AM
বাংলাদেশ

কাঁচে ঘেরা এসি নৌকার বিলাসী জীবনের যে জলদস্যু সর্দার যমুনা নদীর জলসীমার অন্তত ৪ শ’ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ করত শেষ পর্যন্ত তাকে খাঁচায় আটকাতে পেরেছে বগুড়া পুলিশ। তার নাম লুৎফর রহমান শেখ (৪৭)। যমুনা তীরের ও চরগ্রামের মানুষের কাছে তার পরিচিতি লুৎফর ডাকাত। নদী বেষ্টনীর তিন জেলা বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট, গাইবান্ধার সাঘাটা, জামালপুরের মাদারগঞ্জের মানুষের কাছে সে ত্রাসের আতঙ্ক। গ্রেফতারের পর পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। যত ধরনের অপরাধ আছে লুৎফর রহমানের কাছে সবই আয়ত্তে। তার অপরাধের যাত্রা শুরু চুরি দিয়ে। তারপর ছোট মাঝারি বড় অপরাধ করে এখন অপরাধের সর্দার হয়ে শতাধিক মস্তানের এক বাহিনী গড়ে তোলে। জলপথের অপরাধ বেশি। তবে স্থলপথও সংযুক্ত। উত্তরের কুড়িগ্রাম থেকে পাবনার নগরবাড়ি ঘাটের জলপথ ও স্থলপথে তার ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। অপরাধের বিস্তৃত এলাকায় সে তৈরি করেছিল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। যে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হতো অপরাধ এলাকার তার তৈরি সদস্যরা। পণ্যবাহী নৌকায় ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র কারবার এবং পাচার, চরের জমির ফসল লুট বিরোধপূর্ণ জমি নিজের নামে লিখে নেয়া, দুর্গম চরাঞ্চলে পলাতক জঙ্গীসহ অন্য অভিযুক্তদের (আসামি) আশ্রয় দেয়াসহ নানা ধরনের অপরাধে সে ছিল সিদ্ধহস্ত। নদীপথের ও স্থলপথের ২০ জেলার মাদক বহন ও বিক্রির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত সে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল অনৈতিক ও সমাজবিরোধী কাজ। যেমন নারীদের নানাভাবে ফুসলিয়ে দেহব্যবসা, গান বাজনার নামে ভ্রাম্যমাণ পতিতালয় তৈরি, যাত্রাপালা ডেকে অশ্লীল নাচ, চরগ্রামে নিজ স্বার্থ পূরণে প্রহসনের সালিশ ইত্যাদি। হেন কাজ নেই যা সে করত না। লুৎফরের অন্তত ৮টি নৌকা জলপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার হতো। প্রতিটি নৌকার সঙ্গে ছিল একাধিক শ্যালো ইঞ্জিন। যাতে পুলিশের ধাওয়ায় দ্রুত সটকে পড়তে পারে। যমুনার চরের প্রতিটি সরুপথ তার চেনা। কোথায় লুকালে কেউ টিকিটিও স্পর্শ করতে পারবে না তা ছিল নখদর্পণে। যমুনা বক্ষের ওপর দিয়ে পারাপারে দূরপাল্লার ব্যবসায়ী প্রতিটি নৌকা ও ট্রলারের জন্য চাঁদা গুনতে হতো ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। রাতের নৌকায় বেশি পণ্য থাকলে ডাকাতি করত সে ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এ জন্য ব্যবহার হতো আগ্নেয়াস্ত্র। কে এই লুৎফর রহমান ॥ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চর বেষ্টিত চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ের বহুলাডাঙ্গা গ্রামের মুসা শেখের ছেলে লুৎফর রহমান। ছেলেবেলা থেকেই সে ছিল ডানপিটে স্বভাবের। বহুলাডাঙ্গা চরগ্রামটি বগুড়া গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলা সীমানার ত্রিমুখী মিলনস্থল। যে কারণে লুৎফর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সহজেই আন্তঃজেলা সীমানার অপরাধ রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে। খোঁজ খবর করে জানা যায়, বগুড়া ও গাইবান্ধার কয়েকটি চরাঞ্চলে এবং উপজেলার গ্রামে তার গরু মহিষের খামার আছে। প্রতিটি খামারে অন্তত ৫ শ’ করে গরু মহিষ থাকে। এলাকার লোকজন বলে এইসব গরু মহিষের বেশিরভাগই লুট করা।


Logo