ঢাকা, Tuesday 21 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

৫২ ভাগের বেশি মৃত্যু গাড়ি চাপায়

প্রকাশিত : 06:11 PM, 9 January 2021 Saturday
80 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

বিগত বছরের চেয়ে বিদায়ী বছরে আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৮ ভাগ। তবে জাতীয় মহাসড়কে দশমিক ৪৫ ও রেলক্রসিং এ শুণ্য দশমিক ১৬ ভাগ সহ ফিডার রোডে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। আশঙ্কাজনকহাবে বেড়েছে গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা। ২০২০ সালে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৫২ দশকি ৯৬ শতাংশ গাড়ি চাপায় হয়েছে।

যাত্রী অধিকার আদায়ে নিয়োজিত সংগঠন যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র ওঠে এসেছে। শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন। দুর্ঘটনার ১৫টি কারণ তুলে ধরে প্রতিরোধে ১২টি সুপারিশ করা হয়েছে সংগঠনের

পক্ষ থেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী ২০২০ সালে ৪ হাজার ৮৯১ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জন নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছে। একই সময় রেলপথে ৩২৩ টি দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন নিহত, ৭৯ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ১৮৩ টি দুর্ঘটনায় ৩১৩ জন নিহত, ৩৪২ জন আহত এবং ৩৭১ জন নিখোঁজ হয়।

সড়ক, রেল, নৌ-পথে সর্বমোট ৫ হাজার ৩৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩১৭ জন নিহত এবং ৯ হাজার ২১ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্র সমূহে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার

সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে দেখা গেছে , বিদায়ী বছরে সড়কপথে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ২ হাজার ৩৯ জন চালক, ১ হাজার ৫৯৪ জন পথচারী, ৭৫৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৭০৬ জন ছাত্র-ছাত্রী, ১০৪ জন শিক্ষক, ২০০ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯১৮ জন নারী, ৫৪১ জন শিশু, ২৯ জন সাংবাদিক, ২৭ জন চিকিৎসক, ০৮ জন আইনজীবী ও ০৫ জন প্রকৌশলী এবং ১৪৪ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ০৯ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় মিলেছে।

এর মধ্যে ১ হাজার ৩৯২ জন পথচারী, ১৫ জন সেনা সদস্য, ৫২ জন পুলিশ, ১৫ জন আনসার সদস্য, একজন র‌্যাব সদস্য, দুই জন

বিজিবি সদস্য, একজন জন সিআইডি সদস্য, একজন নৌ-বাহিনীর সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা,০৫ জন সাংবাদিক, ৬৫৬ জন নারী, ৪১৮ জন শিশু, ৩৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৯২ জন শিক্ষক, ১৩৯০ জন চালক, ৩৫৫ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৪ জন প্রকৌশলী, ০১ জন আইনজীবী, ১১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৩ জন চিকিৎসক নিহত হয়েছে।

উল্লেখিত সময়ে সংগঠিত দুর্ঘটনায় সর্বমোট ৬ হাজার ৭৩৬ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে, যার ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ বাস, ২৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস, ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯

দশমিক ৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৫২ দশকি ৯৬ শতাংশ গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা, ২২ দশমিক ৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ খাদে পড়ে, ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বিবিধ কারনে, শুণ্য দশমিক ৩৪ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং শুণ্য দশমিক ৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত যানবাহনের ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেলে, ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ নসিমন-মাহিন্দ্রা-লেগুনায়, ১ দশমিক ০৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান-ইজিবাইকে, শুণ্য দশমিক ১৯ শতাংশ কার- জীপ-মাইক্রোবাসে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও

৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ বাস, ১ দশমিক ৪২ ভাগ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরি, শুণ্য ৮৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা দুর্ঘটনা কমেছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় বিদায়ী ২০২০ সালে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হায়িয়ে খাদে পড়ার ঘটনা শুণ্য দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা শুণ্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমলেও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই বছর মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত

হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২ দশমিক ৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও শুণ্য দশমিক ৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

বিগত বছরের চেয়ে বিদায়ী বছরে আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় মহাসড়কে দশমিক ৪৫ শতাংশ, রেলক্রসিং এ শুণ্য দশমিক ১৬ শতাংশ, ফিডার রোডে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে।

দুর্ঘটনার কারণ সমূহ ॥ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ১৫টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, বেপরোয়া গতি, বিপদজনক অভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা

হেড ফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, ছোট যানবাহন বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজী, রাস্তার পাশে হাট-বাজার ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো।

দুর্ঘটনা রোধে ১২ দফা সুপারিশ ॥ সড়ক নিরাপত্তায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, আইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে সংস্কারপূর্বক ডিজিটাল পদ্ধতিতে সি সি ক্যামেরা স্থাপন করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা, সড়ক নিরাপত্তায় ইত্যিমধ্যে প্রণীত যাবতীয় সুপারিশমালা বাস্তবায়ন উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য সুপারিশ সমূহের মধ্যে রয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী

মহাসড়কের উভয় পাশে ১০ মিটার খালি রাখার বিধান বাস্তবায়ন করা, দেশের সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা। জেব্রাক্রসিং অংকন করা, গণপরিবহন চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, সড়ক পরিবহন সেক্টরে অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাদাঁবাজী বন্ধ করা, গাড়ীর ফিটনেস ও চালদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে আধুনিকায়ন করা, সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনপূর্বক হতাহতদের চিকিৎসা ও পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা, দেশব্যাপী চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত মানসম্মত নতুন গণপরিবহন নামানোর উদ্যোগ নেয়া, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং একাডেমী গড়ে তোলা, গণপরিবহনে সেবা ও নিরাপত্তার মান পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের সকল মন্ত্রী, সংসদ সদস্য,

সচিব, জেলা প্রশাসকদের প্রতিমাসে একদিন গণপরিবহন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT