ঢাকা, Wednesday 22 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

৪ বছরে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ

প্রকাশিত : 12:45 PM, 9 September 2020 Wednesday
68 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। গত চার বছরের প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। অথচ কাজটি শুরু হয় ২০১৫ সালের শুরুতে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের জুনে। তিন দফা কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন প্রকল্পের কাজ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন মাস। ২২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাজটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদফতর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেট কাজটি পাওয়ার পর থেকেই ধীরগতিতে কাজ করে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে প্রকল্পের কাজের কোন গতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন প্রতিষ্ঠানটি টাকা বাড়ানোর জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছে। কাজটি বারবার

পিছিয়ে যাওয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ কাজের গতি নানা কারণেই কমে গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রকল্পে পিডি নিয়োগ দেয়া হয়। গত চার বছরের ৬ জন পিডি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০/২২ দিন আগে একজন পিডি নিয়োগ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নিয়োগ দেয়ার তিন দিনের মাথায় তাকে পিএটিসিতে ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়। তাছাড়া রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণের জায়গা নিয়েও একটা সমস্যা ছিল। এছাড়া অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তিযুক্ত স্থাপনা নির্মাণে বারবার নক্সা বদল করতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ ২০২১ সালে গিয়ে ঠেকেছে। তবে

আমরা গণপূর্ত বিভাগকে তাগিদের ওপর রেখেছি যাতে তারা কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি থাকলে থাকতে পারে। তাদের বিষয়টিও নজরে রাখা হয়েছে। আমাদের নিযুক্ত স্থপতিরা সেখানে কাজ করছেন। রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে দুই দশমিক তিন শূন্য একর জায়গাজুড়ে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ হচ্ছে।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের (ডিভিশন-১) নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা জনকণ্ঠকে বলেন, দেশের দ্বিতীয় নভোথিয়েটারে আধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল প্রজেক্টর সিস্টেমযুক্ত প্ল্যানেটরিয়াম, সায়েন্টিফিক এ্যান্ড ডিজিটাল এক্সিবিটস, ফাইভ-ডি সিমিউলেটর থিয়েটার, টেলিস্কোপ, কম্পিউটারাইজড টিকেটিং এ্যান্ড ডেকোরেটিং সিস্টেমসহ নানা সুবিধা থাকবে। ভবন নির্মাণ শেষ হলে দ্রুত অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংযোজন হবে নভোথিয়েটারে। তার দাবি প্রকল্পের

অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ ৪৬ ভাগ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৫-১৮ সাল ধরা হলেও বিলম্বে কাজ শুরুর কারনে শেষ পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদকাল বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহীতে নভোথিয়েটার স্থাপনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে নভোথিয়েটারের নির্মাণের জন্য একনেকে প্রস্তাব পাস হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা, মহাকাশ সম্পর্কিত জ্ঞান সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় করা, বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট কুসংস্কার দূর করতে প্রকল্পটি হাতে নেয়া। এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার

প্রকল্প হিসাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার প্রকল্পের এমন অবস্থা দেখে রাজশাহীর মানুষ হতাশ। রাজশাহীর অনেকেই অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেটের সঙ্গে বিতর্কিত জিকে শামীমের অংশীদারিত্ব রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দেড় শ’ কোটি টাকার বেশি বিল তুলে নিয়ে গেছে। জিকে শামীমের নির্দেশে প্রকল্পের টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। জিকে শামীমের দাপট আগের মতোই গণপূত বিভাগে রয়ে গেছে। জেলখানা (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিআইপি কেবিনে) থেকে সব কলকাঠি নাড়ছে। গণপূর্ত বিভাগের তার অনুগত বহু কর্মকর্তা তার কথাতেই কাজ করে যাচ্ছেন। জিকে শামীমের কোম্পানি জিকে বিল্ডার্সের সরকারের ৫৩টি ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছে। এর মধ্যে ১৪

টিতে তার কোম্পানি এককভাবে কাজ ছিল। বাকিগুলো যৌথভাবে করছে। জিকে শামীমের যৌথভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার আরও ৪০টি প্রকল্পের প্রকল্প রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকোশলী মোঃ আশরাফুল আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এসএমএস দিয়েও তার কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, নভোথিয়েটারের চারতলা ভীত বিশিষ্ট অফিস ব্লকের নির্মাণকাজ চলছে। আরেকটি ভবনের দ্বিতীয় তলার সাটারিং হচ্ছে। ৩৯ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের প্ল্যানেটরিয়াম ব্লকের নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য গণপূর্ত বিভাগ তদারকি করে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে কোন প্রকার গাফিলতি করতে না পারে সেজন্য কাজ

করা হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT