হামে শিশু মৃত্যু সংখ্যা হাজার পারঃ ভ্যাক্সিন সংগ্রহে ইউনূস সরকারের সংস্কার তত্ত্ব আর খামখেয়ালীপনায় ঝরে গেল সহস্রাধিক শিশুপ্রাণ – বর্ণমালা টেলিভিশন

হামে শিশু মৃত্যু সংখ্যা হাজার পারঃ ভ্যাক্সিন সংগ্রহে ইউনূস সরকারের সংস্কার তত্ত্ব আর খামখেয়ালীপনায় ঝরে গেল সহস্রাধিক শিশুপ্রাণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ September, ২০২৬ | ৫:১৬ 93 ভিউ
দেশে হাম ও হাম-উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম-উপসর্গে মারা গেছে ৯০২ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছে আরও ১০০ শিশু—সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার দুই জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও প্রায় ১,২০০ শিশু। অথচ কয়েক বছর আগেও হাম বাংলাদেশে প্রায় নির্মূলের পথে ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকার কভারেজ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চহারে বজায় ছিল এবং হাম-প্রতিরোধী টিকার কভারেজ ক্রমাগত বৃদ্ধির পথে ছিল, যার ফলে ল্যাবে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে কমে এসেছিল। আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে সম্মিলিত এমআর টিকা চালুর পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই টিকার কভারেজ ছিল ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের ঘরে—যা হাম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি। কিন্তু এই অর্জন ধরে রাখা যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ-সংকট দেখা দেয়, যার সঙ্গে যুক্ত হয় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর ২০২৫এ নির্ধারিত হাম-রুবেলা সম্পূরক গণটিকাদান কর্মসূচি আয়োজিত না হওয়া—এসব কারণেই সংক্রমণ-ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়ে যায়। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই এই সংকট ঘনীভূত হয়। ওই সময় ঘন ঘন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং চার বছর অন্তর নির্ধারিত হাম-রুবেলা সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়নি। এক অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা ২০২৫ সালের মে মাসে ইউনিসেফকে জানিয়েছিলেন যে দেশে টিকার মজুত মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু নতুন বরাদ্দ আসতে বিলম্ব হয়, ইউনূস সরকারের টিকা সরবরাহে সংস্কার করে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতি প্রবর্তন করায়। ইউনিসেফের একটি বিবৃতিতেও সময়মতো টিকা সরবরাহ না হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। এই সংকটের প্রভাব প্রকট হয়ে ওঠে চলতি বছরের শুরু থেকেই—এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেড়ে যায়, আর হাসপাতালগুলোতে ভর্তি, আইসিইউ ও আইসোলেশন সুবিধার ওপর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সংকট সৃষ্টির দায় নিয়ে এখন সরকারি পর্যায়েও চাপান-উতোর চলছে। সম্প্রতি সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টিকার তীব্র সংকট ও তার ফলে টিকাদান ব্যাহত হওয়ার পেছনে থাকা প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী ভুলের জন্য দায়ী পূর্ববর্তী (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকার। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও কেন সংকট নিরসনে কার্যকর ও জরুরি ব্যবস্থা নিতে এত সময় লাগল, যার মধ্যেই মৃত্যুর সংখ্যা হাজার পার হয়ে গেল। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করে বলেছেন, হামে এত শিশুর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি এবং এত রোগীও দেখা যায়নি কোনো বছরে। তার ভাষায়, সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো—এই মূল্য দিতে হচ্ছে নিরপরাধ শিশুদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রায়-নির্মূল হওয়া, সহজে প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু কোনো “দুর্ভাগ্য” নয়—বরং এটি টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক ব্যর্থতার সরাসরি পরিণতি, যার শুরু হয় এক সরকারের আমলে এবং যা চলমান থাকে পরের সরকারের সময়েও।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
জবি ক্যাম্পাসে পশু জবাই গরুভোজ কর্মসূচি পালিত ৪৫তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি, ৫৫ জন বাদ এনবিআরের ২ কর্মীর কাছে আসে প্রশ্নপত্র, পরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় উত্তরসহ: এসআরবি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে জ্বালানি রপ্তানি করছে ইরান বাসা থেকে সিজেপির দীপকে আটক, নেহাকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ ইরান যুদ্ধে ইউরোপের ক্ষতি ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী চুয়েটে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা, অনুপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সদস্য শেরপুরে নকলায় মাজারে ভাঙচুর সৌদি আরবে পৌঁছতে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন অনেকেই দায়িত্ব নেওয়ার ৫ দিনেরও কম সময়ে পদ ছাড়ছেন কেটি জাকারিয়া বাজারে ক্রেতাদের ক্ষোভ: “আলহামদুলিল্লাহ, পেঁপে-কুমড়া এখনও ৮০ টাকার নিচে, তারেক ভাইয়াকে ধন্যবাদ” ‘ব্লাডমানি’ দিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় বাংলাদেশির জীবন রক্ষা করেছিল শেখ হাসিনার সরকার, অথচ অলক্ষ্যে সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সরকারি জমি দখল করে জামায়াত আমির বললেন, “এখন আমাদের সময়” ‘জুলাইবিরোধী’ ভূমিকায় অভিযুক্ত, ১৪৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর শ্রীলঙ্কার তৎপরতায় সৌদিতে নবী অবমাননায় লংকান যুবকের মৃত্যুদণ্ড রদ, অথচ বাংলাদেশি প্রেমিক যুগলের মৃত্যুদণ্ডে বেখবর মিশন ও দুই মন্ত্রণালয় জামায়াত নেতাদের হাত ধরে সংসদে যেতে চান হিন্দু নেতারা, মন্দিরের সুরক্ষায় জামায়াতের প্রশংসা একটির খরচে ৫টি নির্মাণের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল: ৩য় এলএনজি টার্মিনালে ব্যয় বৃদ্ধি ৩৫-৩৭ শতাংশ নেত্রকোনায় দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা কাজ নাই, তাই বেতনও নাই: ৫ পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী: সহিংসতা ছড়িয়ে ‘বাংলাদেশ মডেলে’ সরকারের পতন ঘটাতে চাইছে কংগ্রেস