ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

হাওড়াঞ্চলে হঠাৎ তপ্ত হাওয়া, বোরো ধান চিটায় পরিণত

প্রকাশিত : 09:46 AM, 6 April 2021 Tuesday
73 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

এক রাতের গরম দমকা বাতাসে হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। বিবর্ণ হয়ে গেছে কয়েক হাজার একর জমির বোরো ধান গাছ। নষ্ট হয়ে গেছে কচি ধানের শীষ। চিটা হয়ে গেছে ধান। জেলার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ ও মদন উপজেলার হাওড় এলাকায় ঘটেছে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়। বহ কষ্ট আর ধার-দেনা করে রোপণ করা জমির এমন দৃশ্য দেখে দিশাহারা হয়ে গেছেন হাজার হাজার কৃষক।

জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন ও আশপাশের হাওড়াঞ্চলে গরম দমকা হাওয়া বয়ে যায়। তবে ওই রাতে কৃষকরা কোন ক্ষয়ক্ষতি টের পাননি। সোমবার সকালে রোদ ওঠার পর বোরো জমির ধানগাছ বিবর্ণ

হতে শুরু করে। কৃষকরা খেতে গিয়ে দেখেন- ধানের শীষগুলো ক্রমশ সাদা রং ধারণ করছে। কচি ধান শুকিয়ে চিটায় পরিণত হচ্ছে। দুপুর নাগাদ বিষয়টি পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার পর গোটা হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এটিকে ‘হিট ইনজুরি’ বলছেন। কৃষকরা জানান, যেসব জমির ধান সবেমাত্র বের হচ্ছিল (ফ্লাওয়ারিং স্টেজ) অথবা কচি ধান পরিপক্ক হয়ে চালে রূপান্তরিত হচ্ছিল (মিল্কিং স্টেজ)- ঠিক সেসব জমির প্রায় ৩০ থেকে ৫০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির মধ্যে ব্রি-ধান ২৯ এবং হাইব্রিড জাতের ধানই বেশি। তবে যেসব জমির ধান মোটামুটি পেকে এসেছে- সেগুলোর কোন ক্ষতি হয়নি। হাওড়াঞ্চলের

কৃষকরা এর আগে কখনও এমন বিপর্যয় দেখেননি। অনেকে জানিয়েছেন, অবস্থা এমন হয়েছে যে- এখন আর উৎপাদন খরচও উঠবে না তাদের। কারও কারও জমির ধান কাটারই প্রয়োজন পড়বে না আর।

খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর গ্রামের কৃষক মঞ্জিল চৌধুরী বলেন, ‘আমার প্রায় ৮ একর জমির পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। অন্তত ৩০ থেকে ৫০ ভাগ ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। দেখলে মনে হয়- আগুনে পুড়ে গেছে পুরো জমি।’ মেন্দিপুর গ্রামের কৃষক নূরনবী, কবির হোসেন ও ফুল মিয়া জানান, তাদেরও প্রত্যেকের ২ থেকে ৩ একর করে জমির ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। মেন্দিপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, ‘আমি সাতগাঁও,

মেন্দিপুর ও খলাপাড়া এলাকার হাওড়গুলো ঘুরে দেখেছি। আগুনে পোড়ার মতো ধানের শীষগুলো শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ ধান চিটা হয়ে গেছে। ধানগাছগুলো খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরীর ছয়টি, মোহনগঞ্জের সাতটি এবং মদনের সাতটি ইউনিয়নের সব কয়টি হাওড় এলাকায় কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, ওই উপজেলার অন্তত ২ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমির ধান প্রায় সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্রি-ধান ২৯ এবং হাইব্রিড জাতের ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ জমিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোন কোন জমি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে,

সেগুলো আর কাটতেই পারবেন না কৃষকরা। এসব জমির ধান সবেমাত্র বের হচ্ছিল। অথবা কোন কোনটি মিল্কিং স্টেজে ছিল। এছাড়া ব্রি ২৮ ধানেরও পাঁচ থেকে ১০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মদন উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রায়হানুল হক জানান, ওই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৫ হাজার ৯শ’ ৫৮ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতকরা হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৫ ভাগ। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৮ হাজার ৮শ’ ৫০ জন। অন্যদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই উপজেলার ৩০ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ এবং ১শ’ ২০ হেক্টর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে ওই উপজেলায় ৩শ’ ৬০ মেট্রিক ধান

কম উৎপাদনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ লাখ টাকা। এছাড়া আটপাড়া এবং কেন্দুয়া উপজেলারও আংশিক এলাকার বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় কৃষিবিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। হাবিবুর রহমান জানান, গরম বাতাস যেদিক দিয়ে গেছে সেদিকেই এমন ক্ষতি হয়েছে। এটি নতুন এক বিপর্যয়। তবে ক্ষতির পরিমাণ একেক জায়গায় একেক রকম। বিষয়টি কৃষি বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি টিম মঙ্গলবার সকালে মাঠ পরিদর্শনে আসবেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তারা ক্ষতির প্রকৃত কারণ নির্ণয়

করতে পারবেন। তবে এই ক্ষতি জেলার বোরো ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলেও স্বীকার করেন তিনি।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT