ঢাকা, Monday 20 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

স্বাস্থ্যখাতে কেমন বাজেট চাই

প্রকাশিত : 12:56 PM, 18 May 2021 Tuesday
74 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

শক্তিধর দেশগুলো যুদ্ধ করার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। কিন্তু মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা খুব বেশি ভাবেনি এবং স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে তেমন কোনো পরিকল্পনাও নেয়নি। এবারের করোনা মহামারিতে বিশ্ব বুঝতে পেরেছে, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ কতটা জরুরি। করোনা দেখিয়ে দিচ্ছে স্বাস্থ্যসুরক্ষা ছাড়া এ পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকা কঠিন।

আমাদের দেশও স্বাস্থ্যখাতে পিছিয়ে আছে। এ খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই আগামী বাজেট হওয়া উচিত জীবন ও জীবিকা রক্ষার বাজেট। আসছে বাজেটে এ দুটি খাতই সমান ও সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে বলে আশা করি। মাননীয় অর্থমন্ত্রীও সে কথাই বলেছেন।

‘সবার জন্য

স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে জনগণের অংশগ্রহণ, সব বিভাগের সমন্বয় এবং সুষম বরাদ্দ প্রয়োজন। এজন্য স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ স্থান দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন এ সংক্রান্ত উপযুক্ত কৌশল প্রণয়ন, গুণগত বিশ্লেষণ ও এর যথাযথ বাস্তবায়ন। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সবার জন্য সর্বত্র নিশ্চিত করতে পৃথিবীর অনেক দেশ ভার্চুয়াল ব্যবস্থাকে বহু আগেই আত্তীকরণ করেছে।

টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান থেকে শুরু করে নানাভাবে জনস্বাস্থ্যের হুমকি মোকাবিলা করছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ছাড়াও সাধারণ জনশক্তিকে বিশ্বমানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করেছে।

ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের চিকিৎসকরা শুধু হাসপাতালকে কেন্দ্র করে শিক্ষিত হন, তাদের ঝোঁক থাকে রোগ নিরাময়ের কারিগর হয়ে ওঠার দিকে। স্বাস্থ্যের সামাজিক, মানসিক কিংবা পরিচ্ছন্নতা-রোগতাত্ত্বিক দিক

সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ থাকে না। এ দিকটায় বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, সংবিধান অনুসারে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। সেই সেবা দিতে আমাদের একটি সময়োপযোগী স্বাস্থ্য মানবসম্পদ নীতি প্রণয়ন আবশ্যক। যে নীতি সর্বক্ষেত্রে সবার জন্য গুণগত মানের স্বাস্থ্য ও জনশক্তি গড়ে তুলবে। করোনা মহামারির কারণে আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে।

আমরা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত হাসপাতাল তৈরি করেছি, কিন্তু তাতে স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম সুবিধাও অনেক ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। করোনা মহামারি আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। দুর্নীতিতে ভারাক্রান্ত এবং অদক্ষতা ও অবহেলার শিকার জনস্বাস্থ্য খাত আমাদের

আজ এক নির্মম বাস্তবতার সম্মুখীন করেছে।

স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান সংকট এ খাতকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর একটি সুযোগ আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আমরা স্বাস্থ্যখাতকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কাজটি এ বাজেটের মাধ্যমেই শুরু করতে পারি।

এ খাতের উন্নয়নে বাজেটের প্রাধিকারকে দুই ভাগে ভাগ করতে চাই: এক. মহামারি মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা এবং দুই. জনস্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, যেমন: স্বাস্থ্যখাতের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার ও পরিবর্ধনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এজন্য একটি স্বল্প বা তাৎক্ষণিক, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ থাকা প্রয়োজন, যার ভিত্তিতে বাজেটারি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।

ডা. সমীর কুমার সাহা : সাবেক নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT