ঢাকা, Thursday 28 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দ উৎসবে দুদেশের শিল্পীরা

প্রকাশিত : 09:08 AM, 27 March 2021 Saturday
69 বার পঠিত

মনা | ঢাকা

রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার সমাপনী দিনে শুক্রবার উদ্যাপিত হলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। একাত্তরের সবচেয়ে বড় বন্ধু ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতও যোগ দিয়েছিল মহাউৎসবে। দুই দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান। ২৬ মার্চ আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা।’ এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আলোচনা পর্বের আগে অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তারা গান

: শেখ মুজিবের বাংলাদেশে আনন্দ উচ্ছ্বাস/স্বাধীনতার বয়স এখন হয়েছে পঞ্চাশ…। রফিকুল ইসলাম, তিমির নন্দী, সৈয়দ আব্দুল হাদী, ফকির আলমগীর, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, নকীব খান, সামিনা চৌধুরী, খায়রুল আনাম শাকিলসহ দেশের বেশ কয়েকজন বরেণ্য শিল্পী কণ্ঠ মেলান গানে।

তবে মূল পরিবেশনা শুরু করে বন্ধুরাষ্ট্র ভারত। আগে থেকে আলোকিত মঞ্চে বাড়তি দ্যুতি ছড়াতে আসেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। ভারতের মতো বাংলাদেশেও এ শিল্পী ভীষণ জনপ্রিয়। অনেকদিন পর ঢাকার মঞ্চে এসে সবাইকে পুনরায় মুগ্ধ করেন তিনি। আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একটি নতুন রাগ সৃষ্টি করেছেন তিনি। ‘মৈত্রী’ শিরোনামের এ রাগ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো

পরিবেশন করেন অজয়। আগে কখনও এ রাগ গাননি জানিয়ে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের প্রত্যেকের হৃদয়ের মানুষ ও আমাদের দেশের সকলের প্রিয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানজীকে সমর্পণ করছি। বাংলাদেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ আলাউদ্দীন খাঁ সৃষ্ট রাগ হেমন্ত এবং উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের সমাধৃত আভোগের মিলনে মৈত্রী রাগের জন্ম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নতুন রাগ নির্ভর তিন ভাষায় রচিত তিনটি গান গেয়ে শোনান শিল্পী। প্রথম গানটি ছিল সংস্কৃত ভাষায়। রচনা করেন ড. অরিন্দম চক্রবর্তী। দ্বিতীয়টি শোনান হিন্দীতে। এটি রচনা করেন ড. সুস্মিতা বসু ও রবি বর্মণ। সবশেষে বাংলা গানটি করেন তিনি। নিজের ছেলে অনল চট্টোপাধ্যায়ের লেখা গানের

কথাগুলো ছিল এ রকম : আজ আবার অতীত বেয়ে ইতিহাস ছুঁয়ে দেখা/অর্ধশতক বর্ষে দু’চোখে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা…।

মৈত্রী রাগের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুতার জয়গান করা হয়। শিল্পীর অসাধারণ কণ্ঠ, কণ্ঠের কারুকাজ মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন শ্রোতা। নিজের অনবদ্য পরিবেশনা মুজিবের প্রতি উৎসর্গ করে অজয় চক্রবর্তী বলেন, বন্ধুগণ, ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রী বন্ধনের ৫০ বছর পূর্তিতে আজ নদীমাত্রিক অতিথিপরায়ন সুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল সঙ্গীতপ্রেমী বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই তাঁর জন্মশতবর্ষে। তিনি আজ এখানে ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও, অবশ্যই উপস্থিত আছেন।

এমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন জানিয়ে তিনি

বলেন, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ আমার পিতা মাতার জন্মস্থান। এই ময়মনসিংহ সঙ্গীতের জন্যও প্রসিদ্ধ। সুতরাং আমিও বাংলাদেশের একজন।

অনুষ্ঠানের আরেক চমক নিয়ে আসেন এ আর রহমান। অস্কার বিজয়ী ভারতীয় শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অসাধারণ একটি গান করে পাঠিয়েছেন। সঙ্গীত পরিচালনা করার পাশাপাশি গানে নিজেই কণ্ঠও দিয়েছেন। চেনা কণ্ঠ বেজে ওঠতেই নড়ে চড়ে বসেন শ্রোতা। ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক গানে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর বন্দনা করা হয়। কখনও বাংলা ভাষায়, কখনও বা হিন্দীতে গাওয়া হয় গানটি।

অনুষ্ঠানে ছিল ‘পিতা দিয়েছে স্বাধীন স্বদেশ, কন্যা দিয়েছে আলো’ শীর্ষক থিমেটিক কোরিওগ্রাফি। চমৎকার কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, স্বাধীনতার

সংগ্রাম ও বর্তমানে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা হয়। কোরিওগ্রাফিতে অংশ ধৃতি নর্তনালয়। পরিবেশনাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই যে, এতে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’, ‘মা গো ভাবনা কেন’ সহ কয়েকটি গান গেয়ে শোনান সৈয়দ আবদুল হাদী। একক কণ্ঠে গান করেন গায়িকা মমতাজও।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। সেই সব অর্জনের আনন্দ ঢাক-ঢোলের সমবেত বাদ্য ও কোরিওগ্রাফি সহযোগে প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশের গর্জন : আজ শুনুক পুরো বিশ্ব’ শীর্ষক আয়োজন দারুণ এক উৎসবের আমেজ ছড়ায়। সবশেষে ফায়ার ওয়ার্কস ও লেজার শো’র মধ্য

দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT