ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সুনামগঞ্জের ঘটনায় প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বার গ্রেফতার

প্রকাশিত : 09:34 AM, 21 March 2021 Sunday
54 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রধান আসামি আলোচিত ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম স্বাধীনকে (স্বাধীন মেম্বার) আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্বাধীন যুবলীগের কেউ নয় উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা যুবলীগ। এদিকে এ মামলার আরও সাত আসামিকে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাত ১টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে স্বাধীনকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মোঃ খালেদ-উজ-জামান। এ মামলায় স্বাধীনসহ ৩০ আসামি আটক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে

তোলা হবে বলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (৫.২০ মি.) পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন।

এ দিকে সুনামগঞ্জে জেলার ইমাম-ওলামাগণ এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দের শান্তি-সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কোন ধরনের গুজবে কান না দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশকে খবর দিতে ইমাম-ওলামাগণসহ অন্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা তাদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা কোন ধরনের উস্কানিমূলক কথায় কান দিবেন না। তবেই শান্তি-সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখা এবং ধর্মীয় গুজব প্রতিহত করা সম্ভব হবে। জেলা

প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, ইসলামিক ফাউনেন্ডশনের উপ-পরিচালক ছিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। এ সময় জেলার সকল ইমাম ও অন্য ধর্মালম্বী নেতাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে শহীদুল ইসলাম স্বাধীন যুবলীগের কেউ নয় উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা যুবলীগ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর খন্দকার।

এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে শনিবার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), জেলা ছাত্রলীগসহ একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এদিকে হিন্দুদের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা সরেজমিন দেখতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রাম পরিদর্শন করছেন।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, শুক্রবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মামলার সাত আসামিকে আটক করেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত এ মামলার ৩০ আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ২২ জনকে শুক্রবার রাতে আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠায়।

নোয়াগাঁও গ্রামবাসি সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বারকে আটক করায় তাদের মধ্যে আরও বেশি

স্বস্তি ফিরে এসেছে। শহীদুল ইসলাম স্বাধীনের বাড়ি শাল্লার পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার নাচনি গ্রামে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীদের বেশিরভাগই আসে স্বাধীনের গ্রাম দিরাইয়ের নাচনি থেকে। স্বাধীন মেম্বারও হামলাকারীদের দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই হামলা হয়। স্বাধীন মেম্বারের সঙ্গে জলমহাল নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর বিরোধ রয়েছে দীর্ঘদিনের। এই বিরোধের জেরে মামুনুল অনুসারীদের সঙ্গে তিনি এই হামলায় অংশ নেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। বাড়িঘর ভাংচুর হওয়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপেই জলমহাল ব্যবসায়ীদের হোতা স্বাধীন মেম্বারসহ ইমারত আলী, ইনাত আলী, মির্জা হোসেন, নেহার আলী, আলম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, আলকাছ, হুমায়ুন, লুৎফুর, মোঃ ফারুক, আকরাম,

কেরামত, কাশিপুর গ্রামের নবাব মিয়া, সাইফুল, আব্দুল মজিদ, তৌহিদসহ শতাধিক লোকের নাম উঠে আসে। তাদের হাতে লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল।

হামলার শিকার নোয়াগাঁওয়ের কৃষক শৈলেন দাস বলেন, ঝুমন দাসকে আমরা নিজেরাই ধরে পুলিশে দিয়েছি। আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। জলমহাল ব্যবসায়ীদের হোতা স্বাধীন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের শতশত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে। ধর্মীয় গুজব সৃষ্টিকারীদের বিচার চাই। আমাদের শতশত বছরের শান্তি-সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এইসব ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ দিরাইয়ে এক সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হকের দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরদিন মামুনুলের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন

নোয়াগাঁওয়ের এক যুবক ঝুমন দাস। এই স্ট্যাটাসের জেরে হিন্দু-অধ্যুষিত ওই গ্রামটিতে হামলা চালিয়ে ৮৮ টিরও বেশি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT