ঢাকা, Sunday 19 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

র‌্যাবের অভিযান

সিরাজুল ইসলামসহ চার হাসপাতালকে ৫৯ লাখ টাকা জরিমানা

সাত দিনের মধ্যে সংশোধনে ব্যর্থ হলে বন্ধ হতে পারে হাসপাতাল * মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্টসহ সার্জিক্যাল সামগ্রী জব্দ

প্রকাশিত : 08:10 PM, 26 August 2020 Wednesday
116 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

বিভিন্ন অনিয়ম সংশোধনের জন্য ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে।

ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ করতে ব্যর্থ হলে হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া রাজধানীর আরও তিন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে টাস্কফোর্সের নির্দেশে মঙ্গলবার র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এই হাসপাতালে অভিযান চালান। এ সময় হাসপাতাল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল পরিমাণ রিএজেন্টসহ সার্জিক্যাল সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন টাস্কফোর্সের সদস্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

যুগ্ম সচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া। র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমসহ র‌্যাব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ভুলত্রুটি সংশোধনে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে না হলে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম, তা মানা না হলে স্বাস্থ্য অধিদফতর ব্যবস্থা নেবে, প্রয়োজনে বন্ধ করেও দিতে পারে।

সারওয়ার আলম বলেন, রোগের নমুনা পরীক্ষায় মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট, টেস্টিং কিট ব্যবহার, সঠিক তাপমাত্রায় রক্ত সংরক্ষণ না করা, অন্য হাসপাতাল থেকে রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের প্যাডে প্রতিবেদন দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযোগের সত্যতাও

মিলেছে।

ফলে হাসপাতালটিকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম মানা উচিত, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই মানছে না। প্রচুর ব্যত্যয় আছে। হাসপাতালের চারটি অস্ত্রোপচার কক্ষে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া গেছে। দেখে মনে হয়েছে, এই হাসপাতালে কোনো তদারকি নাই। যে যার মতো চালাচ্ছে। এটি শুধু হাসপাতাল নয়, একটি মেডিকেল কলেজও।

মনে হয় না যে, এখানে কোনো মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ আছে। এখান থেকে যেসব প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে সব কটিই ফেক বলে মনে হচ্ছে। একজন রোগীর ব্যবহারযোগ্য মেডিকেল সামগ্রী তিনজন রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করার প্রমাণও মিলেছে। অভিযান শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা

তানজিয়া বলেন, এই হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের যে আইসিইউতে রাখা হয়, তার পাশেই মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি, যা কাম্য নয়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও তিন হাসপাতালে জরিমানা : এদিকে রাজধানীর আরও তিনটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকে অভিযান চালিয়ে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে মালিবাগে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ লাখ, মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেসকে ছয় লাখ এবং আমেরিকা-বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে এ অভিযান চলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, রোগ শনাক্তে তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছিল না। বাড়তি মুনাফার আশায় তড়িঘড়ি রিপোর্ট

দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষায় নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। আমেরিকা-বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইসেন্স না থাকায় তাদের তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৫ দিনের মধ্যে লাইসেন্স করার নির্দেশ দেয়া হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT