সিডনির মেলব্যাগ ॥ যুদ্ধবিরোধী সিডনি ও শান্তির প্রার্থনা – বর্ণমালা টেলিভিশন

সিডনির মেলব্যাগ ॥ যুদ্ধবিরোধী সিডনি ও শান্তির প্রার্থনা

অজয় দাশগুপ্ত
আপডেটঃ ১ মার্চ, ২০২২ | ৭:০৮ 67 ভিউ
সিডনিতে ইউক্রেনের ডাক্তারদের অনেক সুনাম। সবাই জানেন তারা ভাল চিকিৎসক। ইউক্রেন যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গ তখনও আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীরা পড়তে যেতেন সেখানে। বিশেষত চিকিৎসা শাস্ত্র। আজ যখন ইউক্রেন ভয়াবহ যুদ্ধে আক্রান্ত আর সবটা ল-ভ- তখনও আমরা শুনছি বাংলাদেশী ডাক্তার আর ওপার বাংলার মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের করুণ কাহিনী। এসব কাহিনী এখন সারা দুনিয়াকে আলোড়িত করছে। সিডনি একটি বহুজাতিক মানুষের আবাসভূমি। এখানে দুনিয়ার সব দেশের মানুষ বসবাস করেন। তাই আন্তর্জাতিক মতামত কিংবা অভিমত যাই বলেন পাওয়া সম্ভব। রুশ দেশের কিছু মানুষও আছেন এখানে। রাশিয়ার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক সবসময় ওঠানামার। এই ওঠানামার কারণ হচ্ছে বিশ্বরাজনীতি। এই দেশ মূলত ব্রিটেন আমেরিকার ছায়াসঙ্গী। পররাষ্ট্রনীতিও চলে সে পথে। স্বাভাবিকভাবেই এখানকার সরকার ইউক্রেনের সঙ্গে আছে, থাকবে। ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির সক্রিয় অংশ হয়েছে এরা। এই নিষেধে রাশিয়ার কি লাভ কি লোকসান সে হিসাব হবে পরে। কিন্তু সিডনি ফুঁসছে যুদ্ধের বিরুদ্ধে। যুদ্ধ বিষয়টাই সভ্যতার বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ হুঙ্কার। সিডনি কেন তা মানবে? একটা কথা বলে রাখা ভাল- এ কারণে কিন্তু কারও বিরুদ্ধে বা কোন জাতির বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষ নেই। রাশিয়ার জনগণের জীবন এখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ। পুতিন সরকারের আগ্রাসনের নিন্দা থাকলেও রাশিয়ার জন্য নেই কোন ঘৃণা বা রাগ। এই যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে তরুণদের। তারুণ্য এমনিতেই করোনায় ক্লান্ত। সিডনি এখনও ওমিক্রনের ধাক্কায় ধুঁকছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সংগ্রামে অর্থনীতি যখন একটু একটু করে উঠে দাঁড়াচ্ছে, তখন এই যুদ্ধ ছিল একেবারেই অনভিপ্রেত। কি এর কারণ বা কে দায়ী সেটা বড় বিষয় না। বড় ব্যাপার মানুষের ভবিষ্যত। সে জায়গাটা আক্রান্ত আজ। এমনিতেই মাথা খারাপ হবার জোগাড় সকলের। কাজকর্ম জীবন সব আছে তোপের মুখে। তার ওপর আবার এই যুদ্ধ, যা মানুষকে আবার পিছিয়ে দেবে অনেক বছর। কথা বলে দেখেছি যুক্তিতর্ক সবার ওপরে মানুষ চায় শান্তি। পুতিন যা করছেন তা যেমন কেউ সমর্থন করে না, তেমনি আমেরিকার এসব ভেলকিবাজিও মানুষের অপছন্দ। কাউকে যুদ্ধের উস্কানি দেয়া বা তাকে প্ররোচিত করাও সমান অপরাধ। আমেরিকার কাজই হচ্ছেÑ যুদ্ধ প্রলম্বিত করা। বলা হয় তারা হারজিতের জন্য যুদ্ধে যায় না। যায় অস্ত্রের ব্যবসা করতে। অন্যদিকে রাশিয়া আফগানিস্তান ছাড়া আর কোন দেশ থেকে কখনও ফিরে আসেনি। তারা জিতে ফেরে এটাই ইতিহাস। কিন্তু আজ যে যুদ্ধ তার জয়-পরাজয় বড় বিষয় না। দুনিয়াকে আবারও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে এই অনভিপ্রেত সমর। অচিরেই বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ দেখছি আমরা। যতদূর জানি বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছে। নেয়াটাই স্বাভাবিক। মানুষ শান্তি আর নিরাপদ জীবনের জন্য লড়াই করবে, এটাই তো সকলের চাওয়া। সিডনির নীরব প্রতিবাদ রাশিয়ার ভাবমূর্তিকে ইতোমধ্যে বিপাকে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয় কত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হয় আর কত দ্রুত নিরাপদ বাসভূমিতে ফিরতে পারেন মানুষ। এগিয়ে যাওয়া আজকের এই দুনিয়ায় শরণার্থী বিষয় বড় বেমানান। এটা মানা যায় না। মানা যায় না বলেই খোদ রাশিয়ায়ও চলছে প্রতিবাদ। শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সেন্ট পিটার্সবার্গের রাস্তায় জড়ো হয় হাজারো রুশ নাগরিক। ইউক্রেনে রাশিয়ান আগ্রাসনের প্রতিবাদে স্লোগান দেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বলেন, যুদ্ধের পক্ষে নয় সাধারণ রাশিয়ানরা। বিক্ষোভ কর্মসূচীর দায়ে আটক করা হয় অনেককে। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ১৮০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রিসের এথেন্সে রুশ দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ জানান হাজারো বিক্ষোভকারী। ইউক্রেনের সহায়তায় এগিয়ে না আসায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা জানান তারা। রুশবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে লাতিন দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে। কিয়েভ থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয় বিক্ষোভে। ইউক্রেনের হামলার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্জিয়া, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মানুষও। আজকের পৃথিবীতে মানুষ যখন উন্নয়ন আর ভালবাসায় এক হতে চাইছে, তখন এমন হামলা আরও একবার মনে করিয়ে দেয় মানুষ কতটা অসহায়। সিডনি বা ঢাকা যে যেখানে সবার একই প্রশ্ন, একই জিজ্ঞাসা। এর শেষ কোথায়? আসলেই এর শেষ কোথায়? যুদ্ধ সংঘাত মানুষের জীবনহানি আমাদের দেশের মতো দেশের মানুষকেও উদ্বিগ্ন করে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথে ধাবমান। কিন্তু আমেরিকা চীন বা রাশিয়া যখন একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ সংঘাত এবং দ্বন্দ্বে জড়ায়, তখন বাংলাদেশও চিন্তিত হয় বৈকি। কারণ, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার আর তা মেনে চলা কারও একার কাজ হতে পারে না। সে জন্য চাই সকলের সহযোগিতা। সে জায়গাটাই এখন বিরাট প্রশ্নের মুখোমুখি। বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রসহ অনেক প্রকল্পে কাজ করছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সামরিক সরঞ্জাম, খাদ্যপণ্য ইত্যাদি আমদানি করে থাকে রাশিয়া থেকে। তাছাড়া এখন তৈরি পোশাক শিল্পের নতুন বাজার হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে রাশিয়াকে। কিন্তু ইউক্রেনের ওপর হামলার জের ধরে রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্কটের কি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর? রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় রফতানি হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য, যার মধ্যে তৈরি পোশাক সবচেয়ে বেশি। আমদানি হয়েছে ৪৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের পণ্য, যার বেশিরভাগই খাদ্যপণ্য। ইউক্রেনের সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। আছে প্রবাসী বাংলাদেশীরাও। ফলে সমীকরণ সহজ নয়। সিডনিতে আমরা নিরাপদ বা দেশের মানুষও এই যুদ্ধের আওতার বাইরে। কিন্তু থেকে যাচ্ছে গ্লোবাল বা আন্তর্জাতিক দুর্ভাবনা। যার পরিণাম টানতে হবে সমগ্র বিশ্বকে। যেভাবেই হোক শান্তি আর সহাবস্থান নিশ্চিত করাই এখন মানুষের চাওয়া। মানুষ করোনা মহামারীর ভয়াবহ তা-বে দিশেহারা। তারা কোন নতুন উৎপাত মানতে নারাজ। লেনিনের দেশকে এটা বুঝতে হবে। মানতে হবে আমেরিকাসহ ইউক্রেন বা অন্যদেরও। যত তাড়াতাড়ি শান্তি ফিরে আসে ততই মঙ্গল। dasguptaajoy@hotmail.com

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:



































শীর্ষ সংবাদ:
বেনাপোল সীমান্তে সচল পিস্তলসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার নির্মাণসামগ্রীর দাম চড়া, উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি কলম্বোতে কারফিউ জারি টিকে থাকার লড়াইয়ে ছক্কা হাকাতে পারবেন ইমরান খান? করোনায় আজও মৃত্যুশূন্য দেশ, শনাক্ত কমেছে ‘ততক্ষণ খেলব যতক্ষণ না আমার চেয়ে ভালো কাউকে দেখব’ এবার ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালাল সৌদি জোট স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালিতে যুবলীগ নেতার মৃত্যু সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র রপ্তানি করেছে মোদি সরকার বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দেওয়া নিয়ে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, এলাকা রণক্ষেত্র ইউক্রেনকে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও মেশিনগান দিয়েছে জার্মানি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে নারীকে ধর্ষণ, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৩ ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের ‘লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বজুড়ে আনবে একতা‘-শীর্ষক সভা বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁর নওহাঁটায় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন । ভূরুঙ্গামারীতে ব্যাপরোয়া অটোরিকশা কেরে নিল শিশুর ফাহিম এর প্রাণ ভূরুঙ্গামারী কিশোর গ‍্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত যশোরিয়ান ব্লাড ফাউন্ডেশন এর ৬ তম রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন বেনাপোলে পৃথক অভিযানে ৫২ বোতল ফেনসিডিল সহ আটক-২ বেনাপোল স্থলপথে স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমন নিষেধ গেরিলা যোদ্ধা অপূর্ব