ঢাকা, Thursday 23 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও আন্তরিক হতে হবে

প্রকাশিত : 10:12 AM, 4 January 2021 Monday
130 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মানবপাচার, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ-মাদকের মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। সাইবার ক্রাইম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটাকেও আমাদের দমন করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, সেগুলোও আমাদের দমন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী রবিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও লিংকের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানি

লন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকের মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা-নির্যাতনসহ নিত্যনতুন সামাজিক অপরাধ। এসব অপরাধ আরও দক্ষতার সঙ্গে দমন করতে হবে। এখন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে এবং মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। গুজব বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে সরকারপ্রধান আরও বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছেÑ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফেসবুক, বিভিন্ন ধরনের এ্যাপসের মাধ্যমে অনেক ধরনের অপরাধ; বিশেষ করে কিশোর বা উঠতি বয়সের ছেলেমেয়ে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। সেখান থেকে তাদের বের করে আনা, যাতে তারা

সুস্থ জীবনে ফিরে আসে, তার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণভাবে গুজব রটানো বা এই ধরনের কাজ যাতে করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

অন্যান্য অপরাধ দমনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি যে সহিংসতা চলছে সেটার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এসব বিষয়ে যেগুলো সামাজিক অপরাধ বা নানা ধরনের পারিপাশ্বিক অপরাধ সেখানেই কিন্তু পুলিশ অনবদ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এটাকে আরও দক্ষতার সঙ্গে দমন করতে হবে। মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম, মানব পাচার এগুলো শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিক ক্রাইম। এই ক্রাইম থেকে দেশকে রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমন করতে হবে। মাদকের হাত থেকে প্রতিটি পরিবারকে

রক্ষা করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, মাদক, যেটা আমাদের সমাজকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে, এর হাত থেকে প্রতিটি পরিবারকে রক্ষা করা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পুলিশের আইজি ড. বেনজির আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার গোলাম ফারুক, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সরকারের উর্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন। সকল বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের

জন্য সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস ‘বেস্ট প্রবেশনার’ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া বেস্ট শূটার ও বেস্ট ফিল্ড পারফর্মার মোঃ আবুল হোসাইন ও বেস্ট ইন হর্সম্যানশিপের পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয় এবং তিনি মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন। প্যারেডে ১৩ নারী অফিসারসহ ৯৭ শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং আইজিপি পুলিশ একাডেমি চত্বরে একটি করে গাছের চারা রোপণ করেন। তাঁরা শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন।

পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপর

গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, কেবল দেশে নয় এজন্য বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এটা অব্যাহত রাখা দরকার। আমি মনে করি, একটা সময় অন্তর অন্তর তাঁদেরকে প্রশিক্ষণ দিলে তারা যতক্ষণ কাজে থাকবেন তাদের কর্মদক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সে ব্যবস্থাও করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আপনারা নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা।

এসব কাজে পুলিশের শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্য পালনকালে মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আইনের

শাসন প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের সেবা দেয়া, তাদের জীবনমান উন্নত করা- এটাই হচ্ছে আমাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশকে সকলে মিলে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ যদি উন্নত হয়, তবে, গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা আপনাদের আত্মীয়-স্বজন এবং পরিবারের সদস্যরাই উপকৃত হবে। তাদের জীবন সুন্দর হবে, তাঁরাই নিরাপদে বাঁচতে পারবেন বা ভবিষ্যত বংশধরদের জীবনটা সুন্দর হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সরকারেরও সেটা দায়িত্ব।

নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী সবসময় সরকারের পাশে

রয়েছে উল্লেখ করার পাশাপাশি সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের ‘আগামীর কর্ণধার’ আখ্যায়িত করে দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি এ সময় ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদত্ত ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ অনুষ্ঠানে উদ্ধৃত করেন।

ওই ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, একটা কথা ভুললে চলবে না তোমাদের। তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ, তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্তানী শোষকদের পুলিশ নও, তোমরা জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা, জনগণকে ভালবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা। জাতির পিতার এই বক্তব্যকে প্রতিটি নবীন পুলিশ সদস্যকে চলার পথের

পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে সেভাবেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জাতির পিতার ‘আপনাদেরকে মানুষ যেন ভয় না করে। আপনাদের যেন মানুষ ভালবাসে। অনেক দেশে পুলিশকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। আপনারা শ্রদ্ধা অর্জন করতে শিখুন’ উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের জনগণের আস্থা ও ভালবাসা অর্জনে ব্রতী হওয়ারও আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর জন্য আলাদা একটা মেডিক্যাল ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সাহসী ভূমিকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতাল ছাড়াও আলাদা একটি বেসরকারী হাসপাতাল ভাড়া করে দেয়ার কথা

অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সেখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাদের হাসপাতালে এই চিকিৎসা সেবা দিতে পেরেছে। এজন্য আমি চিন্তা করি, আমাদের পুলিশে বোধহয় আলাদা একটা মেডিক্যাল ইউনিট গঠন করা একান্তভাবে দরকার। তাদের নিজস্ব একটা ইউনিট থাকুক। যারা অন্তত এই চিকিৎসা সেবাটা দেখবে। ঢাকার বাইরে পুলিশ হাসপাতালগুলোকে আরও উন্নত ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেয়া এবং থানাগুলোর সংস্কারের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন অনুষ্ঠানে।

মহামারীর মধ্যে পুলিশের বিশেষ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ যে জনগণের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছে, সেই ভূমিকার কথাও স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি শতবর্ষের পুরনো

একটি প্রতিষ্ঠান। কাজেই আমরা সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে এটাকে গড়ে তুলতে চাই। এর সার্বিক সংস্কারের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। আমাদের পুলিশ বাহিনীকে আমরা সব ধরনের আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চাই।

জরুরী সেবার হটলাইন ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ যে তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে এবং মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, এটিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কয়েকদিন আগে কক্সবাজারের হিমছড়িতে কয়েক ছাত্র আটকা পড়ে পথ হারিয়ে ফেললে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চায় এবং পুলিশ বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পুলিশের এই ৯৯৯ সেবাটা

যদি না চালু থাকত, তবে ওই ছেলেদের ভাগ্যে যে কী হতো সেটা আপনারা একবার ভেবে দেখেন। এই ধরনের জরুরী সেবা দেয়ায় পুলিশ ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছে এবং ভাল কাজ করে যাচ্ছে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমন করতে গিয়ে যে পুলিশ সদস্যরা মারা গেছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রেও পুলিশ ‘যথেষ্ট শক্তিশালী’ ভূমিকা রেখেছে। পুলিশের বাজেট ২০০৯ সালের ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠাতেও তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি এ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ,

নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্ট আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও কক্সবাজার এলাকার নিরাপত্তার জন্য দুটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করার তথ্যও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পুলিশ এ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং তদন্তে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টার, ডিএনএ ল্যাব, অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এবং আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে সংযোজিত হতে যাচ্ছে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’, যাতে অপারেশনাল ডিউটিতে অফিসার এবং ফোর্সগণ হ্যান্ডফ্রি রেখে অধিকতর

দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পুলিশের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক, আটটি বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলায় তার সরকারের পদক্ষেপ সমূহও তুলে ধরেন তিনি।

করোনার কারণে ‘মুজিববষের্’ পুলিশের জন্য গৃহীত ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর না হওয়ায় সেখানকার বাজেট গৃহহীনদের জন্য তাঁর সরকারের গৃহনির্মাণ কর্মসূচীতে ব্যয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী সকল পুলিশ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ‘মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না’ এবং ‘দেশের সকল ঘরে বিদ্যুত সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে সমগ্র দেশকে আলোকিত করায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথাও এ সময়

পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী একটি স্থবির অবস্থার সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। মৃতের সৎকার বা রোগাক্রান্তকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া বা ঘরে ঘরে রিলিফ পৌঁছে দেয়ায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্য পালনকালে মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন লাশ ফেলে চলে গেছে কিন্তু আমার পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

’৭৫-এর পর গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। নইলে ’৭৫-এর

পর গণতন্ত্র তো বন্দী হয়ে গিয়েছিল ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ছিল না। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলব, সেটি হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ বসবাস করবে, জীবনমান উন্নত হবে। মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সরকারের এটাই দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে পুলিশ বাহিনী সব সময় আমাদের পাশে আছে এবং যথাযথভাবে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT