ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সময়ের সঙ্গে বাড়ছে নতুন বইয়ের প্রকাশনা

প্রকাশিত : 08:54 AM, 25 March 2021 Thursday
84 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

নদীর স্রোতধারার মতোই বয়ে যায় সময়। সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা পেরিয়ে কেটে যায় একেকটি দিন। সেই সুবাদে বুধবার এক সপ্তাহে পর্দাপণ করল অমর একুশে বইমেলা। ইতোমধ্যেই গুছিয়ে উঠেছে প্রাণের মেলা। আর সপ্তম দিনে নতুন বই প্রকাশের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ছয় শতাধিক। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, ভ্রমণ, ইতিহাসহসহ বিবিধ বিষয় মিলিয়ে প্রকৃত সংখ্যাটি ৬৯১। এভাবেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিয়ে বাড়ছে নতুন বইয়ের প্রকাশনা। এমন বাস্তবতায় সংশ্লিষ্টজনরা বলছেন, ভাল হোক মন্দ হোক মহামারীর মেলা হওয়াটা যেমন বড় প্রাপ্তি তেমনি নতুন বইয়ের প্রকাশনা অব্যাহত থাকাও আরেক প্রাপ্তি। এতে নতুন লেখক তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রটি আরও বিস্তৃত। এই সময়ের অখ্যাত

লেখকই হয়তো একদিন পরিণত হবেন প্রখ্যাত লেখকে। আর যাদের লেখায় গভীরতা তারা সহজেই হারিয়ে যাবেন কালের গহ্বরে।

এ বিষয়ে তা¤্রলিপি প্রকাশনীর প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনি জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমানের মহামারী পরিস্থিতিতে সৃজনশীল প্রকাশনা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই বইমেলাটি প্রকাশকদের কাছেও কাক্সিক্ষত। গত এক সপ্তাহের মেলা মন্দ নয়। আমরা আশা করছি মেলার সামনের দিনগুলো আরও ভাল হবে। আর অজ¯্র বই প্রকাশের মধ্যে আমি মন্দ কিছু দেখি না। তরুণরা লেখালেখি করছে এটা তো খারাপ কিছু নয়। প্রকৃত অর্থে জাতিগত আমাদের মননের সুন্দর প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে এই সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে।।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সম্পাহে মেলায়

আসা নতুন বইয়ের সংখ্যা ৬৯১টি। এর মধ্যে গল্প ৭২টি, উপন্যাস ১১০টি, প্রবন্ধ ৫৫টি, কবিতা ২৩৪টি, গবেষণা ১১টি, ছড়া ৮টি, শিশুতোষ ১০টি, জীবনী ২৩টি, রচনাবলী ৩১টি, মুক্তিযুদ্ধ ৩১টি, নাটক ২টি, বিজ্ঞান ১০টি, ভ্রমণ ৯টি, ইতিহাস ২৫টি, রাজনীতি ৭টি, স্বাস্থ্য ৭টি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ১৫টি, রম্য ১টি, ধর্মীয় ৬টি, অনুবাদ ৭টি, সায়েন্সফিকশন ৫টি, অন্যান্য ৪০টি।

স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পর্যালোচনা সভা ॥ বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সেমিনার কক্ষে চলমান ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ বিষয়ে এক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

‘মাস্ক নেই, বই বিক্রি নেই’ স্লোগানটি বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রকাশনীর অভ্যন্তরে উৎকীর্ণ করার অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব (ভারপ্রাপ্ত) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী, ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’-এর সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ, বাংলা একাডেমির পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি শ্যামল পাল, পরিচালক নেছারউদ্দিন আইয়ুব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ।

সভায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বইমেলা চালু রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ক্রমবর্ধমান করোনা-পরিস্থিতিতে বাংলা একাডেমি, প্রকাশকবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী

বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে মেলায় আগতদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ এবং মাস্ক ব্যতীত বই বিক্রয় নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়। সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণে কেউ যেন মাস্ক ব্যতীত ঘোরাফেরা না করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত দলের পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রচার-মাইকে সচেতনামূলক প্রচারণাও চালানোর কথা বলা হয়। বিশেষে ২৬ মার্চ শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস এবং ২৭ মার্চ শনিবার সরকারী ছুটির দিন থাকায় মেলায় জনসমাগম বৃদ্ধি পেতে পারে-এ বিবেচনায় দেশের সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলায় প্রবেশ ও অবস্থানের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণার অনুরোধ জানানো হয়।

‘১৯৭১ : ফ্রন্টলাইনের সেরা আপারেশন’ : একাত্তরের রণাঙ্গনের

চিত্র মেলে ধরা এক বই ‘১৯৭১ : ফ্রন্টলাইনের সেরা অপারেশন’। তরুণ লেখক সারতাজ আলীমের লেখা বইটিতে উঠে এসেছে বাংলার মাটিতে হওয়া ভয়াবহ ট্যাঙ্ক যুদ্ধ, এ্যামবুশ, এয়ার অপারেশন, এম্পিবিয়াস রেইড, স্ট্রিট ব্যাটেল, স্পাই অপারেশনসহ ১৫টি দুর্ধর্ষ ও রোমাঞ্চকর ঘটনা। বুধবার বিকেলে সঙ্কলন গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় বইমেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ। এ সময় তিনি তরুণ লেখকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

নতুন বই ॥ বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বুধবার মেলায় এসেছে ১৯৪টি নতুন বই। এর মধ্যে কথা প্রকাশ থেকে এসেছে সন্্জীদা খাতুনের আত্মজীবনী ‘জীবনবৃত্ত’, আহমদ রফিকের

স্মৃতিকথা ‘একান্ত বিচারে বিদেশী মনীষী’। অনন্যা থেকে এসেছে মনজুরুল আহসান বুলবুলের ছড়াগ্রন্থ ‘দুই শ’ ছড়ার ঝিলিক’। অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে সুমন্ত আসলামের উপন্যাস ‘তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে’। পাঞ্জেরী থেকে বেরিয়েছে কামাল চৌধুরীর কাব্যগ্রন্থ ‘স্তব্ধতা যারা শিখে গেছে’। ঐতিহ্য থেকে এসেছে পিয়াস মজিদের কাব্যগ্রন্থ ‘মির্জা গালিব স্ট্রিট’। অনুপম থেকে এসেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের শিশুতোষ উপন্যাস ‘অপারেশন নীলাঞ্জনা’। আগামী থেকে বেরিয়েছে পান্না কায়সারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই ‘আমি ও আমার মুক্তিযুদ্ধ’। জাগৃতি থেকে এসেছে ফারুক নওয়াজের কাব্যগ্রন্থ ‘ওই পাখি নীল পাখি’। বিদ্যা প্রকাশ থেকে এসেছে মোহিত কামালের মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস ‘আত্মার বিলাপ’। নৈঋতা ক্যাফে থেকে বেরিয়েছে পরিতোষ হালদারের কাব্যগ্রন্থ

‘কাঁচের জামা’। চিরদিন প্রকাশনী থেকে এসেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ ‘মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাশ’। বিভাস থেকে এসেছে সৌমিত্র শেখরের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নজরুল’।

মেলা মঞ্চের আয়োজন ॥ বুধবার বিকেেেল বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধে সংবাদ সাময়িকপত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাফর ওয়াজেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ সেলিম এবং কুতুব আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের প্রায় চব্বিশ বছর, অল্পকিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে সংবাদমাধ্যম বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামকে সফল পরিণতিতে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিল। পূর্ববঙ্গে স্বাধীন সংবাদপত্র যাতে বিকশিত না হয়, সেজন্য পাকিস্তানী সামরিক শাসকগোষ্ঠী সংবাদপত্রের

কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছে। জনমত সৃষ্টি, জনমতের বিশ্বস্ত বাহন হিসেবে সংবাদপত্রকে জনতার সামনে উপস্থাপিত করার কাজে সাংবাদিকরা কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকরা বারংবার কারাবরণ করেছেন ও স্বৈরাচারী শাসকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, পাকিস্তানী শাসনামলে সংবাদপত্র যেমন বাঙালীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তেমনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রের ছিল গৌরবজনক ভূমিকা। আর তাই মুক্তিযুদ্ধে সংবাদপত্র ও স্বাধীনতাকামী মুক্তচিন্তার অধিকারী সাংবাদিকদের পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর কঠোর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হয়। সে সময় বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনের সমর্থক অকুতোভয় সাংবাদিকগণ ত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, পঞ্চাশ ও

ষাটের দশকে বাঙালীর আন্দোলন-সংগ্রামকে বেগবান করতে সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গণমাধ্যম হিসেবে বেতারের পাশাপাশি সংবাদপত্র বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামের চিত্রকে তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের বাইরে বিদেশী সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলেছে।

আজ লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন হাবিব আনিসুর রহমান, সুদীপ্ত সালাম, সাকিরা পারভীন সোমা।

আজকের মেলা ॥ আজ বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার অষ্টম দিন। এদিন মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বাংলাদেশের গণহত্যা ও গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন স্বদেশ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ

করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক), আহম্মেদ শরীফ এবং চৌধুরী শহীদ কাদের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

এছাড়া আজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের কালরাত্রি স্মরণে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১মিনিট পর্যন্ত ‘ব্লাক আউট’ কর্মসূচী পালন করা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT