ঢাকা, Wednesday 22 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ লুট বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ দাবি

প্রকাশিত : 11:48 AM, 15 October 2020 Thursday
40 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

ইলিশের প্রজনন সুবিধার্থে বুধবার থেকে পরবর্তী ২২ দিন বিভিন্ন জেলার নদ-নদী ও মোহনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু এ সময়ে প্রতিবেশী দুই দেশের ফিশিং বোট ও ট্রলার যাতে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে ঢুকে মৎস্যসম্পদ লুট করতে না পারে সে বিষয়ে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিশিং বোট মালিক ও মাঝিমাল্লারা মৎস্যসম্পদ লুটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশ যে সমুদ্রসীমা অর্জন করেছে তা থেকে সরকার যখন সমুদ্র অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জোরালো ভূমিকা নিয়েছে, তখন এর সঙ্গে প্রয়োজন সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। নতুন অর্জিত সমুদ্রসীমায় দেশীয় ফিশিং বোটের মাঝিমাল্লা ও ট্রলারের

নাবিকরা এখনও মৎস্য আহরণ শুরু করতে পারেনি আধুনিক বিভিন্ন উপকরণ না থাকার কারণে। ফলে ওই এলাকায় অনাহরিত রয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ মৎস্যসম্পদ। যা বিভিন্ন সময়ে লুট হয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় মা মাছ সংরক্ষণে বুধবার থেকে আগামী ২২ দিনের জন্য দেশের ৩৬ জেলায় ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুম হিসেবে আগামী ৪ নবেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বিষয়টি কার্যকর থাকবে। এ সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের এক বছর থেকে দুই বছরের সশ্রম কারাদ- অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দ-ে দ-িত করার বিধান করা

হয়েছে।

এদিকে এ সিদ্ধান্ত বলবত হওয়ার আগেই বিপুলসংখ্যক ফিশিং বোট ও ট্রলার সাগর থেকে উপকূলে ফিরে এসেছে। চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট, মাঝিরঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে এখন শত শত ফিশিং বোট নোঙ্গর করে আছে। এ অবস্থা খুলনা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলজুড়ে। এ ২২ দিন ইলিশ আহরণকারী জেলেরা বেকার থাকবে বিধায় ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় প্রতি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হবে।

অপরদিকে, ২০১৩ সালে মিয়ানমার ও ২০০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এসেছে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি সামুদ্রিক এলাকা। এ এলাকায় এখনও বাংলাদেশী জেলেরা মাছ ধরার ক্ষেত্রে ব্যর্থ

হয়ে আছে। এ বিষয়ে অভিযোগ দুটি। প্রথমত, এত বিশাল গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশী জেলেদের উন্নতমানের মাছ ধরার ইঞ্জিনবোটসহ অন্য উপকরণাদি নেই। দ্বিতীয়ত, এসব এলাকায় মাছ ধরতে গেলেই প্রতিবেশী দুই দেশের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, ফলে দেশীয় জেলেরা সেখানে এখনও মাছ ধরা বলতে গেলে শুরুই করতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সূত্রে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, যে বিশাল পরিমাণ সামুদ্রিক এলাকা দেশের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তা ক্ষেত্র বিশেষে আরেকটি বাংলাদেশের সমান। সরকার ইতোমধ্যে সমুদ্র অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে ব্লু ইকোনমি সেল নামের স্বতন্ত্র একটি সংস্থা। সমুদ্র সম্পদ আহরণে গবেষণার ওপর জোর দিয়েছে ব্লু ইকোনমি সেল।

সংশ্লিষ্ট

সূত্র জানায়, ব্লু ইকোনমি জাতীয় অর্থনীতির অমিত সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। সে কারণে সরকার ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকা (ইইজেড) এ গভীর সমুদ্র ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা ও সমজাতীয় মাছের অবস্থান যাচাই ও আহরণে ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এ পাইলট প্রকল্প শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় থাকবে তিনটি লং লাইনার ফিশিং ভেসেল ক্রয় ও পরিচালনা, টুনা ও সমজাতীয় প্লাজিক মাছ আহরণ ও গভীর সমুদ্রে আহরণের কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জানিয়েছে, মূলত তিন কারণে এ প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে।

প্রথমত, গভীর সমুদ্রে দেশীয় জলসীমায় টুনা ও সমজাতীয় মাছের প্রাপ্যতা যাচাই ও আহরণে বেসরকারী বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। দ্বিতীয়ত, গভীর সমুদ্রে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনাহরিত টুনা ও সমজাতীয় মৎস্য আহরণের মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা, তৃতীয়ত, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

ফিশিং বোট মালিক ও জেলেদের সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে পাওয়া ভারত ও মিয়ানমারের ইতিপূর্বেকার মালিকানার ওই অংশে এখনও প্রবেশ করতে পারেনি। মৎস্য আহরণ তো দূরের কথা, দেশীয় ফিশিং বোট ও ট্রলার এসব এলাকায় গিয়ে মৎস্য আহরণে সক্ষম হলেও প্রতিবেশী দুই দেশের সমুদ্র পাহারায় নিয়োজিতদের দ্বারা প্রায়শ আক্রান্ত হয়ে

থাকেন। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনী বাংলাদেশী ফিশিং বোট বা ট্রলার দেখলেই গুলিবর্ষণ করতে থাকে বলে মাঝিমাল্লাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বোট মালিক ও মাঝিমাল্লাদের পক্ষে আবেদন করা হয়েছে, ইলিশের কারণে সমুদ্রে তারা আগামী ২২ দিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন। কিন্তু এ সময়ে প্রতিবেশী দুই দেশের ফিশিং বোট ও ট্রলারের উৎপাত বাড়বে নিঃসন্দেহে। ঝাঁকে ঝাঁকে তাদের ট্রলার ও ফিশিং বোট সমুদ্রসীমানায় ঢুকে দেশের মৎস্যসম্পদ লুটে নিয়ে যাবে। এ বিষয়ে সমুদ্রসীমা পাহারা আরও কঠোর করার পক্ষে তারা মত দিয়েছেন।

এদিকে বুধবার কোস্টগার্ডের পূর্ব জোন জোনাল কমান্ডার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০ পরিচালনায় কোস্টগার্ড

তৎপর রয়েছে। কোস্টগার্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় জনসচেতনতা তৈরি করতে ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানা প্রচার চালানো হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT