ঢাকা, Sunday 26 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সকালের মলিনতা মিলিয়ে গেল বিকেলে

প্রকাশিত : 08:30 AM, 3 April 2021 Saturday
120 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

সাতচল্লিশের দেশভাগ এবং একাত্তরের স্বাধীনতাকে উপজীব্য করে বিন্যস্ত হয়েছে দুই চরিত্র। কিছু লোভী মানুষের স্বার্থের বেড়াজালে বার বার বিনষ্ট হয়েছে দেশভাগ ও স্বাধীনতার উদ্দেশ্যটি। সেই সূত্র ধরে ভূমি দখলের চিত্রকে মেলে ধরে এগিয়েছে উপন্যাসটির ক্যানভাস। হরিশংকর জলদাসের লেখা কুন্তীর বস্ত্রহরণ নামের উপন্যাসের এই ভূমিকাটুকু পড়ার পর সেটি সংগ্রহ করলেন তাহমিনা রহমান। শুক্রবার ছুটির দিনের বিকেলে বইমেলায় এসেছিলেন এই পাঠক। কথাপ্রকাশের প্যাভিলিয়ন থেকে বইটি নেয়ার পর কথা হয় এই কর্মজীবী নারীর সঙ্গে। আলাপচারিতায় বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাসনির্ভর উপন্যাস পড়তে ভাল লাগে। তাই বইটা কিনে নিলাম। এছাড়া আরও কিছু বইয়ের তালিকা নিয়ে এসেছি। স্টলে স্টলে ঘুরে সেগুলোর সন্ধান

করব। ইচ্ছে ছিল সন্ধ্যার পর মেলায় আসব। মেলায় আসার জন্য সেটাই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময়। কিন্তু বইমেলার নতুন সময়সূচী অনুযায়ী সেই সুযোগটি বন্ধ হয়ে গেছে। পত্রিকার প্রতিবেদনে দেখলাম, সন্ধ্যা ছয়টার পর নাকি মেলায় প্রবেশ করা যায় না। আমাদের মতো চাকরিজীবীরা চাইলেও এখন আর অফিস শেষ করে মেলায় আসতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ছুটির দিনই একমাত্র ভরসা।

তাহমিনা রহমানের মতো এমন অনেকে বইপ্রেমী বিকেলের পর থেকে ভিড় জমিয়েছেন প্রাণের মেলায়। শুক্রবার ছিল অমর একুশে বইমেলার ষোলতম দিন। এদিন সকাল এগারোটা থেকেই খুলে গেছে মেলার দুয়ার। তবে প্রবেশদ্বার খুললেও সেই সময়টিতে আসেননি পাঠক থেকে দর্শনার্থী। সমবেত হননি নবীন কিংবা প্রবীণ

লেখকের দল। করোনাকালে শিশু প্রহর না থাকায় চোখে পড়েনি বইকে ঘিরে খুদে পাঠকদের মুখরতা। চৈত্র মাসের প্রখর রোদঝরা মধ্যাহ্ণে মেলাজুড়ে বিরাজ করেছে শূন্যতা। অলস সময় পার করেছে বিশাল কাঠামোর প্যাভিলিয়ন থেকে নানা আকৃতির স্টলগুলো। পাঠক বা দর্শনার্থী না থাকায় ছিল না কোন ব্যস্ততা। এমন আলসে দিনের বিকেলে বদলে যায় মেলার দৃশ্যপট। সকালের মলিনতা মিলিয়ে গিয়ে এসেছিল রঙিন বিকেল। সাড়ে চারটার পর থেকেই বাড়তে থাকে জনসমাগম। গল্প-উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধসহ বিবিধ বিষয়ক বইয়ের সঙ্গে কেটেছে গ্রন্থানুরাগীদের সুন্দরতম সময়। প্যাভিলিয়ন থেকে প্রতিটি স্টলে ছিল কম-বেশি বইপ্রেমীদের পদচারণা। বইয়ের বিকিকিনির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রান্তরে বয়ে যায় প্রাণ প্রবাহ।

তরুণ থেকে প্রবীণ লেখকরা সময় কাটিয়েছেন পাঠকের সান্নিধ্যে। বই কেনা শেষ করে অনেকেই ঢুঁ মেরেছেন চায়ের দোকান থেকে ফুডকোর্টে। মাঠের মাঝে স্থাপিত বাঁশের বেঞ্চিগুলোয় জমে উঠেছিল আড্ডা। সুদৃশ্য প্যাভিলিয়নে সামনে দাঁড়িয়ে কেউ বা তুলেছেন সেলফি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত বিরাজ করেছে এই চঞ্চলতা। তবে মেলার নতুন সময়সূচী না জানায় এদিনও ছয়টার সময় মেলায় এসে প্রবেশ করতে না পেরে আক্ষেপ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেকেই।

বসন্ত বিকেলে কথা হয় নালন্দা প্রকাশনীর প্রকাশক রেদওয়ানুর রহমান জুয়েলের সঙ্গে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, সারাদেশে এখন বিসিকসহ অর্ধশত উন্নয়নবিষয়ক মেলা চলছে। অথচ সবকিছু বাদ দিয়ে বইমেলার ওপর নেমে এলো কঠোরতা। চৈত্র মাসের গরমে

সাধারণত বিকেলের আগে কেউ মেলায় আসেন না। আর সন্ধ্যার পর থেকেই পাঠক-দর্শনার্থীতে পরিপূর্ণতা পায় বইমেলা। অথচ সন্ধ্যা ছয়টায় প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে কর্মজীবী পাঠকের মেলায় আসার পথটি বন্ধ করে দেয়া হলো। করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই এবার মেলায় জনসমাগম অনেক কম। এতে প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তার ওপর নতুন সময়সূচী আরোপ করে সেই ক্ষতির পরিমাণকে আরও বাড়িয়ে দেয়া হলো।

বিকেলে মেলা মাঠে দেখা হয় মোস্তফা কামালের সঙ্গে। আলাপচারিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এই লেখক বলেন, বইমেলার আসল সৌন্দর্যটি ধরা দেয় সন্ধ্যার পর। অথচ লেখক, প্রকাশকসহ কারও সঙ্গে কোনরকম আলাপ না করেই সন্ধ্যাতেই সমাপ্তির টানার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি।

এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রয়োজনে তিনটায় শুরুর পরিবর্তে বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা চালু রাখা উচিত।

এদিকে পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের সম্মিলনে সজ্জিত বইমেলার সৌন্দর্যের উল্টোপিঠে উদাসীনতার দেখা মিলছে। মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ বয়ে গেলেও অনেকেই মাস্ক ছাড়াই ঘোরাঘুরি করছেন মেলায়। মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলো। এদিন মাস্ক ছাড়াই ঘুরতে দেখা গেছে বেশ কিছু তরুণকে। মাস্ক না পরার কারণ জিজ্ঞেস করলে হাস্যকর যুক্তি দিয়ে কেউ কেউ বলেছেন, গরমের কারণে মুখে চাপানোর পরিবর্তে পকেটে রেখে দিয়েছেন।

নতুন বই : শুক্রবার একুশে বইমেলার ১৬তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৯৯টি। এর মধ্যে গল্পের বই

৩৩টি, উপন্যাস ৩৭টি, প্রবন্ধ ৭টি, কাব্যগ্রন্থ ৫৪টি, গবেষণা ৯টি, ছড়ার বই ৪টি, শিশুসাহিত্য ১টি, জীবনী ৪টি, রচনাবলী ৩টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়বক ৬টি, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ৪, ইতিহাস ২, রাজনীতি-১, স্বাস্থ্যবিষয়ক ২, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ২, রম্য/ধাধা ১টি, ধর্মীয় ৩টি, অনুবাদ ১টি, সায়েন্স ফিকশন দুটিসহ অন্যান্য বিষয়ে বই বেরিয়েছে ২১টি। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে অনুপম প্রকাশনী এনেছে আনিসুল হকের ‘ভয় নয়, জয় দেখান’। আগামী প্রকাশনী এনেছে আসাদ চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ’। ময়ূরপঙ্খি এনেছে মঞ্জু সরকারের ‘খোকা সব পারে’। কথাপ্রকাশ এনেছে আহমদ রফিকের ‘একান্তবিচারে বিদেশি মনীষা’। অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে খালেক বিন জয়েনউদদীনের ‘বঙ্গবন্ধু ও রাসেলের গল্প’, মোশতাক আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাজারবাগ’ ও আসলাম সানীর ‘বাংলাদেশের

কনিষ্ঠ ভূমিপুত্র শেখ রাসেল’। অক্ষর প্রকাশনী এনেছে সুজাতা আজিমের ‘চলচ্চিত্রে আমার ৫৫ বছর’। দ্য পপ আপ ফ্যাক্টরি এনেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘ব্যাঙ আর বনের পশু’। রেনেসাঁ এনেছে প্রত্যয় জসীমের ‘ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিপ্লব’। শিকড় এনেছে রেজাউদ্দিন স্ট্যালিনের ‘একুশের দিনগুলো’ ।

আজকের মেলা : আজ শনিবার বইমেলার ১৭তম দিন। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT