শীতের অর্থনীতিতে বইছে গরম হাওয়া – ডোনেট বাংলাদেশ

শীতের অর্থনীতিতে বইছে গরম হাওয়া

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৬:৩০ 62 ভিউ
করোনার ধকল কাটিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে। শীতের সঙ্গে জড়িত খাতগুলোও ফিরছে সেই আগের রমরমা অবস্থায়। সারা দেশের শপিংমল, বিপণিবিতান, মার্কেটসহ ফুটপাতে শীতকেন্দ্রিক বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা এখন তুঙ্গে। এসব স্থানে গড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার শীতবস্ত্র বিক্রি হবে। গ্রামে কম্বলের লেনদেন হবে হাজার কোটি টাকা। কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাও বেশ ভালো। কৃষিতে শীতকালীন সবজি কৃষক পর্যায়ে হাতবদল হবে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। পর্যটনের পালে লেগেছে গরম হওয়া। এ খাতে আয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। শীতের পিঠাপুলির ব্যবসা জমজমাট। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। চাকরিজীবীদের অনেকেই বছর শেষে ছুটি নিয়ে ঘুরতে বের হন। সাগর বা পাহাড়ে ভ্রমণের পাশাপাশি শহর থেকে গ্রামেও ফেরেন অনেকে। এ সময় ব্যাংকের চেয়ে মানুষের হাতে নগদ টাকা বেশি। সব মিলে শীতকেন্দ্রিক অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। এদিকে করোনার নতুন ভাইরাস ওমিক্রনে সংক্রমণ ইউরোপের দেশগুলোয় দ্রুত ছড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, শীতকালকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শীতের পরও যাতে অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যেও কাজ চলছে। করোনার আর কোনো বড় আঘাত না এলে অর্থনীতির চাকা গতিশীলই থাকবে বলে তারা আশা করছেন। অর্থনীতির সূচকগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপ্রত্যাশিত কোনো আঘাত না এলে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় শীতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি সচল থাকে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকে শীত। এ সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলো বেশি বাস্তবায়ন হয়। পর্যটন শিল্প থাকে দারুণ চাঙা। শীতবস্ত্রের ব্যবসা থাকে জমজমাট। এ মৌসুমের অন্যতম উপকরণ খেজুর রস, পিঠা-পায়েস, মুড়িমুড়কির দোকান বসে ফুটপাতে। জমে ওঠে কৃষি অর্থনীতিও। এসব মিলে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের হার বেড়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারিতে মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়। তবে ডিসেম্বরের শেষদিকে ব্যাংকগুলো তাদের আমানতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আমানত সংগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ডিসেম্বরের শেষদিকে ব্যাংকবহির্ভূত মুদ্রা কমে যায়। অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকবহির্ভূত মুদ্রা বাড়ে ১১ শতাংশের কাছাকাছি। ডিসেম্বরের শেষদিক থেকে জানুয়ারির প্রথম ২-৩ দিন এটি কম থাকে। পরে আবার তা বেড়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। শীতের অর্থনীতির বড় একটি উপকরণ হচ্ছে পর্যটন। পর্যটকদের পদভারে মুখর থাকে কুয়াকাটা, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা। এ খাত থেকে শীত মৌসুমেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আয় হয়। শুধু কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্পটে ছুটির দিনগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ পর্যটন অবস্থান করেন। প্রায় ৫০০ আবাসিক হোটেল ও ৪০০ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এগুলোর ওপর ৮০-৮৫ ভাগের অধিক পর্যটক নির্ভরশীল। অন্য সময়ে ১ লাখের মতো পর্যটক অবস্থান করেন। ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ৪ দিনে কক্সবাজারে ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। একই অবস্থা কুয়াকাটার। এ দুই এলাকার এটিএম বুথগুলোয়ও টাকা তোলার চাপ বাড়ে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতিদিন ৬টি জাহাজ চলাচল করে। এগুলোয় ৩ হাজার পর্যটক যেতে পারেন। আবাসন ব্যবস্থা আছে ৩ হাজারের মতো। ফলে দ্বীপের অর্থনীতিও এখন চাঙা। ঢাকা থেকে বাসের পাশাপাশি বিমানেও পর্যটকরা কক্সবাজার যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে তিনটি বিমান সংস্থার প্রতিদিন ২০ থেকে ২৪টি ফ্লাইট চলে। এগুলোয় ৪ হাজারের বেশি যাত্রী আসা-যাওয়া করতে পারেন। গত সাড়ে ১০ মাসে কক্সবাজারের পর্যটন খাত থেকে আয় হয়েছে হাজার কোটি টাকারও বেশি। পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এ আয় আরও বেড়ে যায়। এদিকে কক্সবাজার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইতঃপূর্বে অক্টোবর পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। গেল বছর করোনাকালীন সময়ে আদায় হয়েছে ২৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কক্সবাজার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস জানান, কক্সবাজারে ভ্যাটের তালিকাভুক্ত আবাসিক হোটেল রয়েছে ৩০৯টি, রেস্টুরেন্ট ২১৫টি। কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পর্যটন খাত থেকে শীত মৌসুমে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। এদিকে কক্সবাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানেও বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট আয়। রাঙামাটি আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতা ইমতিয়াজ সিদ্দিক জানান, করোনার কারণে পর্যটনের সব সেক্টর মিলে ২৫-৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও বর্তমানে শুধু রাঙামাটি থেকেই কয়েকশ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক যাচ্ছেন বান্দরবানে। নীলাচল, নীলগিরি, দামতুয়া ঝরনাসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। পাহাড়ের প্রায় সব উপজেলায়ই থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। শুধু বান্দরবান শহরে দিনে গড়ে দেড় হাজার পর্যটক থাকেন। ছুটির দিনে এ সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ৩ দিনের ছুটি পড়লে ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সিলেট শহরেও পর্যটকদের কমতি নেই। শীত মৌসুম সামনে রেখে সারা দেশে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের ব্যবসা। রাজধানীর ও এর আশপাশের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোয় বেচাকেনা জমে উঠেছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলোয় বেচাকেনা এখনো জমজমাট। শিশুদের জন্য বাহারি রঙের সোয়েটার, ছেলেদের জন্য জ্যাকেট থেকে শুরু করে ব্লেজার, মেয়েদের জন্য হাল ফ্যাশনের শীত পোশাক-সবই তৈরি হচ্ছে সেখানে। কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, করোনাকালে দেড় বছরে ব্যবসায়ীদের হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যবসায়ীরা কাজ করছেন। করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলে এ শীতে দেড় হাজার কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী। এ ব্যবসায় কেরানীগঞ্জের পরেই রয়েছে বঙ্গবাজার। এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাকের পাশাপাশি আমদানি করা পোশাকও পাওয়া যায়। পাইকারি ও খুচরা দুভাবেই বিক্রি হয়। এমনকি নেপাল ও ভুটানের ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে শীতবস্ত্র কিনে নিজ দেশে বিক্রি করছেন। বিদেশিদের কাছেও শীতবস্ত্রের জন্য বঙ্গবাজারের বেশ খ্যাতি রয়েছে। তাদের কাছে এটি ‘চিপেস্ট মার্কেট’ বলে পরিচিত। অর্থাৎ এখানে সবচেয়ে কম দামে পণ্য পাওয়া যায়। এ বাজারও জমে উঠেছে। দেশের সবচেয়ে অভিজাত ও বৃহত্তম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও শোরুমগুলোয়ও রয়েছে শীতের হরেক রকমের পোশাক। ক্রেতা আকর্ষণে অনেকে বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছেন। এখানে স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের পাশাপাশি আমদানি করা বিলাসবহুল পোশাকও মিলছে। বগুড়ার আদমদীঘি ‘কম্বলের গ্রাম’ খ্যাত। এখানে নশরতপুরের শাঁওইল ও আশপাশের এলাকায় ঝুট কাপড় থেকে সুতা, শাল, চাদরসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্রের ব্যবসা চাঙা। বছরে এ শিল্পে সুতা ও শীতবস্ত্র থেকে আয় হয় হাজার কোটি টাকার বেশি। সেখানে অর্ধেক নারীসহ কাজের সুযোগ হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। প্রতিদিন এ বাজারে এক কোটি ৮০ লাখ টাকার ঝুট কাপড় বা সুতা আসে। মাসে বিক্রি হয় ৫৪ কোটি টাকা। বছরের হিসাব দাঁড়ায় ৬৪৮ কোটি টাকা। ঝুট থেকে উৎপাদিত সুতা বিক্রি হয় ৬৩০ কোটি টাকা। মোট লেনদেন এক হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। এসব মিলে এ এলাকায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শীতের বিভিন্ন ধরনের লোশন ও পারফিউমের ব্যবসাও থাকে চাঙা। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলো নানা নামে নতুন নতুন ক্রিম, লোশন ও পারফিউম বাজারে ছেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব পণ্যের আমদানিও বেড়েছে। প্রতিবছর গড়ে ১০৫ থেকে ১২০ কোটি টাকার পারফিউম আমদানি হয়। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই আমদানি হয় শীতকে কেন্দ্র করে। শীতের অর্থনীতির অন্যতম উপকরণ খেজুরের রস। এটি দিয়ে নানা রকমের পিঠা ও খাবার তৈরি করে বিক্রি হয়। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও এগুলোর পসরা মেলে। যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, রাজশাহী অঞ্চল খেজুরের রসের জন্য বিখ্যাত। খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড়ের চাহিদা ব্যাপক। কৃষিবিদদের মতে, সাধারণত অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা যায়। একজন গাছি প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০টি গাছ কাটতে পারেন, যা থেকে ৩০-৩৫ মন গুড় তৈরি হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, শুধু রাজশাহীতে ২০০ কোটি টাকার খেজুরের গুড় উৎপাদন হয়। যশোর ও সাতক্ষীরায় এক মৌসুমে খেজুরের রসকেন্দ্রিক প্রায় হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। এটি চলে মার্চ পর্যন্ত। কুষ্টিয়া, নড়াইল, ঝিনাইদহ, পাবনা, নাটোরেও খেজুরের রসকেন্দ্রিক ভালো বাণিজ্য হয়। সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে ৫ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯৫ ধরনের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। ৩০-৩৫টি সবজিই বেশি উৎপাদন হয়। এর অধিকাংশই শীতে। কৃষক পর্যায়ে এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। পাইকারি ও খচরা পর্যায়ে আরও ৩-৪ গুণ বেড়ে যায়। শীতের সবজির ওপর নির্ভরশীল দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ। এছাড়া নরসিংদী, ময়মনসিংহ এলাকায়ও ব্যাপক সবজি উৎপাদন হয়। শীতকালে সবজিকে কেন্দ্র করে এসব অঞ্চলের অর্থনীতিও চাঙা হয়ে ওঠে। আউশ ও আমন দুটি ধানই শীতের সঙ্গে যুক্ত। আমন ধান শীতের শুরুতে বাজারে আসে। বোরো শীতের শেষদিকে রোপণ করা হয়, যা গ্রীষ্মের শুরুতে বাজারে ওঠে। চলতি অর্থবছরে ৪ কোটি ৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি টনই উৎপাদন হবে আমন ও বোরো। ধানচাষ, কাটাকে কেন্দ্র করে চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ। এছাড়াও শীতে গম ও ভুট্টার আবাদ হয়। চলতি অর্থবছরে ১৩ লাখ টন গম ও ৪৯ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেখা যায়-শীতে ধান, গম ভুট্টা, সবজির উৎপাদন, বিপণন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ লোকের খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান হয়। দেশের মোট শ্রমশক্তির মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৪০ দশমিক ৬, নির্মাণ খাতে ৫ দশমিক ৫৮ ও পর্যটন খাতে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। শীতে এসব খাতের কর্মীরা কাজের ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন। ফলে তাদের আয় বাড়ে। শীতে আবহাওয়া ভালো থাকে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। এই সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন বেড়ে যায়। বিভিন্ন মেলা হয়, মানুষ ভ্রমণ করে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। বৃদ্ধি পায় উৎপাদন, বাড়ে চাহিদাও। বাজারে নতুন চাল ও শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ার কারণে দামও কিছুটা কমে। ফলে মূল্যস্ফীতির হারও জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ের তুলনায় নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক অর্থবছরের শুরুতে খুব ভালো অবস্থায় থাকে না। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। পরিকল্পনা কমিশনের হিসাবে দেখা যায়, শীতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হার বেশি। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থব্যয় বাড়ে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্য সময়ে ঝড়-বৃষ্টির কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। যে কারণে অর্থছাড়ও ব্যাহত হয়। গত বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে ৫৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর বিপরীতে জুলাই থেকে অক্টোবরে ২৭ হাজার কেটি টাকা খরচ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব নূরুল আমিন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল মৌসুমই হচ্ছে শীতকাল। অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এই সময় কোনো বৃষ্টিপাত থাকে না। কোথাও পানি জমে থাকে না। এছাড়া উন্নয়ন কাজের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে ইট। শীতকালে ভাটা থেকে নতুন ইট বের হয়। দামও কিছুটা কম থাকে। ফলে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহজ হয়। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, পুরো অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয় এ শীতকালেই। এডিপির ব্যাপক অগ্রগতি হয় এ সময়টিতেই।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:



































শীর্ষ সংবাদ:
বেনাপোল সীমান্তে সচল পিস্তলসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার নির্মাণসামগ্রীর দাম চড়া, উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি কলম্বোতে কারফিউ জারি টিকে থাকার লড়াইয়ে ছক্কা হাকাতে পারবেন ইমরান খান? করোনায় আজও মৃত্যুশূন্য দেশ, শনাক্ত কমেছে ‘ততক্ষণ খেলব যতক্ষণ না আমার চেয়ে ভালো কাউকে দেখব’ এবার ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালাল সৌদি জোট স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালিতে যুবলীগ নেতার মৃত্যু সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র রপ্তানি করেছে মোদি সরকার বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দেওয়া নিয়ে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, এলাকা রণক্ষেত্র ইউক্রেনকে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও মেশিনগান দিয়েছে জার্মানি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে নারীকে ধর্ষণ, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৩ ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের ‘লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বজুড়ে আনবে একতা‘-শীর্ষক সভা বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁর নওহাঁটায় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন । ভূরুঙ্গামারীতে ব্যাপরোয়া অটোরিকশা কেরে নিল শিশুর ফাহিম এর প্রাণ ভূরুঙ্গামারী কিশোর গ‍্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত যশোরিয়ান ব্লাড ফাউন্ডেশন এর ৬ তম রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন বেনাপোলে পৃথক অভিযানে ৫২ বোতল ফেনসিডিল সহ আটক-২ বেনাপোল স্থলপথে স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমন নিষেধ গেরিলা যোদ্ধা অপূর্ব