ঢাকা, Thursday 28 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিক্ষার্থীদের আগমনে মুখরিত প্রাণের মেলা

প্রকাশিত : 09:44 AM, 23 March 2021 Tuesday
80 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল সাড়ে চারটা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভেসে বেড়ায় কোকিলের কুহু ডাক। এমন সুন্দর সময়কে সঙ্গী করে অমর একুশের বইমেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল চার শিক্ষার্থী। বিশাল পরিসরের মেলার প্যাভিলিয়নে থেকে স্টলে চলছিল তাই বই দেখাদেখি। সবার হাতেই শোভা পাচ্ছিল একটি-দুটি বই। আলাপচারিতায় জেনেই নেই তাদের পরিচয়। সাব্বির আহমেদ, তন্ময় হালদার, সৌরভ শিকদার ও পার্থ ভট্টাচার্য নামের চার তরুণ জানায়, করোনাকালে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কাটছে অলস সময়। তবে বইমেলার বদৌলতে আলসে সময়টিই হয়ে উঠেছে সুসময়। পাঠ্যবইয়ের বাইরে সৃজনশীল ও মননশীল গ্রন্থের সঙ্গে গড়ে উঠেছে নিবিড় সখ্য। পাশাপাশি ঘরবন্দী জীবনের একঘেয়েমি কেটে গিয়ে জমে উঠছে আড্ডা।

কী কী বই সংগ্রহ করলেন জানতে চাইলে তন্ময় বলেন, সায়েন্স ফিকশনের প্রতি আমার প্রবল আকর্ষণ। সেই সূত্রে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘বনবালিকা’ নামের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী কিনলাম। বাকিদের মধ্যে কেউ কিনেছেন হরিশংকর জলদাসের ‘প্রান্তজনের গল্প’, আনিসুল হকের কাব্যগ্রন্থ ‘তুই কি আমার দুঃখ হবি’, আফসান চৌধুরী সম্পাদিত ‘মুজিবনগর : কাঠামো ও কার্যবিবরণ’সহ গদ্য-পদ্যসহ প্রবন্ধগ্রন্থ।

এই চার বন্ধুর মতোই এখন বইমেলায় সরবতা ছড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে বিশ্ববদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়াদের আনাগোনায় মুখর মেলা প্রাঙ্গণ। পাঠক বা দর্শনার্থী হিসেবে তারাই রাঙিয়ে তুলেছে মেলা। আড্ডা থেকে বইয়ের বিকিকিনিÑসবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন তার।

এ প্রসঙ্গে তাম্রলিপি প্রকাশনীর প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনি জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের প্যাভিলিয়নে

যত বই বিক্রি হচ্ছে তার বেশিরভাগই সংগ্রহ করছে শিক্ষার্থীরা। সৃজনশীল থেকে মোটিভেশনালÑসব ধরনের বইয়ের তাদের ঝোঁক রয়েছে। আর কেউ বই না কিনলেও জমজমাট গল্প-আড্ডায় মাতিয়ে রাখছে। সেই তুলনায় মহামারীর এই অসময়ে মেলায় পেশাজীবী মানুষের তেমনভাবে চোখে পড়ছে না।

সোমবার ছিল বইমেলার চতুর্থ দিন। সেই অর্থে এদিন পাঠক বা দর্শনার্থীর সমাগম ছিল স্বল্প। আলসে দুপুরের তুলনায় প্রাণের প্রবাহে বিকেল ও সন্ধ্যায় সজীব হয়েছে মেলা। অন্যপ্রকাশ, তাম্রলিপি, সময়, পাঞ্জেরী, প্রথমাসহ গুটিকয়েক বই বিতানে গ্রন্থানুরাগীদের পদচারণা নজরে পড়েছে। এছাড়া এদিন তেমন কোন প্রখ্যাত লেখককে দেখা যায়নি বইমেলায়।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসযোগ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সোমবার মেলায় নতুন বই এসেছে

১৩৯টি। সংখ্যায় এগিয়ে থাকা উপন্যাস বেরিয়েছে ২৮টি। এছাড়া নতুন গল্পগ্রন্থ এসেছে ২০টি, প্রবন্ধ ১৩টি, কবিতা ৫০টি, গবেষণাবিষয়ক ২টি, ছড়ার বই ৩টি, শিশুসাহিত্য ২টি, জীবনী ৩টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৪টি, নাটক ২টি, বিজ্ঞান বিষয়ক ১টি, ইতিহাস বিষয়ক ২টি, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ৪টি, ধর্মীয় বই ১টি এবং অন্যান্য বই ৪টি। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে বিভাস থেকে বেরিয়েছে মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ ‘পৃথিবী, তোমার দুঃখ ঘুচে যাবে’। অনন্যা থেকে এসেছে মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বাংলাদেশ চর্চা (পঞ্চদশ খ-) ও অধ্যাপক ননী গোপাল সরকারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু সমগ্র।, অন্য প্রকাশ থেকে এসেছে মৌরী মরিয়মের উপন্যাস ‘ফানুস’। কথাপ্রকাশ থেকে এসেছে শাকুর মজিদের স্মৃতিকথা বিষয়ক গ্রন্থ ‘ছাত্রকাল ট্রিলজি’।

আগামী থেকে বেরিয়েছে অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরীর বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’, মঈনুল আহসান সাবেরের উপন্যাস ‘কবেজ লেঠেল’। কথাপ্রকাশ থেকে এসেছে ঝর্না রহমানের গল্পগ্রন্থ ‘জলপরী ও নূহের নৌকা’। আগামী থেকে বেরিয়েছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের নাটক ‘হ্যাম-বেথ’, আনোয়ারা সৈয়দ হকের উপন্যাস ‘আমার রেণু’। বিভাস থেকে এসেছে মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ ‘মুজিব কবিতাসমগ্র’। অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে এসেছে দুখু বাঙালের কাব্যগ্রন্থ ‘দীর্ঘ কবিতায় পিতা তুমি’।

আজকের মেলা : এদিন বিকেলে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তারেক রেজা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাসির

আহমেদ, খালেদ হোসাইন ও মিনার মনসুর। সভাপতিত্ব করেন কবি অসীম সাহা।

প্রাবন্ধিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনানির্ভর সাহিত্যকর্ম যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে আনুষ্ঠানিকতার ঘেরাটোপ থেকে মুক্তি দিয়ে পাঠকের মগজে মুদ্রিত করে দেয়, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সৌরভ ও সমৃদ্ধিকে জীবন ও যাপনের সঙ্গে একীভূত করতে চায়। বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে উপস্থিত জনমানসে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ানো নয়, ক্ষমতার দম্ভে শেকড়ের টানকে উপেক্ষা করা নয়, মানুষ্যত্বের সকল দুয়ার খুলে দিয়ে মুক্তির আনন্দ সঞ্চারই কালজয়ী সাহিত্যের কাজ। মুক্তিযুদ্ধ-আশ্রয়ী সাহিত্য আমাদের সেই দর্পণের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, যেখানে আমরা অতীতের জীবন্ত জলছবি দেখি, বর্তমানকে ইচ্ছের অনুকূলে বিনির্মাণ করতে শিখি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলোকে বুক-পকেটে

আগলে রেখে ভাবি : ‘আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাঙালীর দীর্ঘদিনের মুক্তির আকাক্সক্ষা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। আর মুক্তিযুদ্ধের আবেগ ও চেতনাকে ধারণ করে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য নামক নতুন সাহিত্যধারা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশ যেমন নানা দিক দিয়ে দ্রুত উন্নতির শিখরে এগিয়ে চলেছে, তেমনি আমাদের শিল্প-সাহিত্যকেও সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল রেখে এগিয়ে নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অসীম সাহা বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়কে গুরুত্ব

দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত সাহিত্যের অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণ এক অনুপম সংযোজন।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন হুমায়ূন কবির ঢালী, জয়দীপ দে এবং রাহেল রাজিব।

আজকের মেলা : আজ মঙ্গলবার একুশে বইমেলার ষষ্ঠ দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল চারটায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধ ও নারী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মনিরুজ্জামান শাহীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মোহাম্মদ জাকীর হোসেন ও একেএম জসীমউদ্দীন। সভাপতিত্ব করবেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT