নিউজ ডেক্স
আরও খবর
উইন্ডিজকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ভারত
পাকিস্তান সিরিজে দেশে আসবেন সাকিব, প্রত্যাশা আসিফ আকবরের
মা হারালেন শেখ মেহেদী
দ্যা হান্ড্রেডের নিলামে বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটার, সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে মোস্তাফিজ
ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার তিন গুণ আবেদন!
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ গড়ল নতুন রেকর্ড
মেঘলার জোড়া আঘাতে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের
শততম টেস্টে ‘স্পেশাল’ সম্মাননা পাচ্ছেন মুশফিক
অপেক্ষার পালা শেষের পথে । ইতোমধ্যে ৯৯টি আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিম। তাইতো সব ঠিক থাকলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামী ১৯ নভেম্বর নিজের শততম টেস্ট খেলতে নামবেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব গড়বেন মুশফিক।
যদিও এরআগে ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন মুশফিক। খেলছেন শুধু সাদা পোশাকে। তাইতো অনেকের ধারণা, হয়তো শততম টেস্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। এরপর বিদায় বলবেন ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণকেও। কৌতূহলের জায়গাটা সেখানেই, শততম টেস্ট খেলেই কি বিদায় বলবেন মুশফিক?
তবে জানা গেছে, মুশফিক খেলা চালিয়ে যাবেন। এখনই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান না এই তারকা। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও চান, মুশফিক যেন খেলা চালিয়ে যান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে প্রথম টেস্টের পর এই ব্যাপারে কথাও বলেন শান্ত। তারা চান এমন অর্জন উদযাপন করতে।
বাংলাদেশ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার দিক থেকে আগেই শীর্ষে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। ফলে তিনিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নামছেন। সিলেটে আয়ারল্যান্ডকে ইনিংস ব্যবধানে হারানো ম্যাচটি ছিল মুশফিকের ৯৯তম টেস্ট। আগামী ১৯ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলায় হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সাবেক এই অধিনায়ক শততম টেস্ট খেলতে নামবেন।
ব্যক্তিগত মাইলফলকের ম্যাচে মুশফিককে বড় সম্মাননা দিতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেদিন মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে দাওয়াত পাবেন মিস্টার ডিফেন্ডেবলের পরিবার। এ ছাড়া ক্রেস্টসহ ক্রিকেটারদের স্বাক্ষরিত একটি ব্যাট দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। সবমিলিয়ে ১৯ নভেম্বর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম মুশফিকের বন্দনায় যে মুখরিত থাকবে সেটি বলার আর অপেক্ষা রাখে না।
ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকেরই প্রশ্ন শততম ম্যাচ খেলেই কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মুশফিক! ভক্ত-সমর্থকরা তা জানতে আগ্রহী। তবে জানা গেছে, লাল বলের ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মুশফিক কেবল টেস্ট ফরম্যাটের দরজা খোলা রেখেছেন। যা নিয়ে আইরিশদের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে জয়ের পর কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মুশফিকের শততম টেস্ট নিয়ে শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই অনেক বড় একটা অর্জন, খুবই রোমাঞ্চিত। আমি প্রথম দিনের প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম আমরা উদযাপন করতে চাই। খেলোয়াড়রা চায় ওই দিনটা বা ওই পুরো পাঁচ দিন আমরা উপভোগ করব। সম্মানের জায়গা তো আছেই। এরকম একটা অর্জন আমাদের বাংলাদেশে কখনও হয়নি। সুতরাং আমরা সবসময় আশা করি এরকম একটা মানুষকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমাদের সম্মানটুকু দেওয়া উচিত এবং অধিনায়ক হিসেবে ওই জিনিসটা করারই চেষ্টা করব।’
আগেই টি২০ থেকে অবসর নিয়েছেন মুশফিক। সমালোচনার মুখে চলতি বছর ছেড়েছেন ওয়ানডে ক্রিকেটও। শান্ত’র চাওয়া– মুশফিক যেন মিরপুরে একশতম টেস্ট খেলেই থেমে না যান। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি আশা করব মুশফিক ভাই ১০০ টেস্ট খেলার পরও যেন উনি আরও চালিয়ে যান। কারণ এরকম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আমাদের টেস্ট দলে প্রয়োজন। আমি আশা করব সেটাও যেন উনি চালিয়ে যায়।’
মুশফিকের শততম টেস্ট ঘিরে নানা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রেস্ট ও ক্রিকেটারদের স্বাক্ষরিত ব্যাট দিয়ে সম্মাননা জানানো হবে তাকে। পাশাপাশি তার এই মাইলফলকের ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে চায় বিসিবি। ম্যাচে দাওয়াত দেওয়া হবে মুশফিকের পরিবারকে।
শততম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ানরা
১. কলিন ক্রাউড্রে (ইংল্যান্ড): অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯৬৮ সালের জুলাইয়ে বার্মিংহামের অ্যাজবাস্টনে ১০৪ রান।
২. জাভেদ মিয়াঁদাদ (পাকিস্তান): ১৯৮৯ সালের ১ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, ১৪৫ রান।
৩. গর্ডন গ্রিনিজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): ১৯৯০ সালের ১২ এপ্রিল অ্যান্টিগার সেন্ট জোন্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৪৯ রান।
৪. অ্যালেক স্টুয়ার্ট (ইংল্যান্ড): ২০০০ সালের ৩ আগস্ট ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, ১০৫ রান।
৫. ইনজামাম-উল হক (পাকিস্তান): ২০০৫ সালের ২৪ মার্চ বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে, ভারতের বিপক্ষে ১৮৪ রান।
৬. রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া): ২০০৬ সালের জানুয়ারি সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২ ইনিংসেই শতরানের (১২০ ও ১৪৩*) দূর্লভ কৃতিত্বের অধিকারি।
৭. গ্রায়েম স্মিথ (দক্ষিণ আফ্রিকা): ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ওভালে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩১ রান।
৮. হাশিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা): ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি জোহান্সবার্গের ওয়ান্ডরার্স স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৪ রান।
৯. জো রুট (ইংল্যান্ড): ২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চিদাম্বরম স্টেডিয়াম চেন্নাইতে ভারতের বিপক্ষে ২১৮ রান।
১০. ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া): ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর মেলবোর্নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ২০০ রান।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।