ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

লোটে শেরিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা

প্রকাশিত : 07:12 AM, 24 March 2021 Wednesday
62 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।

মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী করমর্দন না করে দূরত্ব বজায় রেখে তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে লোটে শেরিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। তাকে স্বাগত জানানো হয় ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শেখ হাসিনা অভ্যর্থনা মঞ্চে পৌঁছালে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল গার্ড অব অনার দেয়।

গার্ড পরিদর্শন শেষে ভুটানের

প্রধানমন্ত্রীকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং তিন বাহিনীর প্রধান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেশী দেশের এই সরকার প্রধানের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। টার্মিনালের ওপরে এবং সামনে ছিল বাংলাদেশ ও ভুটানের পতাকার সজ্জা। ভিভিআইপি টার্মিনালের দুইপাশে দুই সরকার প্রধানের ছবিও স্থাপন করা হয়।

বিমানবন্দর থেকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং সরাসরি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং সেখানে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি

শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল শাহীনুল হক, ঢাকার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদারসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি লটকন ফল গাছের চারা রোপণ করার পাশাপাশি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শন

বইতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার জন্য সম্মানের বিষয়। তাদের এই ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল থাকুক।’

বেলা সোয়া ১২টার দিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। এরআগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। দর্শকদের বইতে লোটে

শেরিং লিখেছেন-‘বিদেশী শোষণের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে জনগণকে অভূতপূর্ব শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথ করে দেয়ার জন্য ভুটানের জনগণ এবং রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি আরও লিখেন- ‘তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা এখন বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন পূরণ করছেন এবং প্রতিটি উত্তীর্ণ বছরে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ এবং এর জনগণ আর সুখী হয়ে উঠছে। একজন সত্যিকারের নেতা হওয়ায় আপনাকে (বঙ্গবন্ধু) ধন্যবাদ। আমার দেশ, তোমার দেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।’

এদিকে বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে যোগ দেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। সেখানে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

সফরের দ্বিতীয়দিন আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক হবে। পরে তাদের নেতৃত্বে হবে দুইদেশের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিকেলে বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে লোটে শেরিং জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দেবেন এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। তিনদিনের এ সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকালে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশের ১০ দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা হয়েছে গত ১৭ মার্চ, জাতির

পিতার জন্মদিনে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীতে তার সমাপ্তি হবে। প্রতিবেশী পাঁচ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা বাংলাদেশের এ উদযাপনের সঙ্গী হচ্ছেন। আয়োজনের প্রথমদিন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহামেদ সলিহ, ১৯ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং ২২ মার্চ নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ঢাকায় আসবেন।

দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন শেরিং ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে ভুটানে ফিরে ২১ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডাঃ লোটে শেরিং। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি

একথা জানান।

ড. মোমেন বলেন, ঢাকা থেকে ভুটানে ফিরে ২১ দিন কোয়ারেন্টইনে থাকবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। করোনা উপেক্ষা করে তারা যে ঢাকায় এসেছেন এটা আমাদের জন্য গৌরবের। তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে আমরা কানেক্টিভিটি বাড়াতে চাই। এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তো অনেকটা আমাদের ছেলে। বাংলাদেশ থেকেই তিনি মেডিক্যালে পড়েছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT