ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রোহিঙ্গা শিবিরে আগুনের ঘটনা পরিকল্পিত, সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত : 07:00 AM, 24 March 2021 Wednesday
58 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনায় শিশুসহ ৭ রোহিঙ্গা দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। তবে রোহিঙ্গাদের দাবি এ ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার ঝুপড়িঘর, দোকান ও স্থানীয় বসতি পুড়ে ছাই হয়েছে।

একটি সূত্রমতে, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ক্যাম্পে অগ্নিকা-ের ঘটনায় ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনায় মঙ্গলবার সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে নারী-শিশুসহ নিখোঁজ আরও ৯জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে দাবি করছেন তাদের স্বজনরা। সে হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ তে উন্নীত

হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন নারী, দুইজন শিশু ও চারজন বৃদ্ধ। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে ১০ হাজারের বেশি ঝুপড়িঘর। তবে রোহিঙ্গা শিবিরে দেয়া এই আগুন পরিকল্পিত বলে তথ্য মিলেছে।

মঙ্গলবার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ সামছুদ্দৌজা নয়ন বলেন, সোমবার বিকেলে আগুনের সূত্রপাত হলে ক্যাম্প প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আগুনে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এনজিওর অফিস ও পুলিশ ব্যারাক পুড়ে গেছে। আগুনে বালুখালিতে অবস্থানরত ৪ নম্বর এপিবিএনের

ব্যারাকটিও আংশিক পুড়েছে। তবে অস্ত্র ও মূল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। আগুনে রোহিঙ্গাদের ঝুপড়িঘর ছাড়াও বেশ কিছু এনজিও অফিস, স্কুল-মাদ্রাসা পুড়েছে। উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোঃ হামিদ মাঝি জানান, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা ৭ ঘণ্টা আগুনে পুড়ে গেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় বালুখালি বলিবাজার মার্কেট। ক্যাম্পটির ৮নম্বর ব্লক থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছে রোহিঙ্গারা।

সোমবার বিকেল চারটার দিকে উখিয়ার বালুখালি ৮-ই ও ডব্লিউ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। তা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ৯ ও ১০ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কিছু কক্ষ পুড়ে যায়। রাত ১১টার দিকে আগুন

নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এতে পুড়ে গেছে অন্তত ৮ হাজার রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি কক্ষ। এছাড়াও পুড়ে গেছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাক। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক জানান, প্রাণান্ত চেষ্টার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন রাতে নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলা মুশকিল।

তদন্ত রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ দাবি বিএনপির ॥ স্টাফ রিপোর্টার জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে অগ্নিকা-ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও এই তদন্ত রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে বিএনপির বৈদেশিক যোগাযোগ কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ

চৌধুরী এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে আমির খসরু ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের সমবেদনা জানিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতি মানবিক কারণে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে যেসকল স্বেচ্ছাসেবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এসেছেন তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।

আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশে অবস্থান করা ১১ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের বৈধ নাগরিক। জোর করে তাদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা একটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে নির্মূল করার চরম বহির্প্রকাশ। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও মিয়ানমারের নাগরিক অধিকারসহ রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে ওই দেশের সরকারকে বাধ্য করাই এই সমস্যার সমাধান। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষসহ আন্তর্জাতিক মহলকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের

ওপর সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ করার আহবান জানান আমির খসরু।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT