ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রোজার আগেই দেশব্যাপী গণসংযোগের ঘোষণা ড. কামালের

প্রকাশিত : 10:17 AM, 7 March 2021 Sunday
33 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকারের নানা অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দেশ এখন দুঃশাসন ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে নিয়ে রোজার আগেই দেশব্যাপী গণসংযোগের ঘোষণা দিলেন তিনি।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলেন লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন এ সব কথা বলেন। করোনা শুরুর পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক মিডিয়ার সামনে আসলেন সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা।

দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে জনগণের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে মন্তব্য করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, এখন সামনে অগ্রসর হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

এই রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক লুণ্ঠনের প্রতিবাদে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীমন্ত্রী কামাল হোসেন বলেন, তারা নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে দেশ শাসন করছে। তাদের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস ও সমর্থন নেই। জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার অপকৌশল হিসেবে বিভিন্ন কালাকানুন জারি করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তারই অংশ বিশেষ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোকাব্বির খান এমপি, দলটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আ হ ম শফিকুল্লাহ, গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ, জানে আলম, সুরাইয়া বেগম প্রমুখ।

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও দেশব্যাপী গণসংযোগ শুরু করার লক্ষ্যে রোজার আগেই দলীয় কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়ে

কামাল হোসেন বলেন, দেশের আজ কি অবস্থা সে সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন। সব রকমের সমস্যা আজ সঙ্কট আকার ধারণ করেছে। এ সঙ্কট থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন। সঙ্কট উত্তরণে জনগণকে ঐকমত্যে আসতে হবে। যাতে সরকার বাধ্য হয় এসব জিনিসগুলো থেকে সরে দাঁড়াতে। এ অবস্থা বিরাজ করলে এখানে আমাদের সুশাসন পাওয়ার কোন উপায় থাকবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যদি মাঠে না নামি তাহলে এর থেকে উত্তরণ ঘটবে না।

প্রেসক্লাবের সামনেই গণফোরামের আরেক অংশের কর্মসূচী প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, দল থেকে বের হয়ে হয়তো আরেকপক্ষ আরেক বক্তব্য রাখতে পারে। আমি মনে করি আমার দল

সঠিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে, কাজ করে যাবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাদ দেয়ার কথা উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, ডিজিটাল আইনের কথা বলে আমাদের যেভাবে বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে তার থেকে মুক্তি দিতে হবে।

কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের তা-বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে গণফোরামের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকা-ও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা গণফোরামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এখন থেকে আমরা সারাদেশে আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসনের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলো নিশ্চিত

করার স্বপ্ন নিয়ে জনগণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জনগণের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে অর্জন করতে পারেনি। গত অর্ধশতাব্দীতে আমাদের অনেক অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে এবং মাথা পিছু আয় বেয়েছে, কিন্তু বৈষম্য কমেনি।

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল আরও বলেন, একটি চক্রের মাধ্যমে ব্যাংক লুটপাট, শেয়ার বাজার ধ্বংস এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করে এবং জনগণকে বঞ্চিত করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যখন আইন প্রণয়নে ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ অনুপস্থিত থাকে তখনই রাষ্ট্রের মালিক ও জনগণ অসহায় হয়ে পড়ে। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে পছন্দের সৎ প্রতিনিধি নির্বাচিত

করতে পারলেই আইন প্রণয়নে ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগে জনগণের ভূমিকা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আজ যারা নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে দেশ শাসন করছে। তাদের প্রতি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন নেই। জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার অপকৌশল হিসেবে বিভিন্ন কালা কানুন জারি করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তারই অংশ বিশেষ। বস্তুত দেশের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা অশুভ সিন্ডিকেটের কারণে চাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাত করা হচ্ছে।

গণফোরাম জানায়, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ও দুই লাখ নির্যাতিত মা

এবং বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজ নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে। আজ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিবর্তে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামনে অগ্রসর হওয়া ছাড়া জনগণের আর কোন বিকল্প নেই। এ রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

নিজ দলের দ্বিধা বিভক্তি নিরসনে তেমন কোন কথা বলেননি এবারের সংবাদ সম্মেলনে। তাছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগ নিয়েও কোন কথা বলেননি তিনি। তবে নেতাকর্মীদের আশা ছিল সবকিছু ছাপিয়ে ঐক্যবদ্ধ গণফোরাম নিয়ে নিজের উদ্যোগের কথা তুলে ধরবেন কামাল হোসেন। কিন্তু সেরকম কোন বক্তব্য না আসায়

গণফোরাম চূড়ান্তভাবে বিভক্তির পথে হাঁটছে তা আবারও স্পষ্ট হলো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT