ঢাকা, Monday 20 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রেল নেটওয়ার্ক ॥ উন্নয়নের মহাযজ্ঞে

প্রকাশিত : 06:20 PM, 15 September 2020 Tuesday
162 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

দেশব্যাপী রেল নেটওয়ার্কে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের মহাযজ্ঞে রেলকে আধুনিক পর্যায়ে উন্নীত করতে চলছে অবিরাম প্রয়াস। পুরো দেশকে রেল নেটওয়ার্কে আনার টার্গেট নিয়েছে সরকার। সরকার গঠন করার আগে দু’বারের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যেসব ঘোষণা দিয়েছিল তা একে একে বাস্তবায়ন করে চলেছে। রেলকে নিয়ে আমূল পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা জনমনে রয়েছে মূলত তারই বাস্তবায়নের কাজ দৃশ্যমান হতে চলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেল নেটওয়ার্কটি হচ্ছে দোহাজারি-কক্সবাজার-ঘুমধুম প্রকল্প।

বিদেশী ঋণ ছাড়াই পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ দেয়ার মতো অবিস্মরণীয় বড় বড় মেগাপ্রকল্প চলমান রেখেই এ সরকার ২০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করে

চলেছে। রেলকে নিয়ে সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেল লাইনের কাজ পরিদর্শন করেছেন রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। রবিবার আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মাণ কাজটিও পরিদর্শন করে গেছেন তিনি।

রেলসূত্রে জানানো হয়, সারাদেশে ট্রেন যোগাযোগে আড়াইলাখ কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ইত্যাদি নিয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। যুগান্তকারী এইসব পদক্ষেপ কার্যকর হলেই কয়েকটি স্থান ছাড়া প্রায় সারাদেশই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে। সূত্র জানায়, চার ধাপে প্রতিটি পাঁচ বছর মেয়াদী এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। মোট ২৩৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলছে

রেল মন্ত্রণালয়। এতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। উল্লেখ্য, রেলের উন্নয়নে ২০ বছর মেয়াদী এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে ২০১০ সাল থেকে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ, সারাদেশে ডুয়েলগেজ রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ, বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেল লাইন স্থাপন, যমুনা নদীর ওপর বাহাদুরাবাদ-ফুলছড়ি এলাকায় আরেকটি রেল সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা রয়েছে ২০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যানে। সূত্রে আরও জানা গেছে, রেলের ২০ বছরের মহাপরিকল্পনায় ২০২২ সালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার

যাবে ট্রেন। বিস্তৃতি পাবে পর্যটন শিল্প। আড়াই লাখ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে গত ১০ বছরে অর্ধেকেরও বেশি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত। ব্রডগেজের জন্য ভারতীয় ১০টি ইঞ্জিন যেমন এসেছে তেমনি কোরিয়ান ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন গত ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ডিজেল শপে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে ৫০টি ব্রডগেজ ও ১০০টি মিটারগেজ কোচ ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও ২০০ যাত্রীবাহী কোচ ক্রয় করে পাহাড়তলীর ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানায় রাখা হয়েছে। এগুলোর কমিশনিং ও লোডিং ট্রায়াল শেষ করে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

রেল ডিজির দফতর সূত্রে জানা গেছে, রেলের ২০ বছরের মহা পরিকল্পনার

তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়, ২০১১-২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ৮ বছরে ৩৩০ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ১১৩৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার রেললাইনের পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ১৭৭টি রেল স্টেশনের রিমডেলিং করা হয়েছে। ৬৪৪টি রেল সেতু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ক্রয় করা হয়েছে মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ ৩৫০টি যাত্রীবাহী কোচ। ৫১৬টি মালবাহী ওয়াগন কেনা হয়েছে ভারত থেকে। ১১৭টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে যাত্রীদের জন্য। ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে যাত্রীবাহী কোচ ও ওয়াগন উদ্ধার করতে দুটি ‘এ’ ক্লাস রিলিফ ট্রেন ক্রয় করা হয়েছে। নতুন করে ৯১টি স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। স্টিল স্ট্রাকচারের ২য়

ভৈরব ও ২য় তিতাস সেতুসহ ২৯৫টি নতুন রেল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে হাইস্পীড ট্রেন চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে শতভাগ পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করতে রেললাইন স্থাপন বা নির্মাণ কাজ চলছে। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা থাকলেও ওই রেলপথকে সংস্কারের মাধ্যমে চলনক্ষম করা হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের কাজ চলছে। ২০২২ সাল নাগাদ এই লাইনে কক্সবাজার যেতে পারবে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকসহ ওই এলাকার যাত্রীরা।

অপরদিকে, বঙ্গবন্ধু রেল সেতু প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। খুলনা থেকে মংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ কাজ

চলছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর দোহাজারী-ঘুমধুম-কক্সবাজার রেল লাইনের কাজ পরিদর্শন করেন রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। পরদিন আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন তিনি। যমুনা নদীর ওপর পৃথকভাবে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মিত হবে। এই সেতুতে ডুয়েলগেজ ডাবল লেন রেললাইন স্থাপন করা হবে। ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ফোরলেন রেললাইন স্থাপনের কাজ চলছে।

এছাড়াও সারাদেশে প্রায় ৭২৫ কিলোমিটার বিদ্যমান রেলপথের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে সার্কুলার রেলপথ কাম-রোড সেতু নির্মাণ করা হবে। ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত পাতাল রেলপথ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে এই সরকারের। এছাড়াও আখাউড়া থেকে সিলেট সেকশানে পাতাল রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে এই

মেগা প্রকল্পে। এদিকে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রাকশন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের মাধ্যমে রেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের। স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশের জনগণের টাকায় নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। যে সেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে হাত পাততে হয়নি সরকারকে। কোন ঋণ নয় সম্পূর্ণ দেশের মানুষের টাকায় নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু।

২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে তারাকান্দি পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মিত

হয়েছে। ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। খুলনা থেকে মংলা পোর্ট পর্যন্ত প্রায় ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে।

এদিকে, কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ কাজ চলছে। বিএনপি- জামায়াত সরকার আমলে বন্ধ হওয়া কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রেললাইন এলাকার জনগণের সুবিধার্থে পুনরায় চালু হয়েছে। শুধু তাই নয় দেশের জনগণের যাতায়াত সুবিধার্থে পাঁচুরিয়া থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত ২৫ মিলোমিটার রেললাইন পুনরায় চালু করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরাসরি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে যেতে দোহাজারী থেকে

১০০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে গত ১০ বছরে যুক্ত হয়েছে, ৪৬টি রেল ইঞ্জিন বা লোকমোটিভ। চায়না থেকে ২০ সেট ডেমু ট্রেন এনে যুক্ত হলেও কয়েক সেট ট্রেন পরিচালনাগত দুর্বলতার কারণে লোকো কারখানায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নাজিরহাট, দোহাজারী, কুমিল্লা ও ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও যাত্রী পরিবহন চালু রয়েছে। দোহাজারী বিদ্যুতকেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল পরিবহনে ১৬৫টি মিটারগেজ ট্যাঙ্ক ওয়াগন ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়াও ৮১টি ব্রডগেজ ট্যাং ওয়াগন যুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দেশের বিভিন্নস্থানে পণ্য পরিবহনে ২২০টি মিটারগেজ ফ্ল্যাট

সংযুক্ত হয়েছে এই সরকারের আমলে। কেনা হয়েছে ৩০টি ব্রেজভ্যান। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা থেকে কোচ বা ওয়াগন উদ্ধারে কেনা হয়েছে ‘এ’ ক্লাস একটি ব্রডগেজ ও একটি মিটারগেজ রিলিফ ট্রেন। অপরদিকে, কম্পিউটার বেইজড সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করতে এ সরকার আমলে ৬৬টি স্টেশন পরিচালনায় ও কন্ট্রোল সিস্টেম আধুনিকীকরণে কম্পিউটার বেইজড সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আরো ৩৪টি স্টেশনে নতুনভাবে এই সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT