ঢাকা, Saturday 18 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় এক ডর্জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ”

প্রকাশিত : 06:16 PM, 7 October 2020 Wednesday
68 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

রাজশাহীতে এক ডর্জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও বছরের পর বছর ধরে তারা নানা অপকর্ম করেন। যখনই নতুন কমিশনার আসেন, নিজেদের পারদর্শিতা দেখাতে অতি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। নতুন কমিশনারের মেজাজ-মর্জি বুঝে এবং লাইন সংযোগ ঠিকঠাক হয়ে গেলে তারা আবার পা’বাড়ান সেই অন্ধকার পথে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এক ডর্জনের বেশি পুলিশ কর্মকর্তার এমন কাহিনী শুধু পুলিশ নয়, মহানগরবাসীর মুখে মুখে। বিতর্কিত এসব পুলিশ কর্মকর্তার কেউ আছেন এক যুক ধরে। আবার কেউ বা আছেন, দুই যুগ ধরে আরএমপিতে ? আর দুই হাতে টাকা কামিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। অনেকেই জমি জমা কিনেছেন, আবার অনেকেই আছেন বাড়ি

কিনে বসবাস করছেন, আরো দেখা যায় অনেককেই এক থানায় চাকুরী করছেন, আর তিন থানা দুরে বৌ বাচ্চা নিয়ে আরাম আয়েশে বিলাশী জীবন যাপন করছেন। তাদের বিষয়ে দেখার কোন চক্ষু নেই। সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলার পথে এরাই বড় অন্তরায়। গোয়েন্দা সংস্থা ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া থানার এসআই আবদুল মতিন ২০০৫ সালের ৮ আগস্ট কনস্টেবল পদে আরএমপিতে যোগ দেন। ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর এসআই পদে পদোন্নতি পান। ১২ বছর আরএমপিতেই আছেন। মতিন বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

বোয়ালিয়া থানার এসআই গোলাম মোস্তফা ২০০৪ সালে কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়ে ২০০৭ সালের ২৪ মে আরএমপিতে এসে ২০১২ সালের ১৫ জুলাই

এএসআই পদে পদোন্নতি পান। চার বছর বোয়ালিয়ায় আছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, টাকা আদায়, ওয়ারেন্ট ধরে সামারিসহ আদায় বাণিজ্য ও নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। গড়ে তুলেছেন বিপুল অবৈধ সম্পদ।

বোয়ালিয়া থানার আরেক এসআই উত্তম কুমার রায় ১৩ বছর আরএমপিতে। বোয়ালিয়া থানায় ৬ বছর। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী এসআই উত্তম বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসআই সেলিম ১৯৯৫ সালে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়ে ২০০৯ সালের ১৭ জুন আরএমপিতে ঢোকেন। সেলিম এখন মতিহার থানায়। ১১ বছর আরএমপিতে। তার বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সখ্যর অভিযোগ রয়েছে।

এএসআই তবারক হোসেন ১৮ বছর আরএমপিতে। ২০০৩ সালে এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে বিভিন্ন থানা-ফাঁড়ি

ঘুরে এখন এয়ারপোর্ট থানায়। ২৮ বছরের চাকরিজীবনে ১৮ বছর আরএমপিতে। আবদুর রশিদ ১৯৯৮ সালের ২৬ মে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়ে ২০০৩ সালের ১৬ মে আরএমপিতে আসেন। ২০১৬ সালে এসআই পদে পদোন্নতি পান। পোস্টিং বাণিজ্য করে বিপুল অর্থের মালিক।

আরএমপির আরেক সামারি মাস্টার এসআই শরিফুল ১৯৯৮ সালের ৬ জুন কনস্টেবল পদে চাকরিতে আসেন। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ আরএমপিতে পোস্টিং নেন। ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর এসআই পদে পদোন্নতি পান। ২২ বছরের চাকরিজীবনে ১৭ বছর শরিফুল আরএমপিতে আছেন। ২০১৭ থেকে রাজপাড়া থানাতেই আছেন।

পুলিশের অন্য সদস্যরা বলেন, এসআই শরিফুল হচ্ছেন টাকার মেশিন। তাকে ছাড়া থানা অচল। এ কারণে কোনো ওসি

তাকে ছাড়তে চান না।
এদিকে বেলপুকুর থানার এসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাজপাড়া থানার এএসআই মাহবুব ৬ বছর রাজপাড়া থানায়। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ। একই থানার এএসআই কামরুজ্জামান, মতিহারের এসআই টিএম সেলিম, রাজপাড়ার এসআই মোতালেব, বায়া পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই হানিফ দীর্ঘদিন আরএমপিতে এবং নানান অপরাধে জড়িয়ে আছেন।

টিএসআই মনিরুল ইসলাম কেশবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ। প্রায় ২৫ বছর আরএমপিতে। গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বোসপাড়া ফাঁড়ির এএসআই ইউসুফের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ডিবির পরিদর্শক খাইরুলের বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজশাহীবাসীর দাবি কম

পক্ষে বছর অন্তে, এক থানা থেকে অন্য থানায় বদলী করা হোক। তাহলে অনেকটা দূর্নিতি কমে যাবে। স্থানীয়দের দাবী, বিশেষ করে মাদক প্রবন এলাকা বা বর্ডার এলাকার থানা গুলিতে বিশেষ নজর দিয়ে বদলী করা হোক। তবে আরএমপির নতুন কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেছেন, রাজশাহীকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT