ঢাকা, Wednesday 22 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রাজনীতিও ডিজিটাল ॥ করোনায় পাল্টে গেছে দৃশ্যপট

প্রকাশিত : 09:46 AM, 10 September 2020 Thursday
153 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

পাল্টে গেছে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে স্বাস্থ্যবিধির কারণে মাঠের রাজনীতি স্থবির। রাজনৈতিক কর্মকা- চলছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ সব দলের রাজনৈতিক কর্মকা-ই এখন চলছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন, আলোচনা সভা, সেমিনার ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী ভার্চুয়াল পদ্ধতিতেই পালন করছে রাজনৈতিক দলগুলো। বাধ্য হয়েই দলগুলোকে হাঁটতে হচ্ছে ডিজিটালের পথে। যারা এতদিন প্রযুক্তির এই সুবিধগুলো বুঝে উঠতে পারেননি তারাও এখন শিখে নিচ্ছেন ইন্টারনেট, জুম, ওয়েবিনার, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসএ্যাপ ইত্যাদি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও একদিন সকল রাজনৈতিক কর্মকা- সীমাবদ্ধ রাখবে ডিজিটাল

গণমাধ্যমে। কমবে মাঠ ঘাটের অসুস্থ প্রতিযোগিতার রাজনীতি। কমবে রাজনৈতিক সহিংসতা।

৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর এক পর্যায়ে অন্যান্য দেশের মতো করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিলে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে মানুষ ঘরবন্দী জীবন শুরু করে। জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকারী ঘোষণায় ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। এ সময় থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের রাজনীতি বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে। কয়েক মাস পর থেকে সীমিত আকারে মাঠের কর্মসূচী চালু হলেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচী ক্রমেই জোরদার হতে থাকে।

মে মাস পর্যন্ত দেশে

চিকিৎসাসেবাসহ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের না হলেও জুন মাস থেকে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ আস্তে আস্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘর থেকে বের হওয়া শুরু করেন। তখন ডিজিটাল রাজনীতির পাশাপাশি মাঠের রাজনীতি সীমিত আকারে চালু হয়। দিন যত যেতে থাকে ডিজিটাল রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন ততই জোরদার হতে থাকে। বর্তমানে বড় রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্র থেকে শুরু করে সর্বস্তরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে। ছোট রাজনৈতিক দলগুলোও বসে নেই। মাঝে মাঝে তারাও ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। এর ফলে দেশের সর্বস্তরে ডিজিটাল রাজনীতি চাঙ্গা হয়।

রাজপথে নিয়মিত সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন ও ইস্যুভিত্তিক হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী নিয়ে

ব্যস্ত থাকাই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট। মাঝেমধ্যে সরকারী ও বিরোধী দল পাল্টা কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে কখনও কখনও রাজপথ উত্তপ্ত হয়। দীর্ঘকাল ধরে এমনই ছিল দেশের রাজনীতি। দেশে করোনা মহামারী শুরুর পর থেকেই মাঠের রাজনীতির ছন্দপতন ঘটে। ছোট বড় সব রাজনৈতিক দলই ডিজিটাল মাধ্যমে সরব হয়। কখনও কখনও ডিজিটাল মাধ্যমেই এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে, আলোচনা সভা, সেমিনার, মতবিনিময় ও দলীয় বিবৃতিসহ সকল কর্মকা- এখন ডিজিটাল মাধ্যমেই হচ্ছে। এর ফলে করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে বসেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে রাজনৈতিক দলের নেতারা সহজেই বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করতে

পারছেন। এতে সময় ও অর্থ খরচও কমে গেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশকে পরিপূর্ণতা দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ডিজিটাল হওয়া সময়ের দাবি। করোনা পরিস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোকে সে সুযোগই করে দিয়েছে। এর ফলে সকল রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম চাঙ্গা হয়েছে। যা বর্তমান সরকারের ঘোষণা অনুসারে বাংলাদেশকে পুরোপুরি ডিজিটাল দেশে পরিণত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

দেশে করোনাভাইরাসের আক্রমণে এ পর্যন্ত সোয়া ৩ লাখ মানুষ আক্রান্ত ও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ মারা গেলেও প্রাণঘাতী এ রোগ সম্পর্কে ভয় কেটে গেছে। তবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ইচ্ছে করলেও সবকিছু আগের মতো করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মাঠের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে

জনসমাগম হয় বিধায় এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই কবে আবার মাঠের রাজনীতি পুরোদমে শুরু হবে তা নির্ভর করছে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর। তবে যতদিন না মাঠের রাজনীতি পুরোদমে শুরু হবে ততদিন পর্যন্ত ডিজিটাল রাজনীতি নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যস্ত থাকতে হবে।

বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো ডিজিটাল মাধ্যমেই দল পুনর্গঠনসহ সার্বিক কর্মকা- অব্যাহত রেখেছে। এজন্য অনলাইনে লাইভে এসে বক্তব্য প্রচারসহ বিভিন্নভাবে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রতিদিনই একাধিক কর্মসূচী পালন করে থাকে ডিজিটাল মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচীতে

অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য রাখেন। একইভাবে তিনি কেবিনেট মিটিংসহ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন। আর সাময়িক মুক্তি নিয়ে গুলশানের বাসায় অবস্থান করা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কৌশলগত কারণে রাজনীতি থেকে আপাতত দূরে রয়েছেন। তবে তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে স্বজন ও দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাদের মতো বিভিন্ন দলের সিনিয়র নেতারাও নিজ নিজ দলের রাজনৈতিক কর্মসূচী নিয়ে নিয়মিত সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের

উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু জনকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরামহীন প্রচেষ্টায় দেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর দেশের মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পেয়েছেন। দেশ ডিজিটাল হয়েছে বলেই করোনার সময়ও সকল দলের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘরে বসেই সবাই আজ রাজনীতিসহ সকল কর্মকা-ে অংশ নিতে পারছেন। দেশ যদি ডিজিটাল না হতো সবাই অন্ধকারে থাকতেন। ডিজিটাল রাজনীতি দেশের জন্য ইতিবাচক। তাই সব রাজনৈতিক দলই ডিজিটাল রাজনীতির সুযোগ নিয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনার কারণে মাঠের রাজনীতি না থাকলেও আমরা বসে নেই। এখন

আমরা জুম ব্যবহার করতে শিখে গেছি। অনেক নতুন এ্যাপ ব্যবহার করছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করলে যত লোক জমায়েত হয় এ্যাপসে আমরা এর চেয়েও অনেক বেশি লোক পাচ্ছি। আমরা নিয়মিতই ডিজিটাল রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছি। দলের গুরুত্বপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠান ডিজিটাল মাধ্যমেই চালিয়ে নিচ্ছি। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্কাইপিতে গুরুত্বপূর্ণ সভাগুলোতে সংযুক্ত থাকেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশে এখন পুরোদমে ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মসূচী চলছে। জাতীয় পার্টি ভার্চুয়ালি সারাদেশের সকল জেলার নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বস্তরে কমিটি পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। এ ক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতিতে ডিজিটাল রাজনীতি ইতিবাচক ভূমিকা

রাখছে। এ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় সরকারী দল আওয়ামী লীগ ডিজিটাল রাজনীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের অধিকাংশ নেতাই ডিজিটাল রাজনীতিতে বেশি সক্রিয়। এছাড়া সারাদেশেই দলের বিভিন্ন ইউনিট ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সীমিত আকারে মাঠের কর্মসূচীর পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালনে ব্যস্ত রয়েছেন।

মাঠের বিরোধী দল বিএনপিও ডিজিটাল রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ছাড়া অন্য নেতাদের তেমন সক্রিয় দেখা যাচ্ছে

না। যদিও সম্প্রতি বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল কর্মসূচী জোরদার করতে দেশব্যাপী দলের নেতার কাছে একটি চিঠি পাঠানোর পর আগের চেয়ে বেশি সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। স্থায়ী কমিটির প্রায় সকল সদস্যসহ বিএনপির ক’জন নেতাই এখন ভার্চুয়াল কর্মসূচী নিয়ে সরব রয়েছেন।

জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ (রব), ওয়ার্কার্স পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, বিকল্পধারা, বিজেপি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য, এলডিপি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিসহ ছোট-বড় ক’টি রাজনৈতিক দলই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। এসব দল নিয়মিতই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে। কখনও

বা জুম মটিং করে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশ দিচ্ছে। নাম সর্বস্ব ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো করোনা পরিস্থিতির পর প্রথমে চুপ থাকলেও এখন বিভিন্ন ইস্যুতে ভার্চুয়াল সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। দেশে করোনা ও বন্যার পর ডিজিটাল পদ্ধতিতে ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীও বিতরণ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ যাবত ৬ কোটি মানুষের মাঝে উপহার ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। দেশের আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের মাঝে শেখ হাসিনার এ মানবিক সহায়তার কারণে সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে নিজ দলের সভানেত্রী সম্পর্কে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। খালেদা জিয়ার নির্দেশে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীও আর্থিকভাবে

অসচ্ছল মানুষের মাঝে ডিজিটাল মাধ্যমে সীমিত পরিসরে হলেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। জাতীয় পার্টি ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলগুলো করোনাকালে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ ডিজিটাল রাজনীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল বাংলাদেশকে পরিপূর্ণতা দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও পুরো ডিজিটাল হওয়া দরকার। রাজনৈতিক কার্যক্রম গতিশীল করতেই তাদের কার্যক্রম বেশি ডিজিটাল হওয়া প্রয়োজন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে সক্রিয় থাকতে হবে ডিজিটাল মাধ্যমেই। বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ভিডিও কনফারেন্স, জুম মিটিংয়ে বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে হবে। জনসমাবেশ করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকায়

ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলীয় কর্মকা- চালিয়ে যেতে হবে। এজন্য সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সীমিত আকারে মাঠের রাজনীতি চালু রাখার পাশাপাশি ডিজিটাল রাজনীতি চাঙ্গা করে। প্রতিদিনই দলীয় ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেয়া সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ অধিকাংশ নেতা বাসায় বা অফিসে বসেই প্রতিদিন জুম মিটিং বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন। দলের সাংগঠনিক নির্দেশনাও যাচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। এমনকি আলোচনা সভার মতো কার্যক্রমও চলছে ডিজিটাল

প্রযুক্তিতে। এভাবেই দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে চাঙ্গা রাখা হচ্ছে।

মার্চ মাসে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকার মুজিববর্ষের জনসমাগমের সব কর্মসূচী স্থগিত করে। সেই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগও জনসমাগমের কর্মসূচী পরিহার করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেসব কর্মসূচী পালন করা যায় শুধু সেগুলোই অব্যাহত রাখে। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচী পালন করা হয় সীমিত আকারে। ফলে একেবারেই সীমিত হয়ে পড়ে মাঠের সাংগঠনিক কার্যক্রম।

ডিজিটাল মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন সভা-সেমিনার নিয়মিত আয়োজন করা হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে। এসব অনুষ্ঠানে স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের

কার্যক্রমও চালিয়ে যান। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব জেলার রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এছাড়া কেবিনেট মিটিংসহ মন্ত্রী, এমপি ও সিনিয়র সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং এবং ত্রাণ তহবিলের জন্য অনুদান গ্রহণ, সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনও তিনি এই মাধ্যমেই সারেন। মাঝেমধ্যেই তিনি দলের নেতাকর্মীদের ভিডিও কনফারেন্সে করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেন। গণভবন থেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েও তিনি বেশ ক’বার ভিডিও কনফারেন্সে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে তিনি সার্বিক কর্মকা- পরিচালনা করেন।

করোনা সংক্রমণ শুরুর পর দেশে

লকডাউন শুরু হলে কাজ হারাতে শুরু করেন স্বল্প আয়ের মানুষ। অর্থনৈতিক দুর্দশায় পতিত হয়ে তাদের জীবন ধারণ কঠিন হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ। যা সমন্বয় করা হয় জুম বৈঠক বা ডিজিটাল কনফারেন্সের মাধ্যমে। আবার করোনায় সুরক্ষা সামগ্র বিতরণের অনুষ্ঠানও চলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার জন্য জুম মিটিং করেন। মাঝেমধ্যে তারা ধানম-ি কার্যালয়ে বসে জুমের মাধ্যমে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলছেন। ওবায়দুল কাদের নিয়মিত দলের এবং মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় ব্রিফিং করছেন অনলাইনে। এছাড়া আওয়ামী লীগের

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিং, ভিডিও কনফারেন্স ও জুম বৈঠকের মাধ্যমে দল ও সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় বক্তব্য তুলে ধরছেন। করোনা পরিস্থিতিতে এবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভাও হয়েছে অনলাইনে। এছাড়া দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীও পরিচালিত হচ্ছে ডিজিটালি পদ্ধতিতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সামসুন্নাহার চাপা বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে বসেও নিয়মিত দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছি। দলের সকল কর্মকা- এখন পরিচালিত হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধাতিতে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করেছে করেছে তাঁর ছেলে ও তথ্য

প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ায় করোনা মহামারীর মধ্যে অন্যান্য কর্মকা-ের মতো রাজনীতিও সচল রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতির আগে সোয়া ২ বছর বিএনপির মূল এজেন্ডা ছিল কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু এবং ১৮ মার্চ এ রোগে মৃত্যু শুরু শুরু হওয়ার পর স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ২৫ মার্চ ৬ মাসের জামিনে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। মুক্তি পেয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে সরাসরি গুলশানের বাসা ফিরোজায় উঠেন। এর ফলে দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সক্রিয় থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের

মাঠের সাংগঠনিক তৎপরতাও বন্ধ হয়ে যায়।

২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। তখন থেকেই বিএনপি মাঠের রাজনীতি স্থগিত করে ডিজিটাল রাজনীতি শুরু করে। ৩০ মে থেকে সাধারণ ছুটি শেষে সরকারী-বেসরকারী অফিস সীমিত আকারে খুলে দেয়া হলেও বিএনপি দল পুনর্গঠন, সাংগঠনিক তৎপরতা, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সভা-সমাবেশ কর্মসূচী স্থগিত রাখে। তবে জুন মাস থেকে সীমিত আকারে ত্রাণ তৎপরতা ও মাঝে মধ্যে ঘরের বাইরে কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন, আলোচনা সভা ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় জোরদার করতে থাকেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ক’জন নেতা।

আর বাকি নেতা নীরবে ঘরে বসে সময় পার করেন। তবে পরবর্তীতে আস্তে আস্তে দলের আরও কিছু নেতা ভার্চুয়াল কর্মসূচীতে সক্রিয় হয়।

বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা মাঝে মাঝে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় কিছু নেতাকর্মী জড়ো হয়ে সীমিত আকারে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করলেও অধিকাংশ কর্মকা-ই পালন করেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বর্তমানে করোনা ভীতি কিছুটা কেটে গেলে বিএনপির সর্বস্তরে ডিজিটাল রাজনীতি চাঙ্গা হয়। শীঘ্রই ভার্চুয়াল মাধ্যমে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করতে যাচ্ছে বিএনপি। এজন্য কূটনীতিকদের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জানান, রাজনীতির নতুন মাঠ এখন

ডিজিটাল মাধ্যম। এ মাধ্যম রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। অন্য সবকিছুর মতো করোনার কারণে পরিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী ছোঁয়া লেগেছে রাজনীতিতেও। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া। এ সংযুক্তির উদ্দেশ্য নিজ দলের চিন্তা, পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া। কিভাবে সে যোগাযোগ হবে, সে প্রক্রিয়াটিও ক্রমাগত বদলে যেতে থাকে। পরিবর্তন বলছে রাজনীতিতে ‘মাঠ’ শব্দটি থাকবে, কিন্তু এটি দিয়ে এখন আর শুধু এ ভৌত মাঠটিকেই বোঝালে চলবে না, বোঝাতে হবে ডিজিটাল মাঠকেও। ডিজিটাল রাজনীতির গতিকে কয়েকগুণ ত্বরান্বিত করে দিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। ডিজিটাল মাধ্যমে ঘরে বসেও মানুষের সঙ্গে চমৎকার যোগাযোগ সম্ভব।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, ডিজিটাল

বাংলাদেশ এখন দেশের মানুষের কাছে আর নতুন কোন বিষয় নয়। শহরের মানুষ থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যন্ত সবাই কম বেশি এ সম্পর্কে জানেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের স্বপ্নের জগতটাই এখন ডিজিটাল।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর জনকণ্ঠকে জানান, একযুগ আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ করার অঙ্গীকার করেছেন তখন অনেকেই অবাক হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দেশকে ডিজিটাল করার কাজে সহযোগিতা করেন। আজ ১২ বছর

পর প্রমাণ হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ কাল্পনিক নয়, এটা বাস্তবতা। এ কারণে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ সবকিছু সচল রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির পর আওয়ামী লীগ পুরোদমে রাজনৈতিক কর্মসূচী চালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগকে দেখে অন্যান্য দলও ডিজিটাল রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে থাকে।

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নজিব আকবর বলেন, করোনা দেশের রাজনীতিকে ডিজিটাল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। পিডিপি নিয়মিত ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতায় গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার অঙ্গীকার করে। ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়।

তখন ডিজিটাল শব্দটা খুব বেশি পরিচিত ছিল না এদেশের মানুষের কাছে। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করে। তখন বিরোধী দল বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে। কিন্তু সরকার প্রধান শেখ হাসিনা হাল ছাড়েননি। এক এক করে বিভিন্ন সেক্টেরকে ডিজিটালাইজড করতে থাকেন। দেশকে ডিজিটাল করতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসাও অর্জন করেন আওয়ামী লীগ সরকার। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি অর্জন করে আওয়ামী লীগ সরকার। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবারও ক্ষমতায় এসে দেশকে অনেকাংশেই

ডিজিটালাইজড করে ফেলে এ সরকার। কিন্তু সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল হয়ে গেলেও করোনা শুরুর আগ পর্যন্ত ডিজিটাল বাংলাদেশে রাজনীতি কার্যত অ্যানালগই থেকে যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ কোন কোন দল মাঝে ডিজিটাল রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই অ্যানালগ পদ্ধতিতেই কর্মসূচী পালন করতে থাকে। কিন্তু করোনা শুরুর পর হঠাৎ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। ডিজিটাল রাজনীতি সময়ের দাবি। এক সময়ের সমালোচনাকারীরও এখন ডিজিটাল রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে। একযুগ পর হলেও তাদের আগের ধারণা পাল্টে যায়। তাই এটা বর্তমান সরকারের একটি বড় সফলতা বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীতে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক

উন্নয়নের অনেক বিষয়। সব রাজনৈতিক দলের কর্মকা- ও রাজনীতিকদের জীবনাচারসংক্রান্ত সব তথ্য উন্মুক্তভাবে জনগণের জন্য প্রকাশ করা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি অংশ। করোনা পরিস্থিতি রাজনীতিকেও ডিজিটাল করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাজনীতিকে জনগণ আরও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে। আর অ্যানালগ যুগ পেরিয়ে দেশ পুরোপুরি ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করবে। এর ফলে উন্নত দেশ গঠনের পথ মসৃণ হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT