ঢাকা, Wednesday 22 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রফতানি আয়ে আবারও হোচট

প্রকাশিত : 08:53 AM, 7 January 2021 Thursday
72 বার পঠিত

রাছেল রানা | বগুডা

করোনাভাইরাস মহামারীতে গত এপ্রিলে রপ্তানি আয় তলানিতে পৌঁছলেও এরপর ধীরে ধীরে বাড়ছিল, তবে ডিসেম্বরে এসে আবার হোঁচট খেয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে বিদায়ী বছরের শেষ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৩১ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

ডিসেম্বরের এই ধসের কারণে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সার্বিক রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অথচ মহামারীর মধ্যেও অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে ১ শতাংশের মতো

প্রবৃদ্ধি ছিল রপ্তানি আয়ে।

ইউরোপ-আমেরিকায় সংক্রমণের যে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে, তার প্রভাবেই রপ্তানি আয় হোঁচট খেয়েছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারক ও অর্থনীতি গবেষকরা।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে এসেছে। নতুন রপ্তানি আদেশ খুব বেশি আসছে না। যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। কবে নাগাদ এ অবস্থা কাটবে বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি খারাপই যাবে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি পারভেজ।

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই

কথা বলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে লকডাউনের কারণে বিক্রি না হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে আগের পণ্য মজুদ রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামীতে রপ্তানি আদেশ আরও কমবে বলে মনে হচ্ছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “ছয় মাসে দশমিক ৩৬ শতাংশ রপ্তানি আয় কমা খুব বেশি বিচলিত হওয়ার মতো বিষয় নয়। অর্থবছর শেষে যদি সামান্য প্রবৃদ্ধিও থাকে, সেটাকেই আমি বড় অর্জন বলে মনে করব।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথমার্ধে

(জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ১ হাজার ৯২৩ কোটি ৩৪ লাখ (১৯.২৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে।

এই ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৯৩০ কোটি ২১ লাখ ডলার।

সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৩১ কোটি ডলার আয় হয়েছে; লক্ষ্য ছিল ৩৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আয় হয়েছিল ৩৫২ কোটি ৯১ লাখ ডলার।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৫৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ শতাংশ

কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে কম ৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

তবে এই ছয় মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে। মোট আয় এসেছে ৮৫২ কোটি ৬১ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে উভেন পোশাক রপ্তানিতে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৭০১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৮২ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

করোনাভাইরাস মহামারীতে

বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায় গত এপ্রিলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় তলানিতে ঠেকেছিল; ওই মাসে সবিমিলিয়ে মাত্র ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল মাত্র ৩৬ কোটি ডলার।

বিধি-নিষেধ শিথিলে কারখানা খোলার পর মে মাসে রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়ে, জুনে তার চেয়ে অনেক বাড়ে। এরপর চলতি ২০২০২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও (জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর) সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ কমলেও নভেম্বরে দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছিল।

এই সঙ্কটেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি

হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় করেছিল, যা ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

মহামারীকালে ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। কৃষি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে দশমিক ১৮ শতাংশ। হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশের বেশি।

তবে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১৭ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।

করোনাভাইরাস

মহামারীর এই সময়ে চলতি অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮০০) মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ৪০ লাখ (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করে, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে আয় কম ছিল ২৬ শতাংশ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT