ঢাকা, Sunday 26 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

যুগান্তরকে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক চেয়ারম্যান পর্ষদ ঠিক থাকলে ভালো চলবে ব্যাংক

প্রকাশিত : 06:21 PM, 4 November 2020 Wednesday
263 বার পঠিত

রাছেল রানা | বগুডা

পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঠিক থাকলে ভালো চলবে ব্যাংক। এটি ঠিক রাখা কঠিন; কিন্তু অসম্ভব নয়। এ দিকটায় সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হবে বলে জানান বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন।

সম্প্রতি যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। আজ নতুন এই ব্যাংকটির লোগো উন্মোচন হবে। ২০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে লাইসেন্স পাওয়ার পর করোনায় লকডাউনের কারণে কার্যক্রম সামনে এগিয়ে নিতে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছি। তারপরও সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। এই মুহূর্তে লাইসেন্স পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এ ছাড়া ব্যাংকটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই

ঢাকা এবং চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন প্রতিষ্ঠিত এবং সুপরিচিত ব্যবসায়ী।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দিকে নজর দিচ্ছি। যেহেতু আমরাও ছোট তারাও ছোট। শিক্ষিত এবং উদ্যমী এমন অনেক ছেলেমেয়ে আছেন, যারা কিছু করতে চান; চোখে-মুখে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু অর্থের অভাবে অনেকের স্বপ্ন স্বপ্ন-ই থেকে যায়। বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক তাদের পাশে দাঁড়াতে চায়। আমরা নিজেরাও ছোট। তাই ছোট ছোট উদ্যোক্তার সঙ্গে কাজ করব। ছোটদের সঙ্গে বড় হতে চাই।

মূল কথা হল-রিটেইল ব্যাংকিং ও হাউস লোনে যেতে চাই। এরকম ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটাকে চালু করার ইচ্ছা। প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রধান কার্যালয় এবং

কর্পোরেট শাখা গুলশানে থাকবে। পাশাপাশি নিয়মানুযায়ী গ্রামে একটি শাখা উদ্বোধনের পরিকল্পনা চলছে। ডিসেম্বরের মধ্যে মতিঝিলে একটি শাখা খোলার ইচ্ছা আছে। কর্পোরেট ব্যবসা করব না-এটা বলা যাবে না। যাচাই-বাছাই করে বড় বিনিয়োগের দিকেও নজর দেয়া হবে।’

কর্মী নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেশ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দিয়েছি। এ ছাড়া স্মার্ট অভিজ্ঞ নীতিবান এবং সুচতুর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, তারাই ব্যবসাটা করবে, ব্যাংকটা চালাবে।’ ব্যাংকের সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেক প্রডাক্ট তৈরি করা হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : বেঙ্গল ফিক্সড ডিপোজিট, বেঙ্গল অ্যাডভান্স আর্নিং ডিপোজিট, বেঙ্গল মান্থলি আর্নিং ফিক্সড ডিপোজিট এবং বেঙ্গল ডাবল বেনিফিট ফিক্সড

ডিপোজিট। এ ছাড়া বেঙ্গল ডিপিএস, বেঙ্গল লাখোপতি ডিপিএস, বেঙ্গল মিলিয়নিয়ার ডিপিএস, বেঙ্গল অ্যাডভান্স মিলিয়নিয়ার, বেঙ্গল কোটিপতি ডিপিএস এবং বেঙ্গল প্রথমা ডিপিএস সেবা পাবেন গ্রাহকরা।

আরও রয়েছে বেঙ্গল কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল জেনারেল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল সুপ্রিম সেভিংস অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল এভারগ্রিন সেভিংস অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল স্কুল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল প্যারল অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল প্রথমা অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল ওয়েজ আর্নার্স অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল প্রবাসী সেভিংস অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল নবান্ন অ্যাকাউন্ট, বেঙ্গল এসএনডি অ্যাকাউন্ট ও বেঙ্গল এসএমই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট।

নতুনত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাংক সেবা নিয়ে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে চাই। গ্রাহককে যেন ব্যাংকে আসতে না হয়। কারণ, ইতোমধ্যে দেশে হোম ডেলিভারি চালু হয়ে গেছে।

সে সুযোগটা নিতে চাই। সে জন্য পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প নেই। এতে খরচও কম। দেশের কৃষি খাত অনেক উন্নতি করেছে। শিক্ষিত ছেলেরা কৃষি কাজে যোগ দিচ্ছেন।

ফলে নতুনত্ব আসছে কৃষিতে। এখন দেশে ড্রাগন চাষ হচ্ছে, ফলের চাষ হচ্ছে, বিশেষ করে বারোমাসি আমের চাষ। তাদেরকেই উদ্যোক্তা বানাতে চাই। যেসব এলাকায় পণ্যের কাঁচামাল উৎপাদন হয়, সেখানে গিয়ে বিনিয়োগ করতে চাই। এর মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব হবে। এটা আমাদের স্বপ্ন। একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে শুরুর দিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিক সময়ে সহযোগিতা পেলে সে দাঁড়াতে পারে। সে সময় আর্থিক সহযোগিতা করতে পারলে সারা জীবন ব্যাংকের প্রতি

কৃতজ্ঞ থাকবে গ্রাহক। সবাই বড় গ্রাহকের পেছনে ঘুরি। অবশ্যই বড় গ্রাহককে বিনিয়োগে খরচ কম, লাভ বেশি; তবে এখানে ঝুঁকিও অনেক। বর্তমান কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় সে ঝুঁকিতে যেতে পারব না।’

আগের নতুন ব্যাংকের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভালো করছে এবং কয়েকটি ঝরে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, যেসব ব্যাংকের উদ্যোক্তা ব্যাংক ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না এবং আইনকানুন মেনে ব্যাংক পরিচালনা করেছেন তারা ভালো করছে। বিপরীতে যেসব ব্যাংক খারাপ করেছে তারাও উদ্যোক্তাদের কারণেই খারাপ করেছে।

ব্যাংক ব্যবসায় উদ্যোক্তারাই ব্যাংকের প্রকৃত মালিক নন। এটা কোনো ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠান নয়, এটা জনগণের প্রতিষ্ঠান। কারণ,

ব্যাংক চলে জনগণের টাকা দিয়ে। উদ্যোক্তারা সামান্য টাকা দিয়ে শুধু ব্যাংক চালু করেন, পুরো টাকা দেন জনগণ। তাই ব্যাংকের প্রকৃত মালিকও জনগণ।

দেশে যেসব ব্যাংক ভালো আছে, সেটা তাদের ম্যানেজমেন্ট এবং উদ্যোক্তা ভালো থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে। এই জায়গায় আমাদের উদ্যোক্তারা কোনো সুযোগের অপব্যবহার করবেন না বলে আমরা আশাবাদী। পুরোপুরি পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়া হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে জসিম উদ্দিন বলেন, দেশে বর্তমানে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা তুলনামূলক কম। এটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য। তাই আমরা ছোট পরিসরে শুরু করব। ধীরে এগিয়ে যাব। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। এ ক্ষেত্রে আমরা সফল

হব।

কারণ, উদ্যোক্তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ব্যবসায়ী এবং সবাই কষ্ট করে ছোট থেকে বড় হচ্ছেন। আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই ছোট থেকে ব্যবসাকে বড় বানানো যায়। সুতরাং সে আস্থার জায়গাটা ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশ কিছু গ্রাহক আছেন যারা ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিপদে পড়ে, ব্যবসা পরিচালনা করতে না পেরে এবং নীতিমালা জটিলতায় খেলাপিতে পরিণত হন গ্রাহক। বর্তমানে করোনার কারণে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বিপদে রয়েছেন।

বর্তমানে বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, হাতে গোনা কয়েকজনের কাছে খেলাপির বেশিরভাগ টাকা আবদ্ধ। তাই আমরা আস্তে আস্তে বড় হতে চাই, একসঙ্গে নয়। তিনি বলেন,

আমাদের মূলধনের পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকা। সেখানে কোনো জায়গায় যদি ৫০ কোটি টাকার খেলাপি হয়ে পড়ে তাহলে অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সুতরাং এই জায়গায় সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে চাই।

তাছাড়া ছোট গ্রাহকরা কখনও টাকা নয়-ছয় করেন না। সময়মতো পরিশোধ করে দেন। দেশের সবচেয়ে বেশি লাভজনক গ্রাহক হল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। আমরা নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চাই। তারাও অনেক সচেতন।

এ ছাড়া দেশের অনেক বড় বড় কর্পোরেট গ্রুপ আছে, যারা কখনও ঋণখেলাপি হয় না। যেহেতু নতুন ব্যাংক, আমাদেরকে বুঝেশুনে সামনে এগোতে হবে।

যদিও নতুন ব্যাংকের প্রতি দেশের মানুষের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তারপরও নিজেদের ব্যবসার সুখ্যাতিকে ভিত্তি করে বড় বড় কর্পোরেট

প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও ব্যবসা করতে পারব।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT