ঢাকা, Tuesday 21 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

যমুনায় দ্রুত চর পড়ছে, ১৭ নৌরুট অবরুদ্ধ

প্রকাশিত : 09:17 AM, 3 January 2021 Sunday
50 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

একের পর এক চর জেগে উঠছে যমুনায়। খেয়াঘাট থাকছে না। খেয়া পারাপারে অচলায়তন। মাঝি মাল্লাদের অলস সময়। কেউ চলে যাচ্ছে ভিন্ন পেশায়। স্বজনদের বলে যাচ্ছে যমুনা ভরে উঠলে ফিরবে ঘাটে। যে ঘাটগুলো দিয়ে প্রতিদিন অন্তত সাড়ে ৩শ’ নৌকা যমুনার ঘাটে ভিড়ত সেখানে এখন নিধুয়া পাথার। খেয়া মাঝি গিরিশ বললেন ‘যেঙ্কা করে নদী শুকে যাচ্ছে মরা গাঙ হতে আর সময় লাগবি ন্যা (যে ভাবে নদী শুকানো শুরু করছে তাতে মরা নদীর খাতাত নাম লেখা লাগবি)।’

চলতি বছর শুকনো মৌসুমের শুরুতেই যমুনার পানি নিত্যদিন অস্বাভাবিক হারে কমে দ্রুত চর জেগে উঠছে। এক চর থেকে আরেক চরে পৌঁছতে ট্রানজিট

করতে হয়। দিনে দিনে রুদ্ধ হচ্ছে নৌপথ। যমুনায় জেগেছে অসংখ্য চর। ডুবোচরও পড়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। কোথাও চোরাবালি। নদী শুকিয়ে খেয়া পারাপার রুদ্ধ হয়ে গেলে দূরের চরগ্রামের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের মূল খেয়াঘাট কালীতলা পয়েন্ট দিয়ে অন্তত ২৪টি রুটে নৌ চলাচল করে। চর জেগে ওঠায় স্থানীয় ১৪টি রুট ও আঞ্চলিক ৩টিসহ মোট ১৭টি নৌ রুট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমের শুরুতে নৌ রুটগুলোর ৭টি কোন রকমে চালু আছে। এখন তাও আর নেই। মাঝি মাল্লারা বলছেন,যে হারে চর জাগছে খেয়া পারপারের দিন বুঝি আর থাকছে না। নৌ রুট রুদ্ধ হওয়ার সঙ্গে খেয়া

পারাপারকে ঘিরে খেয়া পয়েন্টে ছোট বাজারে পরিণত হয়ে যে ব্যবসা গড়ে উঠেছিল তাও বন্ধ হয়ে গেছে।

কেন এত চর জাগছে! অন্যতম কারণ হিসাবে বলা হয় নদীর নাব্যতা কমে সর্ব নিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। ঢলের পানি এসে পলি পড়ে নাব্যতাকে আরও খানিকটা কমিয়ে দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কথা- নদী ড্রেজিং করতে হবে। কেন ড্রেজিং হচ্ছে না, এর উত্তর বরাদ্দ নেই। তবে শীঘ্রই ড্রেজিং প্রক্রিয়া শুরু হবে। এমন খবর তারা পেয়েছেন। এলাকার মুরুব্বিগণ বলাবলি করেন, এভাবে চর জেগে উঠলে নিকট ভবিষ্যতে হেঁটেই যমুনা পার হওয়া যাবে। তার আলামত এখনই স্পষ্ট। চরের ওপর দিয়ে ঘোড়া ও গাধার গাড়িতে

করে লোকজন এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা যাচ্ছে। পণ্য পারাপার করছে এইসব গাড়ি। এই যানবাহনকে আধুনিক করে চরে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।

এক সূত্র জানায় গত কয়েক বছরে যমুনায় চর পড়েছে অন্তত ১৫শ’ বর্গকিলোমিটার। গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে যমুনার চর দৃশ্যমান বেশি। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি যমুনার চর। এইসব চরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। স্থানীয়রা জানান কাজলা, বোহাইল, চন্দনবাইশা, কর্নিবাড়ি, চালুয়াবাড়ি, কামালপুর ও হাটশেরপুর ইউনিয়নের মধ্যে প্রবাহিত যমুনায় অন্তত ৬৫টি চর পড়েছে। বগুড়া অংশের যমুনার ওপর দিয়ে সিরাজগঞ্জ গাইবান্ধা জামালপুরের লোকজন নৌকায় চলাচল করে। সারিয়াকান্দির সঙ্গে পাকুল্ল্যা, সোনাতলা, ধুনট, চন্দনবাইশা, কাজলা, বোহাইল,

বেনিপুর, মানিকদাইর, চালুয়াবাড়ি, হাসনারপাড়া, দীঘাপাড়া কামালপুর কর্নিবাড়ি নয়াপাড়া, মথুরাপাড়া, আওলাকান্দি, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, তারাকান্দি গাইবান্ধার ফুলছড়ি, বালাসী, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর রুটে সরাসরি নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এইসব এলাকায় পৌঁছাতে খেয়া পারপার হুমকির মুখে পড়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরের মানুষকে।

সারিয়াকান্দির কালীতলা ঘাটের কাছে বসবাসকারীরা বললেন, বছর কয়েক আগে যমুনার ভাটিতে রোহদহ ও চন্দবাইশা এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙ্গে যায়। নদীর গতিপথ পাল্টে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে নদীর উজানে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে জেগে ওঠে অসংখ্য ডুবোচর। দীঘলকান্দি, হাসনারপাড়া, দেলুয়াবাড়ি অন্তরেরপাড়া, কালীতলায় গ্রোয়েনের কাছে পানি দ্রুত কমে গিয়েছে। সহজে নৌকা ভিড়তে পারছে না। চরের মানুষের ভোগান্তির পালা

শুরু হয় শুকনো মৌসুমে। কিছুদিন আগেও কালীতলা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে মথুরাপাড়ায় নৌকা ভিড়ত। সেখানেও এখন ডুবোচর। ওই জায়গা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে কুতুবপুরের মাদারগঞ্জ ঘাটেও ডুবোচরের কারণে নৌকা ভিড়তে সমস্যা হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT