ঢাকা, Sunday 26 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ময়মনসিংহ পাওয়ার গ্রিডে অগ্নিকাণ্ড, চার জেলা অন্ধকারে

প্রকাশিত : 12:55 PM, 9 September 2020 Wednesday
82 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

নগরীর কেওয়াটখালি পাওয়ার গ্রীডে অগ্নিকাণ্ডের কারণে বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ-এই চার জেলায় বিদ্যুত সরবরাহে বিঘœ ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার সময় অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে বিদ্যুতের সরবরাহ। কতক্ষণ পর বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তাৎক্ষণিক জানাতে পারেনি গ্রীডের স্থানীয় কর্মকর্তারা। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন গ্রীডসহ বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তারা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় উপ-পরিচালক আবুল হোসেন জানান, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুনে কেওয়াটখালি পাওয়ার গ্রীডের পাওয়ার ট্রান্সফরমার, ৩৩ কেভি সার্কিট ব্রেকার, কারেন্ট ট্রান্সফরমার-সিটি, আইসোলেটর, কন্ট্রোল সার্কিট

সিস্টেমসসহ প্যানেল বোর্ড পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি-পিজিসিবি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। জেলা প্রশাসনও আলাদা তদন্ত কমিটি করেছে। এই অগ্নিকা-ের ফলে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হন নগরবাসীসহ বিদ্যুতের গ্রাহকরা। ঘটনার সময় কেওয়াটখালি গ্রীডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান কর্মস্থলে ছিলেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাজাহান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও পিডিবির উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পিজিসিবির ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালির পাওয়ার গ্রীডে

আগুন ধরে যায়। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কালো ধোঁয়ার কু-লীতে ঢাকা পড়ে যায় পুরো গ্রীড। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মূল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ফোমের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি ব্যবহার করে আগুন দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্যরা জানায়, পশ্চিমপাশের সাব স্টেশন থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের মূল পাওয়ার গ্রীডে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় গ্রীডের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার পুড়ে যায় এবং এর পাশের আরেকটি পাওয়ার ট্রান্সফরমারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী সূত্র জানায়, গ্রীডের ভেতর ৩৩ কেভি

সাব স্টেশন থেকে আগুন পাশের ১ লাখ ৩৩ হাজার কেভি গ্রীডে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সাব স্টেশনের ৩৩ কেভি সার্কিট ব্রেকার বিস্ফোরিত হয়ে পাশের পাওয়ার ট্রান্সফরমারের ওপর এসে আছড়ে পড়লে তাতে আগুন ধরে যায়। ধারণা থেকে বলা হয়, পাওয়ার ট্রান্সফরমারের কন্ট্রোল সার্কিটে এ সময় শর্টসার্কিট হয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সাব স্টেশনের ৩৩ কেভি সার্কিট ব্রেকার, সিটি, আইসোলেটর, কন্ট্রোল সিস্টেম, কন্ট্রোল সার্কিটসহ প্যানেল বোর্ড শর্টসার্কিট হয়ে পুড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের একটি সূত্র জানায়, ১ লাখ ৩৩ কেভি গ্রীড লাইনের বিদ্যুত পাওয়ার ট্রান্সফরমার হয়ে ৩৩ কেভি সাব স্টেশনে সঞ্চালনের সময় ডিসি সিস্টেম ফেল করায় আগুন

ধরে যায়। ময়মনসিংহ বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকা-ের ফলে দুপুর ১টা থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ এই চার জেলায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিকেল ৫টার পর শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনায় সরবরাহ সচল করা হয়। তবে ময়মনসিংহ স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে বলে জানান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পিজিসিবির পাশাপাশি বিদ্যুত বিভাগ কাজ করছে। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির কবলে পড়েন গ্রাহকরা। এ সময় নগরবাসীসহ বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি ছিল অসহনীয়। বিশেষ করে পানি সঙ্কটে নগরীর

বহুতল ভবনের বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েন।

তদন্ত কমিটি ॥ কেওয়াটখালি গ্রীডে মঙ্গলবারের অগ্নিকা-ের ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও পিজিসিবির পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটিতে আছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন শাহজাহান মিয়া, পিডিবির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ও পিজিসিবির স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান। কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া পিজিসিবির ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ঘটনা স্থল পরিদর্শনসহ অগ্নিকা-ের কারণ খতিয়ে দেখছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি ॥ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার পর থেকে নেত্রকোনা,

শেরপুর ও জামালপুরে বিদ্যুত সরবরাহ দেয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে পিজিসিবির স্থানীয় কর্মকর্তারা। ময়মনসিংহে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT